রাত ১১:০৭ রবিবার ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

ব্রেকিং নিউজ:

কুমিল্লা দেবিদ্বারে ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ। | কুমিল্লা সদরে ডিবি পুলিশের অভিযানে অস্ত্র ও ৫ শত পিছ ইয়াবাসহ এক এক যুবক। | সিলেট চেম্বারের পরিচালনা পরিষদের ২০১৯-২০২১ সাল মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত | কুমিল্লা সদর দক্ষিণে যাত্রীবাহি বাসচাপায় ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত। | মাধবপুরে দুই কেজি গাঁজা সহ ২ মাদক পাচারকারী আটক | ছেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাইলেন ক্রিকেটার রুবেল | পুত্র সন্তানের বাবা হলেন রুবেল, মা-ছেলে দুজনেই সুস্থ আছেন | মাদক চোরাকারবারীদের ফাঁদে পরে, বিলিনের পথে মাধবপুরের চা শিল্প! | কুমিল্লা সদরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই ষ্কুল শিক্ষার্থী নিহত। আহত-৩ | কুমিল্লায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৫ হাজার পিছ ইয়াবাসহ সাংবাদিক শামীম আটক। |

আনুষ্ঠানিক অভিযোগের অপেক্ষায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : June 2, 2018 , 10:25 am
ক্যাটাগরি : জাতীয়
পোস্টটি শেয়ার করুন

কক্সবাজারের টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হককে বন্দুকযুদ্ধের নামে গুলি করে হত্যার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এলেই কেবল এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হবে। বলেন, ‘আমরা এটা নিয়ে চেক করব কোনো ভুল হয়েছে কি না।’

একরামুলের স্ত্রী আয়েশা আক্তার যে মোবাইল ফোনের কথোপকথন গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করেছেন, সেটি বন্দুকযুদ্ধের বিষয়ে র‌্যাবের দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। ওই অডিও রেকর্ডে এটা স্পষ্ট যে পুরুষ কণ্ঠের একজন মানুষকে ‘কুত্তার বাচ্চা’, ‘শুয়রের বাচ্চা’ গালি গিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

এটি একরামুল হত্যার ঘটনার অডিও রেকর্ড, বলছেন তার স্ত্রী। আর বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর শুরু হয়েছে তুমুল সমালোচনা। উঠেছে বিচারের দাবি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এই অডিও প্রকাশের পর শুক্রবারই বলেছিলেন, তদন্ত হবে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। পরদিন শনিবার সকালে নিজ বাসভবনে আবার গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হন মন্ত্রী। পুনরুল্লেখ করেন আগের কথাই।

গত ২৬ মে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন একরামুল। তাকে ইয়াবা চক্রের নিয়ন্ত্রক দাবি করেছে র‌্যাব। কিন্তু এই দাবি প্রশ্নের মুখে পড়ে তার হত্যার পর। একরামুলের বিরুদ্ধে মাদকের কোনো মামলা নেই। তার আর্থিক অবস্থায় র‌্যাবের দাবিকে নাকচ করে।
এরপর প্রকাশ হয় অডিও রেকর্ড। আর এরপর ১৪ বছর ধরে চলা ক্রসফায়ার আর বন্দুকযুদ্ধের বর্ণনা নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়ে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যে অডিওটার কথা বলছেন, সেই অডিওটা আমাদের কাছে অফিসিয়ালি কিন্তু আসেনি। কাজেই আমাদের কাছে অফিসিয়ালি আসুক। এই পর্যন্ত কেউ অফিসিয়ালি এই ঘটনাটির তথ্য আমাদের কাছে দেয়নি। আমাদের কাছে আসলে এটা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে যা করণীয় আমরা সে কাজটি করব।’

আনুষ্ঠানিকভাবে কারা এই অভিযোগ দেবে-জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘কোনো একটা ঘটনা ঘটলে আমাদের কাছে আসে। যে ভিটকিম, সেও দিতে পারত, দেয়নি।’

‘এটা নিয়ে আসবে তো, আসলে পরে আমাদের এসবি দেখবে, এনএসআই দেখবে, ডিজিএফআই দেখবে।’

একরামুলের স্ত্রী-সন্তান ৩১ মে কক্সবাজারে সংবাদ সম্মেলন করে ওই অডিও প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তারা কেউ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি বলে এক প্রশ্নের জবাবে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

‘আমি প্রথমেই বলেছি, এটা অফিসিয়ালি আমাদের কাছে আসে নাই। অফিসিয়ালি যখন আসবে আপনারা যেটা বলেছেন, আমরা সেটা দেখব।’

অভিযোগ পাওয়ার পর প্রক্রিয়া কী হবে, সেটাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, ‘এটা নিয়ে একজন ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত করবে। ম্যাজিস্ট্রেটের তদন্ত অনুযায়ী তিনি যদি কোনো রকম অসঙ্গতি খুঁজে পান বা তার রিপোর্ট যদি তিনি কোনো অসঙ্গতি বা প্রলুব্ধ হয়ে কাজটি করেছে বলে মনে করেন, তাহলে তার রিপোর্ট অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।’

ম্যাজিস্ট্রেট কত দিনের মধ্যে তদন্ত করবেন?- এমন প্রশ্নে মন্ত্রীর জবাব আসে, ‘এক মাস।’

মন্ত্রী বলেন, ‘স্বপ্রণোদিত কিংবা উদ্দেশ্যমূলকভাবে যদি কেউ কিছু করে থাকে তাহলে তার বিচার হবে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, রিপিট করতে চাই কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে কাউকে ছাড় দেন না, এটাও আপনারা দেখেছেন।’

‘আমরা আগেও রিপিট করেছি, আবার রিপিট করছি, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইন অনুযায়ী যদি কেউ ইচ্ছাপূর্বক বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে কিংবা প্রলুব্ধ হয়ে এই ঘটনাটি ঘটিয়ে থাকে তার বিরুদ্ধে আমরা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’

অভিযান চলবে

এই ঘটনাটি অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে কি না- এমন প্রশ্নও রাখা হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। এর সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, ‘মাদকবিরোধী অভিযান চলবে।’

‘কারণ, আমাদের দেশ কী রকম ইফেকটেড হচ্ছে, আমাদের মেধা হারিয়ে যাবে আমাদের যুব সমাজের পথ হারিয়ে ফেলবে, সেই জায়গাটিতে দেশের সর্বস্তরের মানুষ এই অভিযানটিকে স্বাগত জানিয়েছে।’

‘আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরাও সেই জিনিসটা উপলব্ধি করছেন। আমরা কোথায় হারিয়ে যাচ্ছিলাম এবং আমাদের জনগণ কীভাবে এই মাদকবিরোধী অভিযানের জন্য আমাদেরকে স্বাগত জানাচ্ছে এবং আমাদেরকে এটা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছে সেটা আপনারা দেখেছেন।’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কেবল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকা নয়, অভিযান শুরুর আগে যৌথ তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

‘বিভিন্ন সংস্থা, সেই লিস্ট অনুযায়ী যাদের নাম তালিকায় এসেছে, অভিযানটা হলো আমরা তাদেরকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।’

‘যারা আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর ডাকে সাড়া দিচ্ছেন তাদেরকে মোবাইল কোর্ট কিংবা রেগুলার আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। এবং যারা প্রমাণ হচ্ছে নিরপরাধ তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। তারা চলে যাচ্ছে।’

অভিযানে ১৩ হাজার আটক হয়েছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কেউ মোবাইল কোর্টের মাধ্যকে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে অন্তরীণ হয়েছেন, কেউ বা বিচারিক আদালতে তারা বিচারের জন্য হাজতবাসী হয়েছেন।’

এই মুহূর্তে দেশে বন্দির সংখ্যা ৮৫ হাজারের মতো এবং এর ৩৩ থেকে ৩৫ শতাংশ মাদকের সংশ্লিষ্ট বলেও জানান মন্ত্রী।