রাত ২:৩৯ শুক্রবার ৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

ব্রেকিং নিউজ:

কুমিল্লা দেবিদ্বারে ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ। | কুমিল্লা সদরে ডিবি পুলিশের অভিযানে অস্ত্র ও ৫ শত পিছ ইয়াবাসহ এক এক যুবক। | সিলেট চেম্বারের পরিচালনা পরিষদের ২০১৯-২০২১ সাল মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত | কুমিল্লা সদর দক্ষিণে যাত্রীবাহি বাসচাপায় ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত। | মাধবপুরে দুই কেজি গাঁজা সহ ২ মাদক পাচারকারী আটক | ছেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাইলেন ক্রিকেটার রুবেল | পুত্র সন্তানের বাবা হলেন রুবেল, মা-ছেলে দুজনেই সুস্থ আছেন | মাদক চোরাকারবারীদের ফাঁদে পরে, বিলিনের পথে মাধবপুরের চা শিল্প! | কুমিল্লা সদরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই ষ্কুল শিক্ষার্থী নিহত। আহত-৩ | কুমিল্লায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৫ হাজার পিছ ইয়াবাসহ সাংবাদিক শামীম আটক। |

গানে অবশ্যই রাজনৈতিক প্রভাব পড়ে’

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : May 29, 2018 , 6:34 am
ক্যাটাগরি : বিনোদন
পোস্টটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশের রক ও জ্যাজ ঘরানার অন্যতম ব্যান্ড ফিডব্যাক। ‘মেলায় যাইরে’ বা ‘মৌসুমী’ গানের মত ফিডব্যাকের জনপ্রিয় গানগুলো এখনও তুমুল জনপ্রিয়। যাত্রা শুরুর পর ফিডব্যাক টুয়েন্টি সেঞ্চুরি থেকে ব্যান্ডদলটির আজকের ফিডব্যাকের হয়ে উঠার গল্প ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে তাদের অবস্থান খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছে ঢাকাটাইমস। আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

যাত্রা শুরুর গল্পটা কেমন ছিল?

ফুয়াদ নাসের বাবু: সম্ভবত ১৯৭৬ সালের শেষের দিকে কিংবা ১৯৭৭ সালের শুরুর দিকে ফিডব্যাকের যাত্রা শুরু হয়। সেই সময় ঢাকায় একটি পাঁচতারকা হোটেল ছিল। তখন সেই হোটেল ইন্টারকন্টিনালে আমরা পারফর্ম করতাম।

সেই সময় ঢাকায় আলট্রাসনিক নামে একটি ব্যান্ড ছিল। সেখানে কিংসলি রিকটার, শানু রিকটার, মুরাদ রহমান, সেলিম হায়দার, এরশাদসহ কয়েকজন ছিলেন। সেখান থেকে কয়েকজন সদস্য বিদেশে পাড়ি জমালে সেই ব্যান্ডটি ভেঙে নতুন একটি ব্যান্ডের যাত্রা শুরু হয়।

যেখানে আমি বেজ গিটারিস্ট হিসেবে যোগদান করি। সেই ব্যান্ড দলের নাম রাখা হয় ফিডব্যাক টুয়েন্টি সেঞ্চুরি। যেখানে মুরাদ, সেলিম হায়দার, শানু রিকটার, স্যান্ড্রা হাফ, দলের ম্যানেজার হাফিজুর রহমানসহ আমরা প্রায় ৬/৭ জনের মত ছিলাম। দলে মুরাদ যেহেতু বেজ গিটার বাজাতো সেহেতু বেজ গিটারিস্ট বাজানোর বদলে কিবোর্ড বাজানো শুরু করলাম।

এক বছরের মতো আমাদের ব্যান্ড বেশ ভালো মত চলার পরে আবার ব্যান্ডের আরেক সদস্য বিদেশে পাড়ি জমালো। ইতিমধ্যে ওয়াসলি হকার নামে একজন আমাদের দলে যোগ দিলেন। এরপর থেকে আমরা ব্যান্ডের এত বড় নামে পরিচিতি পাওয়ার বদলে শুধুমাত্র ফিডব্যাক নামেই সবার কাছে পরিচিত পেতে শুরু করি।

শুধু ‘ফিডব্যাক’ নামটি কত সালে পরিচিত পেল?

ফুয়াদ নাসের বাবু: বলতে গেলে এটা ১৯৭৮ সালের দিকেই হয়েছিল। কিন্তু ফিডব্যাক দলটি মূলত ফিডব্যাক টুয়েন্টি সেঞ্চুরি নামেই ছিল। আমরা দলের নাম থেকে টুয়েন্টি সেঞ্চুরি বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ফিডব্যাক নামটি ব্যবহার শুরু করি। এটা মূলত ১৯৭৭-৭৮ সালের সময়েই ঘটেছিল। বলতে গেলে ঘটনাটি সেই সময় প্রায় সমসাময়িক ছিল। এখানে কোনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ আসলেই নেই।

বাংলাদেশের জন্ম হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রে হঠাৎ করেই পপ বা রক ধাঁচের সঙ্গীত চর্চ্চা ফিডব্যাক কেন শুরু করল?

ফুয়াদ নাসের বাবু: পপ কিংবা রক ধাঁচের সঙ্গীত চর্চা শুরুটা তো আমরা করিনি। আমাদের আগে আমাদের অগ্রজরা শুরু করেছিলেন। আজম খান, আইওলাইটস, উইন্ডিসাইট অব কেয়ার, লাইটনিংস আমরা তাদের শো দেখেছি। আমাদের বাংলাদেশে রক মিউজিকের ধারা মূলত তারাই প্রচলন করেছেন। তাদের দেখেই আমরা অনুপ্রাণিত হয়েছি।

তবে এটা ঠিক ১৯৭২ সালের পরে সেই সময় বাংলাদেশে একটা অস্থির সময় ছিল। যা আজম খানের গানের কথায় ফুটে উঠেছিল। সেই সময়কার তরুণদের মধ্যেকার হতাশা ও নৈরাশ্যের কথাগুলো তার গানে ছিল। সেই বিষয়গুলোকে পাশ্চাত্য সঙ্গীতের মাধ্যমে আমরা গানে উপস্থানের চেষ্টা করি।

সেই সময়টায় আমরা অনেক বেশি পাশ্চাত্য গানও শুনতাম। বলতে গেলে সেই থেকেই আমাদের যাত্রা শুরু।

১৯৭৫ পরবর্তী সময় ও ১৯৯০ সাল সেই সময়গুলোতে ফিডব্যাক কেমন ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছিল?

ফুয়াদ নাসের বাবু: সঙ্গীত তো রাজনীতির বাহিরে নয়। আমরা সরাসরি রাজনীতি না করলেও রাষ্ট্র, সরকার, সমাজ ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক অবস্থা ইত্যাদি সবকিছুর প্রভাব অবশ্যই সঙ্গীতেও পড়ে। সেই ভাবে কিন্তু মিউজিকটাও তৈরি হয়।

যেমনি ল্যাটিন আমেরিকান মিউজিকে তাদের গানের মধ্যে প্রতিবাদ, গানের কথার মধ্যেও প্রতিবাদ। গানের ক্ষেত্রে অবশ্যই রাজনৈতিক একটি প্রভাব পড়ে।

কিন্তু জাতীয় ঘটনাগুলো সরাসরি আমাদের উপর সেইভাবে প্রভাব ফেলেছে বলে আমার মনে হয় না।

এই কথার রেশ ধরে দলের গিটারিস্ট ও ভোকাল লাবু রহমান কিছুটা যোগ করলেন।

লাবু রহমান: আমাদের গানের মধ্যে কিছুটা রাজনৈতিক ও দেশের বিভিন্ন পরিস্থিতি যেমন বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে গান রয়েছে, আবার উৎসব উৎযাপন নিয়েও কিছু গান রয়েছে।

গান বাজনা করতে গেলে এগুলো আসবেই। আমরা (ফিডব্যাক) কখনো দমে যাইনি। আমরা সবসময় চালিয়ে গিয়েছি।

এবার লাবু রহমানের কথার সঙ্গে ফুয়াদ নাসের বাবু আরো কিছু যোগ করলেন ।

‘সংস্কৃতি আসলে বয়ে চলা নদীর মত। হয়ত কোথাও বাধা পেয়েছে আবার কোথাও বয়ে চলেছে। আমাদের জাতীয় জীবনে যেসব ঘটনাগুলো ঘটেছে সেগুলোর জন্য আমাদের ঠিকই থমকে দাঁড়াতে হয়েছে। কিন্তু আমার মনে হয় না রাজনৈতিকভাবে আমাদের সঙ্গীতের উপর কোন কিছু চাপিয়ে দেওয়ার মত বিষয় ছিল।

ফিডব্যাকের কনর্সাট বন্ধ করে দেওয়ার মত কোনো ঘটনা রয়েছে?

ফুয়াদ নাসের বাবু: আমাদের প্রথম দিকে শুনতে হয়েছে আমাদের এটা অপসংস্কৃতি। এখনকার ছেলে মেয়েরা এটা জানে না। আমাদের শুরুর দিকে অনেক জায়গায় আমাদেরকে পারফর্ম করতে দিতো না। জাতীয় অনুষ্ঠানে আমাদের গান বাজতো না। আমাদেরকে এমন সব পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে আসতে হয়েছে।

এই কথায় কিছুটা যোগ করলেন লাবু রহমান।‘সরাসরি কনর্সাট তো কেউ বন্ধ করে দেয়নি। হয়ত দেখা গেছে শো অনুষ্ঠিত হবার সবকিছু ঠিকঠাক হওয়ার পরেও শেষ পর্যায়ে এসে অপসংস্কৃতি বলে আমাদের গান গাওয়ার আর অনুমোদনটা দেয়নি।