রাত ১২:২৫ বুধবার ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

ব্রেকিং নিউজ:

কুমিল্লা দেবিদ্বারে ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ। | কুমিল্লা সদরে ডিবি পুলিশের অভিযানে অস্ত্র ও ৫ শত পিছ ইয়াবাসহ এক এক যুবক। | সিলেট চেম্বারের পরিচালনা পরিষদের ২০১৯-২০২১ সাল মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত | কুমিল্লা সদর দক্ষিণে যাত্রীবাহি বাসচাপায় ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত। | মাধবপুরে দুই কেজি গাঁজা সহ ২ মাদক পাচারকারী আটক | ছেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাইলেন ক্রিকেটার রুবেল | পুত্র সন্তানের বাবা হলেন রুবেল, মা-ছেলে দুজনেই সুস্থ আছেন | মাদক চোরাকারবারীদের ফাঁদে পরে, বিলিনের পথে মাধবপুরের চা শিল্প! | কুমিল্লা সদরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই ষ্কুল শিক্ষার্থী নিহত। আহত-৩ | কুমিল্লায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৫ হাজার পিছ ইয়াবাসহ সাংবাদিক শামীম আটক। |

‘বদু কাকাকে’ রেললাইনের দৌড় স্মরণ করালেন প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : May 30, 2018 , 4:04 pm
ক্যাটাগরি : রাজনীতি
পোস্টটি শেয়ার করুন

বিকল্প ধারার সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিএনপি ছেড়ে দল গঠনের পর মহাখালীর রেললাইন ধরে তাকে ধাওয়া দেয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপির নেতা-কর্মীদের সেই হামলা মনে রাখারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বুধবার গণভবনে ভারত সফর নিয়ে করা সংবাদ সম্মেলনে বি চৌধুরীর জাতীয় সরকার গঠনের দাবির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা।

গত ডিসেম্বরে কৃষক শ্রমিক জনতা পার্টির আবদুল কাদের সিদ্দিকী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির আ স ম আবদুর রব এবং নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যের সঙ্গে জোট করে বি চৌধুরীর বিকল্প ধারা।

দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বৃত্তের বাইরে তৃতীয় শক্তি হওয়ার ঘোষণা দেয়া যুক্তফ্রন্ট নেতারা ইদানীং বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়েছেন। বিএনপির ইফতারে যেমন তারা যোগ দিচ্ছেন, তেমনি যুক্তফ্রন্টের শরিকদের ইফতারে আসছেন বিএনপি নেতারা। এ ছাড়াও বিভিন্ন আলোচনায় বিএনপির পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন যুক্তফ্রন্ট নেতারা।

জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান অবস্থায় রাষ্ট্রপতি হয়ে বিএনপি গঠন করলে প্রখ্যাত চিকিৎসক বি চৌধুরী সেই দলে যোগ দেন। এক পর্যায়ে তিনি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। আর ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাকে রাষ্ট্রপতি করা হয়।

যদিও পরে বিএনপির চাপে রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়তে হয় বি চৌধুরীকে। ২০০৪ সালে নিজের দল বিকল্প ধারা গঠন করেন তিনি। আর সে সময় হাইকোর্টের সামনে কোরআন পড়া অবস্থায় তার ওপর হামলা করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

মহাখালী এলাকায় একটি অনুষ্ঠানেও বি চৌধুরীকে ধাওয়া দেয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। সে সময় তার রেল লাইন ধরে দৌড়ে পালানোর ছবি আসে গণমাধ্যমে।

সম্প্রতি বিভিন্ন আলোচনায় কারাদণ্ড হওয়া খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন বি চৌধুরী। আর এর সমালোচনা করে মহাখালীর সেই দৌড়ের কথা স্মরণ করান প্রধানমন্ত্রী।

বি চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়তে বিএনপির চাপের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বদু কাকারে বেশি দিন রাখে নাই। মাথায় পোটলা দিয়ে রেল লাইনের তল দিয়ে দৌড় মারতে হয়েছে তাকে। এ রকম অবস্থা তার জন্য সৃষ্টি হয়েছিল সেটাও তার মনে রাখা উচিত।’

‘বদরুদ্দোজা চৌধুরী কী বলল না বলল, আমার জবাব দেয়ার বিষয় না। ওনি আবার মুক্তির দাবি করেন। রেল লাইন দিয়ে দৌঁড়ালেন, আবার মুক্তির দাবি করেন। বলে না, মেরেছ কলসির কানা, তাই বলে কি প্রেম দেব না?’

‘বদু কাকার সেসব নির্বাচন মনে আছে?’

সম্প্রতি বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতে এক ইফতারে বি চৌধুরী পাঁচ বছরের জন্য জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। সেই সঙ্গে সাম্প্রতিক নানা নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

আর এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রশ্ন করি, বদু কাকার কি মনে নাই জিয়াউর রহমান যে ক্ষমতা নিয়েছিল, তখন যে হ্যাঁ, না ভোট দিয়েছিল তখন তিনি কেমন দেখেছিলেন?’

‘জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেছিল, সেই নির্বাচনটা কেমন ছিল? জিয়াউর রহমান যখন ৭৯ সালে সংসদ নির্বাচন করল, আওয়ামী লীগকে ৪০ সিট দেয়া হবে, ৩৯টি সিট দেয়া হলো গুণে গুণে ওই নির্বাচনটা কেমন ছিল?’

‘এই দেশে ভোট নিয়ে খেলা, ভোট কারচুপি, ভোট নিয়ে যত রকমের অনিয়ম, এটা তো তাদের আমলেই করা।’

‘সেনা প্রধান থাকা অবস্থায় সেনাবাহিনীর রুলস অ্যাক্ট ভঙ্গ করে সেই লোক নিজেকে ঘোষণা দিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে।’

জিয়াউর রহমানের অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি সায়েম রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন মোশতাকের পতনের পর। বঙ্গভবনে তাকে অস্ত্র ঠেকিয়ে বলল (জিয়াউর রহমান), আজ থেকে আপনি রাষ্ট্রপতি না, আমি রাষ্ট্রপতি।

‘রাষ্ট্রপতি হয়েই সেনা আইন ভঙ্গ করল, রুলস ভঙ্গ করল এবং নিজেকে একাকারে সেনা প্রধান এবং ওদিকে রাষ্ট্রপতি হয়ে নির্বাচনে তামাশা শুরু করল।’

‘৮১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আমি উপস্থিত ছিলাম। তখন যে নির্বাচন তারা করেছিল বদরুদ্দোজা চৌধুরী সে কথা ভুলে গেছেন কী নির্বাচন তারা করেছিল?’

‘মাগুরার নির্বাচন, সে নির্বাচন নিয়েই তো আমাদের আন্দোলন শুরু। তারপর ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচন, দেড় মাসও খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। ভোট চুরির অপরাধে তাকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল। বদরুদ্দোজা চৌধুরীও তার সাথে ছিল।’

‘এমনকি ২০০৬ সালে এক কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার লিস্টে ঢুকিয়ে দিয়ে নির্বাচনের প্রসহন করতে চেয়েছিল।’

‘যাদের অপকর্মের জন্য ইমার্জেন্সি ডিক্লেয়ার হলো, তাদের কাছ থেকে আবার ভোটের ভালো মন্দ শোনা, এসব শুনলে তো পাগলেও হাসবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকে যতটুকু ভোট স্বচ্ছ হচ্ছে, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, ছবিসহ ভোটার তালিকা, যতটুকু উন্নত করা, আমাদের প্রস্তাব অনুযায়ী করা হয়েছে।’

ইলেকশনে না এলে আমরা কী করতে পারি?

দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপিকে ২০১৩ সালে সরকার ভোটে আনতে নানা চেষ্টা করলেও এবার তার তা করবে না সরকার।

সেই ইঙ্গিত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইলেকশন স্বচ্ছ হবে না, এটা তো ঠিক না। কিন্তু ইলেকশনে যদি পার্টিসিপেট (অংশ নেয়া) না করে, ইলেকশনে না আসে, আমরা কী করতে পারি। সেটা দলের সিদ্ধান্ত। তারা আসেনি।’

নির্বাচন ঠেকাতে বিএনপি জামায়াত জোটের আন্দোলন পাঁচশ মানুষ নিহত হওয়া ও ধ্বংসযজ্ঞের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই অপকর্ম যারা করেছে তাদের ইলেকশনে আসল কি আসল না, তারা কী করল না করল তা নিয়ে হা হুতাশ কেন।’

২০০৪ সালে আওয়মী লীগের জনসভায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘প্রত্যেকটা ঘটনার সাথে তারা জড়িত। আর কত দফা এই‌ ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হয়েছি আমরা? আমার ওপরেই তো কতবার হামলা হয়েছে।’