বিকাল ৩:২৪ মঙ্গলবার ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

ব্রেকিং নিউজ:

কুমিল্লা দেবিদ্বারে ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ। | কুমিল্লা সদরে ডিবি পুলিশের অভিযানে অস্ত্র ও ৫ শত পিছ ইয়াবাসহ এক এক যুবক। | সিলেট চেম্বারের পরিচালনা পরিষদের ২০১৯-২০২১ সাল মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত | কুমিল্লা সদর দক্ষিণে যাত্রীবাহি বাসচাপায় ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত। | মাধবপুরে দুই কেজি গাঁজা সহ ২ মাদক পাচারকারী আটক | ছেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাইলেন ক্রিকেটার রুবেল | পুত্র সন্তানের বাবা হলেন রুবেল, মা-ছেলে দুজনেই সুস্থ আছেন | মাদক চোরাকারবারীদের ফাঁদে পরে, বিলিনের পথে মাধবপুরের চা শিল্প! | কুমিল্লা সদরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই ষ্কুল শিক্ষার্থী নিহত। আহত-৩ | কুমিল্লায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৫ হাজার পিছ ইয়াবাসহ সাংবাদিক শামীম আটক। |

জামায়াতে অন্তঃসারশূন্য হচ্ছে বিএনপি: ছাত্রদল নেতার মূল্যায়ন

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : May 31, 2018 , 2:20 pm
ক্যাটাগরি : রাজনীতি
পোস্টটি শেয়ার করুন

জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি কীভাবে সম্ভব?- প্রশ্ন ছাত্রদলের একজন কেন্দ্রীয় নেতার। তার মতে, জামায়াত তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপিকে অন্তঃসারশূন্য করে দিচ্ছে। কিন্তু বিএনপির শীর্ষ নেতারা তা অনুধাবন করতে পারছেন না।

ছাত্রদলের এই নেতার নাম শেখ হাসানুল বান্না। তিনি ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক। জামায়াতের জনসমর্থন একেবারেই নগণ্য জানিয়ে তাদের ওপর ভরসা না করে বিএনপিকে নিজের শক্তিতে বলীয়ান হওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বান্না ফেসবুকেই তার নিজের মতামত তুলে ধরেছেন। আশা করছেন, তার এই মূল্যায়ন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব বিবেচনায় নিয়ে জোট থেকে দলটিকে বের করে দেবে।

স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে গণহত্যায় সহায়তা করেছে। আর এ কারণে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ হয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে জামায়াতকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ করে দেন। যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমকেও বাংলাদেশে ফেরা এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশে থাকার সুযোগ দেন জিয়া।

এসব কারণে আর সেই থেকে দলটির সঙ্গে বিএনপির এক ধরনের ‘মধুর’ সম্পর্ক আছে। ১৯৯১ সালে বিএনপি এবং জামায়াত আলাদা নির্বাচন করলেও তাদের মধ্যে গোপন সমঝোতা ছিল বলে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মজিুবর রহমান তার একটি বইয়ে উল্লেখ করেন।

১৯৯৪ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি আন্দোলন করে জামায়াতও। সে সময় বিএনপি-জামায়াতের সম্পর্কে ফাটল ধরে। তবে ১৯৯৯ সালে দু্ই দল জোটবদ্ধ হয় আর ২০০১ সালের প্রকাশ্যে সমঝোতা করে নির্বাচনে অংশ নেয় তারা।

ওই নির্বাচনে ভূমিধস জয় পায় বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে চারদলীয় জোট। আর একাত্তরের খুনি বাহিনী আলবদলের দুই শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী এবং আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ মন্ত্রী হন।

গত ১৯ বছর ধরে এই জোট অটুট আছে। আর এর সুবাদে জোট সরকারের আমলে প্রশাসনে জামায়াত নানা সুযোগ সুবিধা নেয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য বিএনপির গঠন করা ১০টি কমিটির সবগুলো জামায়াতকে দায়ী করেছিল। এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার কাছে প্রতিবেদনও পাঠানো হয়। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

এর মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের পাঁচ জন শীর্ষ জামায়াত নেতার ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী আমৃত্যু কারাগারে। আরও দুই নেতার ফাঁসির আদেশের বিরুদ্ধে আপিল নিস্পত্তির অপেক্ষায়।

ছাত্রদল নেতা বান্না দেখেছেন জামায়াত কীভাবে তাদের দলকে কুরে কুরে খাচ্ছে। তিনি লেখেন, ‘তাদের (জামায়াত) দাওয়াতি কাজ থেমে নেই। আওয়ামী লীগের কোন নেতাকর্মীকে তারা দলে ভেড়াতে পারবে না- এটা খুব স্বাভাবিক। তাই এরা টার্গেট করেছে প্রান্তিক শ্রেণির বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে।’

‘বাংলাদেশের যেসব এলাকায় বিএনপি তুমুল জনপ্রিয়, যেমন খুলনা বিভাগের কিছু জেলা, চট্রগ্রাম, সিলেটসহ অন্যান্য জায়গার যেসব প্রান্তিক শ্রেণির বিএনপির নেতাকর্মী আছে, যারা এত ইতিহাসের ধার ধারে না, জিয়ার দেশপ্রেম, সততা এবং নেত্রীর আপোষহীনতাকে পছন্দ করে, তাদেরকে প্রতিনিয়ত ধর্মের দোহাই, বিভিন্ন প্রলোভন, তাদের এনজিও থেকে সাহায্য, আইনি সাহায্য, আর্থিক সাহায্যসহ বিভিন্ন ব্রেনওয়াশ চালাচ্ছে।’

‘তারা ২০০৮ এর নির্বাচনে নেত্রীকে ফাঁদে ফেলে নিয়ে এসেছে। তারা উপজেলা ইলেকশনে প্রায় ১১৯ জায়গায় সরকারের সাথে হাত মিলিয়েছিল। দেখা গেছে এসব জায়গায় বিএনপির চেয়ারম্যান হেরেছে, আওয়ামী লীগ থেকে চেয়ারম্যান হয়েছে আবার জামায়াত থেকে ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছে। এর মানে কী দাঁড়ায়?’- জামায়াতকে নিয়ে সন্দিহান ছাত্রদল নেতার প্রশ্ন।

২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আন্দোলনেও জামায়াতের তেমন কোনো অংশগ্রহণ ছিল না বলে মনে করেন ছাত্রদল নেতা বান্না। বলেন, ‘গত দিনে তাদের আন্দোলন ছিল শুধু তাদের নেতাদের বাঁচানোর আন্দোলন। তারা বিএনপির জন্য কিছুই করেনি। যদিও বিএনপি আমলে তারাই সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে।’

বিএনপিতেও জামায়াতপন্থী নেতা তৈরি হয়েছে বলে আক্ষেপের কথা বলেছেন বান্না। বলেন, ‘আমাদের দলে (বিএনপি) যেসব নেতা জামায়াত সম্পর্কিত বিষয়ে চুপ থাকেন বা তাদের পক্ষ নেন, তাদের নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।’

নিজ এলাকা বাগেরহাটে জামায়াত কীভাবে বিএনপির ক্ষতি করছে সেটাও তুলে ধরেন বান্না। লেখেন, ‘দেখছি, যারা প্রয়োজনে বাড়ির জমি বিক্রি করে বিএনপি করতেন কিছুদিন আগেও, তারা এখন বলে, বিএনপি ও করে আবার জামায়াতও করে! আবার অনেকে ডাইরেক্ট জামায়াতে যোগ দিয়েছে।’

‘জামায়াতের তিন শতাংশ ভোটের উপর আমাদের এত আস্থা কেন?- প্রশ্ন রাখেন ছাত্রদল নেতা বান্না। বলেন, ‘নিজের ৫০ শতাংশ ভোট কি কম?’

জামায়াতকে ‘দুষ্ট গরু’ আখ্যা দিয়ে ছাত্রদল নেতা লেখেন, ‘দুষ্টু গরুর চেয়েও শূন্য গোয়াল অনেক ভালো। আশা করি, আমার এই মতামতকে কিছুটা হলেও ভাবনায় নেবে বিএনপি।’