রাত ১০:৫৪ শুক্রবার ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

ব্রেকিং নিউজ:

কুমিল্লা দেবিদ্বারে ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ। | কুমিল্লা সদরে ডিবি পুলিশের অভিযানে অস্ত্র ও ৫ শত পিছ ইয়াবাসহ এক এক যুবক। | সিলেট চেম্বারের পরিচালনা পরিষদের ২০১৯-২০২১ সাল মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত | কুমিল্লা সদর দক্ষিণে যাত্রীবাহি বাসচাপায় ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত। | মাধবপুরে দুই কেজি গাঁজা সহ ২ মাদক পাচারকারী আটক | ছেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাইলেন ক্রিকেটার রুবেল | পুত্র সন্তানের বাবা হলেন রুবেল, মা-ছেলে দুজনেই সুস্থ আছেন | মাদক চোরাকারবারীদের ফাঁদে পরে, বিলিনের পথে মাধবপুরের চা শিল্প! | কুমিল্লা সদরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই ষ্কুল শিক্ষার্থী নিহত। আহত-৩ | কুমিল্লায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৫ হাজার পিছ ইয়াবাসহ সাংবাদিক শামীম আটক। |

বন্ধ নয়, আইনি প্রক্রিয়ায় চলুক মাদকবিরোধী অভিযান’

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : June 1, 2018 , 9:17 am
ক্যাটাগরি : জাতীয়
পোস্টটি শেয়ার করুন

আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।

বৃহস্পতিবার রাতে বেসরকারি যমুনা টেলিভিশনের টক শো ‘মাদকবিরোধী অভিযান: বন্দুকযুদ্ধ’ অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

কাজী রিয়াজুল হক বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এটাকে চলমান রাখতে হবে। তবে মাদক অভিযানের নামে আইন বহির্ভূত কোনা কাজ যেন না হয় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।’

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশকে মাদকমুক্ত করার জন্য মাদকবিরোধী অভিযানটা চলমান রাখতে হবে। যতদূর সম্ভব এটাকে কমিয়ে আনার জন্য আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নিতে হবে। তবে অভিযানের নামে যেন কোনো রকম মানবাধিকার লঙ্ঘিত না হয়, যেন আইন বহির্ভূত কোনা কাজ না হয় সেদিকেও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। কারণ এটা আমাদের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা।’

চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে শতাধিক ‘মাদক কারবারি’ নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ‘কোনো মানুষ যদি বড় অপরাধে অভিযুক্ত হয়েও থাকে তাকে কিন্তু বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই শাস্তিটা দিতে হবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা দেওয়া। মাদকবিরোধী অভিযানে যে মানুষগুলো মারা গেল এটা কোনাভাবেই গ্রহণযোগ্য না।’

‘এ পর্যন্ত এই অভিযানে দশ হাজার লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনেক লোককে সাজা দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে যে ১২৪ জন লোক মারা গেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এই মারাটাকে আমরা গ্রহণ করতে পারছি না। এই মৃত্যুটা আমরা মনে করি আইন বহির্ভূত, এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে কি না উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের জবাবে রিয়াজুল হক বলেন, ‘অধিকাংশ লোক কিন্তু এই অভিযানকে সমর্থন করছে। তবে এই প্রক্রিয়ার মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে মানুষ হত্যার বিষয়টা আসায় মানুষের মনের মধ্যে একটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। মানুষের মনে এমন শঙ্কাও রয়েছে, বন্দুকযুদ্ধের কারণে ভালো একটা অভিযান বন্ধ হয়ে যায় কি না? আমরা যদি আইনগতভাবে কাজটা করতাম তাহলে এ বিষয়ে সমালোচনা হত না।’

মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানান মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান রিয়াজুল হক। বলেন, ‘মাদকবিরোধী যে অভিযান সেটা হতে হবে একটা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে। এই অভিযান সফল করার জন্য আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। একটা ভালো কাজে আমরা হাত দিয়েছিলাম এটার কারণে যদি অভিযানটা বন্ধ হয়ে যায় তাহলে এটা আমাদের ক্ষতিই হবে।’

‘অভিযানের ভেতরে যে বন্দুকযুদ্ধের কথাটা আসছে, বন্দুকযুদ্ধটা কেন এর ভেতরে আসবে? বন্দুকযুদ্ধের ব্যাপারে খুব পরিষ্কার করে বলা আছে, কখন এটা ব্যবহার করা যাবে? অভিযান সফলভাবে করতে হলে বন্দুক দিয়েই যে করতে হবে তাতো না, আরও অনেক মেথড আছে।’

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করায় সরকারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে মাদকবিরোধী যে ডাকটা এসেছে এটা যুগপোযোগী সময়। এটি একটি ভালো পদক্ষেপ, যদি আরও দেরি করা হত তাহলে হয়ত এটা সমাধান করা কঠিন হয়ে পড়ত। এই অভিযান উপযুক্ত সময়ে শুরু হয়েছে।’

‘আমরা যে অবস্থানে চলে যাচ্ছিলাম, আমাদের প্রায় এক কোটি তরুণ ও মধ্যবয়সীরা মাদকাসক্ত হয়ে গেছে। প্রতি ১৬ জনে একজন মানুষ এটা নিচ্ছিল। এটা একটা ভাইরাস, এটা একটা সংক্রামক ব্যাধি এটি দ্রুত ছড়িয়ে যায়।’