বিকাল ৪:২০ বৃহস্পতিবার ৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

ব্রেকিং নিউজ:

কুমিল্লা দেবিদ্বারে ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ। | কুমিল্লা সদরে ডিবি পুলিশের অভিযানে অস্ত্র ও ৫ শত পিছ ইয়াবাসহ এক এক যুবক। | সিলেট চেম্বারের পরিচালনা পরিষদের ২০১৯-২০২১ সাল মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত | কুমিল্লা সদর দক্ষিণে যাত্রীবাহি বাসচাপায় ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত। | মাধবপুরে দুই কেজি গাঁজা সহ ২ মাদক পাচারকারী আটক | ছেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাইলেন ক্রিকেটার রুবেল | পুত্র সন্তানের বাবা হলেন রুবেল, মা-ছেলে দুজনেই সুস্থ আছেন | মাদক চোরাকারবারীদের ফাঁদে পরে, বিলিনের পথে মাধবপুরের চা শিল্প! | কুমিল্লা সদরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই ষ্কুল শিক্ষার্থী নিহত। আহত-৩ | কুমিল্লায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৫ হাজার পিছ ইয়াবাসহ সাংবাদিক শামীম আটক। |

এবার ফাইনালের ফল পাল্টে দিতে চাই : মেসি

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : June 1, 2018 , 10:33 am
ক্যাটাগরি : খেলাধুলা
পোস্টটি শেয়ার করুন

২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনাল। মারাকানা তৈরি চ্যাম্পিয়নকে বরণ করতে। মঞ্চের পাশেই রাখা কাপ। তিনি উঠলেন। নেমেও গেলেন। ছোঁয়া হল না কাপটা। দুবার কোপার ফাইনালে উঠেও হার! মন ভাঙার হ্যাটট্রিক! অবসর নিলেন। ফিরলেনও। আর্জেন্টিনার জন্য। বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচে ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক। তাতেই রাশিয়ার ছাড়পত্র। এই মেসির দিকেই তাকিয়ে আর্জেন্টিনা। কি বললেন মেসি?

পরাজয় এখনও কি কষ্ট দেয়?

মেসি: হ্যাঁ, ওটা দগদগে ক্ষত। তাই থাকবে। স্বপ্নের এত কাছাকাছি পৌঁছে গেছিলাম। তাও পারিনি! কিন্তু এটাই তো ফুটবল। সেরা দল সবসময় জিততে পারে না। আমরা সেটা মেনেছি। সামনের দিকে তাকিয়েছি। তবে সেদিন খুব কেঁদেছিলাম। আর পাঁচজন আর্জেন্টিনীয়র মতোই। বিশ্বাস করুন, যন্ত্রণা এখনও হয়।

সামনে আবার একটা বিশ্বকাপ। আকাশচুম্বী প্রত্যাশা। কী বলবেন?

মেসি: আমরা সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আর্জেন্টিনার হয়ে এখনও কিছু জিততে পারিনি। ১৯৮৬–র পর আমরা বিশ্বকাপ জিতিনি। তাই প্রত্যাশা থাকতেই পারে। এতে ভুল কিছু নেই। সব আর্জেন্টিনীয়র মতোই আমি চাই বিশ্বকাপটা হাতে নিতে। দেশকে কাপটা দিতে।

২০১৮তে কি আর্জেন্টিনা সেটা পারবে?

মেসি: আমার স্বপ্ন সেটাই। ফাইনালে খেলা আর কাপটা হাতে নেওয়া। বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার পথ খুব কঠিন। কতটা কঠিন ২০১৪–তে অভিজ্ঞতা হয়েছে। এবারও সেই লক্ষ্যেই এগোব। তবে এবার ফাইনালের রেজাল্টটা বদলে ফেলতে চাই। হয়ত আমাদের প্রজন্মের আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের এটাই শেষ সুযোগ কাপটা হাতে নেওয়ার।

দেশের স্বপ্নপূরণের চাপটা কি ভয়ঙ্কর লাগে?

মেসি: না, তেমন কিছু মনে হয় না। আপনি যদি আর্জেন্টিনীয় হন আর ফুটবল ভালবাসেন, তা হলে ফুটবলের সবচেয়ে বড় পুরস্কারটা অবশ্যই পেতে চাইবেন। এতে কোথাও কোনও ভুল নেই। আমি তো এভাবেই ভাবি। জানি বিশ্বকাপ জেতা কত বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আমরা সবাই সেই চ্যালেঞ্জটা নিতে চাই। হ্যাঁ, আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দরকার। আর চাই যখন, তখন স্বপ্নপূরণের চাপ তো থাকবেই।

যখনই বড় আসরে আর্জেন্টিনা হেরেছে, দেশের প্রচারমাধ্যম কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।এই ধরনের সমালোচনা কতখানি কষ্ট দেয়?

মেসি: কষ্ট তো হয়ই। তবে বুঝতে হবে, আর্জেন্টিনার প্রচারমাধ্যমও এই কাজটা করছে একইরকম যন্ত্রণা থেকে। ওরাও আমাদের মতো ক্ষত–বিক্ষত। আর্জেন্টিনা ফুটবল পাগল দেশ। তাই সে দেশের প্রচারমাধ্যমের এই আচরণ স্বাভাবিক। তিনটে ফাইনালে উঠেও ট্রফি জিততে না পারা! আমাদের কাছে এটা ব্যর্থতা। কারণ আমাদের দেশে দ্বিতীয়দের কোনও জায়গা নেই।

এবার আর্জেন্টিনা আছে কঠিন গ্রুপে। আইসল্যান্ড, নাইজেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া রয়েছে সঙ্গে। কী ভাবছেন?

মেসি: সেরা টুর্নামেন্টে সেরা দলের সঙ্গে লড়তে গেলে সেরাটাই দিতে হয়। প্রত্যেক বিপক্ষ অস্বস্তিকর, কঠিন প্রশ্নের মুখে ফেলবে বলে তৈরি। তাই সব রকম প্রশ্ন, সব পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে হবে। বিশ্বকাপে কোনও কিছুই সহজ নয়। দেশের হয়ে বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায় সেরারা। তাই এখানে সব ম্যাচই কঠিন। তবে আমরা তৈরি।

মেসি: ফুটবল মানচিত্রের বড় দেশগুলো প্রত্যেকেই ফেবারিট। গতবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি সব চেষ্টা করবে ট্রফিটা ধরে রাখতে। স্পেন দুর্দান্ত দল। যোগ্যতা পর্বে ব্রাজিল, পর্তুগাল, ফ্রান্স দারুণ খেলেছে।

রাশিয়া বিশ্বকাপে ইতালি, হল্যান্ডের মতো দল নেই! অবাক হয়েছেন?

মেসি: এই তথ্যটাই প্রমাণ করে, বিশ্বকাপ ঠিক কতটা কঠিন। বিশ্বকাপে ইতালি নেই, এ তো ভাবাই যায় না! ব্রাজিল বিশ্বকাপে হল্যান্ড সেমিফাইনালে খেলেছিল। ওদের হারিয়েই তো আমরা গতবার ফাইনালে উঠেছিলাম। রাশিয়া আজুরিদের মিস করবে। ঠিক তেমনই মিস করবে কমলা–ঝড়। আসলে হল্যান্ডের অনুরাগীরা আবহ রঙিন করে তুলতে ওস্তাদ।

রাশিয়ার টিকিট জোগাড় করতে সমস্যায় পড়েছিল আর্জেন্টিনা। ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে আপনি হ্যাটট্রিক না করলে তো পথটা পরিষ্কার হত না।

মেসি: যোগ্যতা অর্জন পর্বের শেষ ম্যাচটায় আমাদের জিততেই হত। কারণ ওই ম্যাচে শুরুতে আমরা পিছিয়ে পড়েছিলাম। তবে পরে সব পরিকল্পনা মতোই এগিয়েছিল। আমিও গোলগুলো করতে পেরেছিলাম। লক্ষ্য ছুঁতে অসুবিধে হয়নি। আসলে আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আরও একবার বিশ্বকাপে খেলতে চেয়েছি। এটাই তো ফুটবলের সর্বোচ্চ টুর্নামেন্ট। তাই সেদিন বিশ্বকাপের টিকিট জোগাড় করার পর খুব আনন্দ পেয়েছিলাম। প্লে অফের টেনশন পর্ব পেরোতে হয়নি।

বিশ্বকাপের ড্রয়ের পর ক্রোয়েশিয়া আর আর্জেন্টিনা যখন একই গ্রুপে পড়ল, তারপর ইভান রাকিটিচ কি আপনাকে কিছু বলেছেন?

মেসি: না, সেরকম কিছু বলেনি। ইভান খুব ভাল প্লেয়ার। দলের একনিষ্ঠ সদস্য। ও প্রচণ্ড লড়াকু। জানি, আমি যেভাবে খেলতে ভালবাসি, ইভান কিছুতেই সেটা হতে দেবে না। লুকা মডরিচ ওর যোগ্য সঙ্গী। তবে একটা কথা জানিয়ে রাখি, আমাদের পক্ষ থেকেও কিন্তু একইরকম বাধা ওদের জন্য অপেক্ষা করছে। হ্যাঁ, বার্সিলোনার হয়ে খেলার সময় ইভানের সঙ্গে মাঝে মাঝে রসিকতা করি। কখনও আবার ম্যাচ নিয়ে কথা বলি। তবে এর থেকে বেশি কিছু আলোচনা আমাদের মধ্যে হয় না।