রাত ১২:৫৮ বুধবার ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

ব্রেকিং নিউজ:

কুমিল্লা দেবিদ্বারে ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ। | কুমিল্লা সদরে ডিবি পুলিশের অভিযানে অস্ত্র ও ৫ শত পিছ ইয়াবাসহ এক এক যুবক। | সিলেট চেম্বারের পরিচালনা পরিষদের ২০১৯-২০২১ সাল মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত | কুমিল্লা সদর দক্ষিণে যাত্রীবাহি বাসচাপায় ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত। | মাধবপুরে দুই কেজি গাঁজা সহ ২ মাদক পাচারকারী আটক | ছেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাইলেন ক্রিকেটার রুবেল | পুত্র সন্তানের বাবা হলেন রুবেল, মা-ছেলে দুজনেই সুস্থ আছেন | মাদক চোরাকারবারীদের ফাঁদে পরে, বিলিনের পথে মাধবপুরের চা শিল্প! | কুমিল্লা সদরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই ষ্কুল শিক্ষার্থী নিহত। আহত-৩ | কুমিল্লায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৫ হাজার পিছ ইয়াবাসহ সাংবাদিক শামীম আটক। |

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ফাইল প্রধানমন্ত্রীর কাছে: বিএনপি

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : April 28, 2018 , 9:37 am
ক্যাটাগরি : রাজনীতি
পোস্টটি শেয়ার করুন

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত ফাইল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পড়ে আছে। তিনি এখন পর্যন্ত এবিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। এই সিদ্ধান্তহীনতার কারণে চিকিৎসার অভাবে প্রতিনিয়ত বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বেগম জিয়ার স্বাস্থ্যের ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। এই বিষয়টা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বার বার বলছি। আমরা উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পর্যন্ত পাঠিয়েছিলাম। সেখানে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বিষয়টি বুঝেছেন যে, উনার (খালেদা জিয়া) বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে এবং একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন। এজন্য তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) সঙ্গে সঙ্গেই কারা মহাপরিদর্শককে (আইজি প্রিজনস) ডেকে নিয়ে এসেছিলেন। এসময় তিনি তাকে বলেছিলেন- চিকিৎসার জন্য যা যা করা দরকার করুন।

‘আমরা শুনেছি তিনি (আইজি প্রিজনস) পরে বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে যেন চিকিৎসা দেয়া হয় এমন সুপারিশ করেছেন। সেই ফাইল প্রধানমন্ত্রীর কাছে পড়ে আছে। এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এই সিদ্ধান্তহীনতার কারণে প্রতিনিয়ত বেগম জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে’ যোগ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘আগে তিনি (খালেদা জিয়া) সিঁড়ি দিয়ে নেমে এসে আমাদের সঙ্গে দেখা করতে পারতেন। কিন্তু এখন তার অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ার কারণে তিনি আর নামতে পারছেন না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বার বার বলছি- বেগম জিয়ার অন্তত চিকিৎসাটা যেন করানো হয়। কিন্তু কতটা ভয়ঙ্কর হলে জেলখানায় তার চিকিৎসাটা পর্যন্ত করা হচ্ছে না। বেগম জিয়ার চিকিৎসা না করানোর পেছনে একটা নীলনকশা রয়েছে।’

চিকিৎসার অভাবে বিএনপি চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্যের আরো অবনতি হলে এর দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দলের মহাসচিব।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, চেয়ারপারসনের চিকিৎসার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম। তিনি আইজি প্রিজনসকে ডেকে এনে চিকিৎসার বিষয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু কোনো অগ্রগতি নাই।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘সরকার যে উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়েছে সে উদ্দেশ্য শেষ হয়নি। তারা চান বেগম জিয়ার আরো ক্ষতি। সেজন্যই তাকে চিকিৎসা দিচ্ছে না। তার চিকিৎসায় একদিন বিলম্ব হলেও তিনি দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন, পঙ্গু হয়ে যেতে পারেন।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. ওয়াহেদুর রহমান বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ঘাড়ের হাড়গুলো ক্ষয় হয়ে নার্ভগুলো ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে। এতে তিনি বাম হাতে প্রচণ্ড ব্যথা পাচ্ছেন বলে শুনছি। এছাড়া বাম হাতে শক্তি কমে যাচ্ছে। ফলে ওই হাত দিয়ে তিনি কিছুই ধরে রাখতে পারছেন না।’

‘কারাগারের ওরকম পরিবেশে রাখার কারণে খালেদা জিয়ার কোমরের স্পাইনাল কর্ড নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কোমরের হাড় ক্ষয়ে যাচ্ছে। এতে তার পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে’ যোগ করেন তিনি।

চক্ষু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. আবদুল কুদ্দুস বলেন, ২০১৫ ও ২০১৭ বেগম জিয়ার চোখের অপারেশন করা হয়েছে, তার চোখের পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। যদি চোখের সুচিকিৎসা না করা হয় তাহলে তার চোখের কর্নিয়া স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে তিনি অন্ধ হয়ে যেতে পারেন।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।