সন্ধ্যা ৭:২৫ বুধবার ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

ব্রেকিং নিউজ:

কুমিল্লা দেবিদ্বারে ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ। | কুমিল্লা সদরে ডিবি পুলিশের অভিযানে অস্ত্র ও ৫ শত পিছ ইয়াবাসহ এক এক যুবক। | সিলেট চেম্বারের পরিচালনা পরিষদের ২০১৯-২০২১ সাল মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত | কুমিল্লা সদর দক্ষিণে যাত্রীবাহি বাসচাপায় ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত। | মাধবপুরে দুই কেজি গাঁজা সহ ২ মাদক পাচারকারী আটক | ছেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাইলেন ক্রিকেটার রুবেল | পুত্র সন্তানের বাবা হলেন রুবেল, মা-ছেলে দুজনেই সুস্থ আছেন | মাদক চোরাকারবারীদের ফাঁদে পরে, বিলিনের পথে মাধবপুরের চা শিল্প! | কুমিল্লা সদরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই ষ্কুল শিক্ষার্থী নিহত। আহত-৩ | কুমিল্লায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৫ হাজার পিছ ইয়াবাসহ সাংবাদিক শামীম আটক। |

বাদল রায়ের স্ত্রীর করা অভিযোগের জবাব দিলেন সোহাগ

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : June 3, 2018 , 7:29 am
ক্যাটাগরি : খেলাধুলা
পোস্টটি শেয়ার করুন

বাদল রায়ের স্ত্রীর করা অভিযোগে হতভম্ব ও বিস্মিত বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ। বাদল রায়ের স্ত্রীর অভিযোগের লিখিত জবাব দিয়েছেন তিনি। যেভাবে সহজ ঘটনাটা জটিল কর হয়েছে তাতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সোহাগ। ওদিকে পুরো ঘটনাকে নতুন নাটক ও ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন বাফুফে প্রেসিডেন্ট কাজী সালাহউদ্দিন। ফুটবল সংশ্লিষ্টদের অনেকেই বাদল রায়ের স্ত্রীর করা জিডিকে ‘হাস্যকর’ মনে করছেন।

সম্প্রতি বাদল রাযের পক্ষে বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগের বিপক্ষে অভিযোগ এনে থানায় জিডি করেন তার স্ত্রী মাধুরী রায়।জিডিতে তিনি স্বামীর নিরাপত্তা চান। অথচ বাদল রায়কে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়নি জিডিতে।

বাদল রায় সাবেক ফুটবলার ও বাফুফের বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি। গত বছর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়।এবং মাথায় জটিল অস্ত্রপচার করা হয়। এখনও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি।

গত ২৬ মে ওয়ারী থানায় করা ওই জিডিটিতে বাদল রায়ের স্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘মার্চের ২৬ তারিখ বেলা ৩টায় আবু নাঈম সোহাগ মোবাইল ফোনে আমাকে হুমকির স্বরে বলেন, বাদল রায় যেন ফেডারেশনে না আসেন। আমি কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, তিনি যদি আসেনও, তাহলে এসে এক চা খেয়ে চলে যাবেন, এর বেশি নয়। আমার স্বামী তিন তিনবারের ফুটবলে ফেডারেশনের নির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় এ ধরনের ফোন আমার কাছে হুমকি ও বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের আভাস বলে মনে হয়। তাই আমার স্বামীর সম্মান ও জীবনের ব্যাপারে আতঙ্কে আছি।’

মাধুরী রাযের অভিযোগ নিয়ে গত ৩১ মে কিছু মিডিয়া প্রতিবেদক প্রকাশ করে। ওই সময় বাফুফে সাধারণ সম্পাদক দেশের বাইরে থাকায় তিনি এ ব্যাপারে তাঁর প্রতিক্রিয় পাওয়া যায়নি। দেশে ফিরে এ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সোহাগ। বাদল রায়ের স্বাস্থ্যের ব্যাপারটা মাথায় রেখেই তাকে উত্তেজিত না হওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন বলে দাবি করেন সোহাগ।

লিখিত বক্তব্যে সোহাগ বলেন,‘গত বছরখানিক আগে জনাব বাদল রায়ের ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাওয়া এবং সেখানে থাকাকালীন সময়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রায় প্রতিদিনই তার স্ত্রী মাধুরী রায় এর সাথে বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ করেছি, খোঁজখবর নিয়েছি, তাঁর মেয়ের অস্ট্রেলিয়া হতে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার বিষয়ে ভিসা, টিকেট সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করেছি, মাধুরী রায় বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিনিয়ত আমাকে অবহিত করেছেন। এমনকি আমি নিজ খরচে জনাব বাদল রায়কে দেখতে সিঙ্গাপুরে যাই। এমনও হয়েছে মাধুরী রায় জনাব বাদল রায়কে ফোনে না পেয়ে আমাকে তার অবস্থান জানানোর অনুরোধ করেন এবং আমি তাৎক্ষনিক খোঁজ নিয়ে তা মাধুরী রায়কে অবহিত করি।’

‘সামগ্রীকভাবে জনাব বাদল রায়ের একজন কাছের মানুষ হিসেবে আমার অধিকার গড়ে উঠেছিল বলে আমি মনে করেছি এবং সেই অধিকারবোধ থেকেই আমি মাধুরী রায়কে গত ২৬ মার্চ ২০১৮ তারিখ ফোন করে জনাব বাদল রায় সম্পর্কে আমার উদ্বেগের কথা জানাই।’

বাদল রায়ের বর্তমান শারীরিক অবস্থাও ততটা ভালো নয়। এখনও তার চলাফেরা করতে সমস্যা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কাজে মন দেওয়ার মতো তিনি ফিট নন। জটিল অস্ত্রোপচার হওয়ার কারণে তাঁর সদা সতকর্তা অবলম্বন করা উচিৎ বলে মনে করছেন তারা।

আবু নাঈম সোহাগ বলেন,‘গত ২২ অথবা ২৩ মার্চ ২০১৮ বাফুফে সহ-সভাপতি জনাব বাদল রায় এর সাথে বাফুফে ভবনে তার রুমে দাপ্তরিক বিভিন্ন বিষয়ে আলাপকালে হঠাৎ তিনি অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে উঠেন, একপর্যায়ে টেবিলের উপরে রাখা ফোন সেট ফেলে দেন। পার্শ্বে যে পানির গ্লাস ছিল তাও ফেলে দেন এবং উ”চস্বরে কথা বলতে থাকেন এবং কাঁপতে থাকেন। আমি তাকে উত্তেজনা প্রশমনের জন্য বারবার অনুরোধ জানাই, শান্ত হতে বলি এবং এটা তার স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকারক বলে একাধিকবার উল্লেখ করি। এর দিন দুয়েক পূর্বেও আমি আমার রুমে দাপ্তরিক কাজ সম্পাদনকালীন শুনতে পাই জনাব বাদল রায় তার রুমে ১জন পিয়নকে উ”চস্বরে তিরস্কার করছেন। সামগ্রিক বিবেচনায় জনাব বাদল রায় এর শারীরিক অসু¯’তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে হঠাৎ হঠাৎ এরূপ উত্তেজিত হওয়া তাঁর নিজের জন্য ক্ষতিকারক হওয়ায় আমি তার স্ত্রী মাধুরী রায়কে ফোনে ঘটনাটি জানাই। একইসঙ্গে এ অবস্থায় কাজের চেয়ে শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখা অতীব গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে জনাব বাদল রায়কে বুঝাতে বলি। সে সময় ডেভেলপমেন্ট কমিটির বিভিন্ন কর্মকান্ডে জনাব বাদল রায় মানসিকভাবে পরিপূর্ণভাবে কাজ করতে চাইলেও তিনি শারীরিকভাবে সক্ষম ছিলেন না বলে আমার মনে হয়েছে।’