রাত ১০:৩৯ রবিবার ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

ব্রেকিং নিউজ:

কুমিল্লা দেবিদ্বারে ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ। | কুমিল্লা সদরে ডিবি পুলিশের অভিযানে অস্ত্র ও ৫ শত পিছ ইয়াবাসহ এক এক যুবক। | সিলেট চেম্বারের পরিচালনা পরিষদের ২০১৯-২০২১ সাল মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত | কুমিল্লা সদর দক্ষিণে যাত্রীবাহি বাসচাপায় ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত। | মাধবপুরে দুই কেজি গাঁজা সহ ২ মাদক পাচারকারী আটক | ছেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাইলেন ক্রিকেটার রুবেল | পুত্র সন্তানের বাবা হলেন রুবেল, মা-ছেলে দুজনেই সুস্থ আছেন | মাদক চোরাকারবারীদের ফাঁদে পরে, বিলিনের পথে মাধবপুরের চা শিল্প! | কুমিল্লা সদরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই ষ্কুল শিক্ষার্থী নিহত। আহত-৩ | কুমিল্লায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৫ হাজার পিছ ইয়াবাসহ সাংবাদিক শামীম আটক। |

মুড়ির ৫ গ্রাম

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : May 26, 2018 , 12:16 pm
ক্যাটাগরি : ঢাকা,দেশজুড়ে
পোস্টটি শেয়ার করুন

পবিত্র রমজান মাসের ইফতারির রকমারি উপাদানের মধ্যে মুড়ি অত্যাবশকীয়। মুড়ির চাহিদা সারা বছর থাকলেও রোজার সময় উৎপাদন এবং বিক্রি বহুগুণে বেড়ে যায়।

তাই মুড়ি ব্যবসায়ীরা বছর জুড়ে অপেক্ষায় থাকেন রমজান মাসের জন্য। আবার অনেকে মৌসুমি ব্যবসা হিসেবে এই মাসে মুড়ি উৎপাদন এবং বিক্রি করে থাকেন। টাঙ্গাইলসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় মুড়ি সরবরাহ হয় জেলার কালিহাতীর নারান্দিয়া থেকে।

এখানকার উৎপাদিত মুড়ির সুনাম বিভিন্ন স্থানে। এখানে দুইভাবে মুড়ি উৎপাদিত হয়, হাতে ভেজে ও মেশিনের সাহায্যে।

মুড়ি উৎপাদনকারি এলাকাগুলোর মধ্যে টাঙ্গাইল জেলায় নারান্দিয়া শীর্ষে। টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রাম মুড়ির গ্রাম হিসেবে পরিচিত। এ গ্রামগুলোতে সারাবছরই হাতে ভাজা বিষমুক্ত মুড়ি তৈরি হয়। রমজান মাসে এ এলাকার মানুষের কর্মব্যস্ততা বেড়ে যায় কয়েকগুণ।

চলতি রমজান মাসে মুড়ির চাহিদা পূরণে এখন ব্যস্ত সময় পার করছে মুড়ি ভাজার কারিগররা।

সন্ধ্যারানী মোদক নামের এক নারী বলেন, রমজান মাসে মুড়ি তৈরিতে আমরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছি। ভোর থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করছি। আমাদের দম ফেলার সময় নেই। রমজান মাসে টাঙ্গাইলের আশপাশের বিভিন্ন জেলায় পাইকাররা এখান থেকে মুড়ি কিনে নিয়ে যান।

মিনতি রানী নামের এক মহিলা বলেন, আমরা বংশ পরম্পরায় এই মুড়ি ভাজা ও ব্যবসার সাথে জড়িত। ধান সিদ্ধ করে রোদে শুকানোর পর আবার সেই ধান মেশিনে মাড়াই করে মুড়ি ভাজার জন্যে চাল তৈরি করা হয়। পরে সেই চাল দিয়ে লবণ-জলের মিশ্রণে আগুনে তাপ সহ্য করে বিশুদ্ধ মুড়ি ভাজতে অনেক পরিশ্রম হয়।

মানবদেহের ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য ছাড়া সম্পূর্ণ দেশি পদ্ধতিতে হাতে ভাজা এসব মুড়ির চাহিদা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু পুঁজির অভাবে মুড়ির চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছেন কারিগরা।

সম্পূর্ণ দেশি পদ্ধতিতে চুলায় মাটির খোলায় লবন পানি মেশানো চাল দিয়ে গরম বালুতে তৈরি হয় হাতে ভাঁজা মুড়ি।

নারান্দিয়ায় ৪টি মিলে মেশিনের সাহায্যে এবং শতাধিক বাড়িতে হাতে ভেজে মুড়ি উৎপাদিত হয়। মেশিনের সাহায্যে মুড়ি উৎপাদন নতুন সংযোজন হলেও অনেক আগে থেকেই হাতে ভেজে মুড়ি তৈরি এবং বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন বহু পরিবার।

আজ থেকে বহু বছর আগে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের দুই-একটি পরিবার স্বল্প পরিসরে শুরু করে মুড়ি ভাঁজা। হাতে ভাঁজা মুড়ি বিক্রি করে স্বাবলম্বী হতে থাকে এসব পরিবার। তাদের অনুসরণ করে দৌলতপুরসহ নারান্দিয়া, মাইস্তা, লক্ষী নারান্দিয়া, নগরবাড়ি গ্রামে শতশত পরিবার বাণিজ্যিকভাবে মুড়ি ভাজা শুরু করে। পর্যায়ক্রমে এ গ্রামগুলো মুড়ির গ্রাম নামে লোকমুখে পরিচিত পায়।

সারা বছরই মুড়ি ভাজা হলেও রমজানকে ঘিরে এ চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এসব গ্রামের প্রতিটি ঘরেই এখন দিন-রাত চলছে মুড়ি ভাজার ব্যস্ততা। প্রতিদিন প্রতিটি পরিবার ৪০ থেকে ৪৫ কেজি মুড়ি ভাজে বলে জানান মুড়ি তৈরির কারিগররা।

টাঙ্গাইলের আশপাশের বিভিন্ন জেলায় পাইকাররা এখান থেকে মুড়ি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। নারান্দিয়া ইউনিয়নের ৫টি গ্রামের প্রতিদিনের তৈরী প্রায় ৩শ মন মুড়ি সরবরাহ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়।

তবে এখানে গড়ে উঠেনি মুড়ির নির্দিষ্ট বাজার। তাই পাইকাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসব মুড়ি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষতিকর কেমিক্যাল মুক্ত ও সুস্বাদু হওয়ায় এখানকার মুড়ির চাহিদা প্রচুর বলে জানালেন পাইকাররা।

মুড়ি ব্যবসায়ীরা জানান, রমজান মাসে দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা পিকআপ, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনে বস্তাভর্তি মুড়ি কিনে টাঙ্গাইলের প্রত্যন্ত এলাকায় বিক্রি। যাতায়াত ব্যবস্থা ভাল থাকায় পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, ময়মনসিংহ, জামালপুর, বগুড়া, শেরপুর ও গাজীপুরে টাঙ্গাইলের মুড়ি সরবারহ করা হয়। তবে প্রযুক্তির সাথে পাল্লা দিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না হাতে ভাজা মুড়ি উৎপাদনকারীরা।

মেশিনে মুড়ি ভাজতে সময় কম লাগে, কিন্তু তুলনামূলকভাবে লাভ বেশি। অন্যদিকে হাতে মুড়ি ভাজতে সময় বেশি লাগে কিন্তু লাভ সামান্য। ফলে হাতে ভাজা মুড়ি উৎপাদনকারীরা দিনদিন এই কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাহেরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, রমজান ছাড়াও সারা বছরই এই এলাকার মুড়ির ব্যাপক বাণিজ্যিক চাহিদা রয়েছে। মুড়ি ভাজাই এ এলাকার মানুষের প্রধান পেশা। মুড়ি ভাজার সাথে সংশ্লিষ্টদের নানাভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে কালিহাতী উপজেলা পরিষদ।