সকাল ৭:৪০ শুক্রবার ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ ইং

ব্রেকিং নিউজ:

কুমিল্লা দেবিদ্বারে ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ। | কুমিল্লা সদরে ডিবি পুলিশের অভিযানে অস্ত্র ও ৫ শত পিছ ইয়াবাসহ এক এক যুবক। | সিলেট চেম্বারের পরিচালনা পরিষদের ২০১৯-২০২১ সাল মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত | কুমিল্লা সদর দক্ষিণে যাত্রীবাহি বাসচাপায় ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত। | মাধবপুরে দুই কেজি গাঁজা সহ ২ মাদক পাচারকারী আটক | ছেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাইলেন ক্রিকেটার রুবেল | পুত্র সন্তানের বাবা হলেন রুবেল, মা-ছেলে দুজনেই সুস্থ আছেন | মাদক চোরাকারবারীদের ফাঁদে পরে, বিলিনের পথে মাধবপুরের চা শিল্প! | কুমিল্লা সদরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই ষ্কুল শিক্ষার্থী নিহত। আহত-৩ | কুমিল্লায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৫ হাজার পিছ ইয়াবাসহ সাংবাদিক শামীম আটক। |

এমভি বিলাসকে টেনে তোলার প্রস্তুতি চলছে

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : May 24, 2018 , 7:03 am
ক্যাটাগরি : বিপিএল 2019
পোস্টটি শেয়ার করুন

গত এক মাসেরও বেশি সময় পার হলেও সুন্দরবনে পশুর নদের হারবাড়িয়া এলাকায় ডুবে যাওয়া কয়লাবাহী জাহাজ এমভি বিলাসকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে জাহাজটির ভেতরে পলি জমে বড় স্তর তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় জাহাজটির ভেতর থেকে কয়লা উত্তোলন বন্ধ রেখে সনাতন পদ্ধতিতে জাহাজটিকে টেনে তোলার জন্য প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বিষয়টি এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছে।

এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের মধ্যে অবস্থিত পশুর, শেলাসহ অন্যান্য নদীতে জাহাজ ডুবির ঘটনা নতুন নয়। গত সাড়ে তিন বছরে ডুবেছে সাতটি জাহাজ। এসব জাহাজে ছিল ফার্নেস অয়েল, সার, কয়লা ও সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল। তবে খুলনা অঞ্চলে উদ্ধারকারী কোনো জলযান না থাকায় দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয় না ডুবে যাওয়া জাহাজ ও পণ্য। ফলে এসব পণ্যের রাসায়নিক পদার্থে দূষিত হচ্ছে নদীর পানি, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জলজ জীববৈচিত্র্য। পানির মাধ্যমে দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে বনের মাটিতেও।

এমভি বিলাস উদ্ধার প্রসঙ্গে জাহাজটির মালিক পক্ষের বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো. বাহারুল ইসলাম বাহার বলেন, আধুনিক জলযানের অভাব, নদীর স্রোত আর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কয়লার জাহাজটি এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে জাহাটি নদীর তলদেশে আরো দেবে যাচ্ছে। প্রচুর পলি পড়ায় এখন আর কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এর আগে ডুবন্ত জাহাজ থেকে কিছু কয়লা পাম্পের মাধ্যমে উত্তোলন করে একটি বাল্কহেডে করে যশোরের নওয়া পাড়ায় নিয়ে গেছে আমদানিকারকরা।

বাহার আফসোস করে বলেন, যদি খুলনায় বিআইডব্লিউটিএ কিংবা মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্ধারকারী কোনো জলযান থাকতো তাহলে এত দেরি হত না। এ পর্যন্ত আমাদের ২০ লাখ টাকা ব্যয় হয়ে গেছে জাহাজটি উদ্ধারের পেছনে।

বর্তমানে জাহাজটিকে দু’পাশে দুটি টাকবোট দিয়ে টেনে তোলার জন্য প্রস্তুতি চলছে। এ লক্ষ্যে সরঞ্জামাদি আনা হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জাহাজটি উদ্ধার করা সম্ভব না হলে আশা ছেড়ে দিতে হবে- যোগ করেন এ শ্রমিক নেতা।

মোংলা বন্দরের মাস্টার স্টিভিডরস ও পৌর মেয়র জুলফিকার আলী বলেন, মোংলা বন্দরে দেশি-বিদেশি জাহাজের আগমন বেড়েছে। সে কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে গেছে। কিন্তু খুলনায় বিআইডব্লিউটিএ কিংবা মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্ধারকারী কোনো জলযান নেই। প্রয়োজন হলে নারায়ণগঞ্জ থেকে বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ নিয়ে আসা হয়। এখানে উদ্ধারকারী জাহাজ থাকা জরুরি।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, শেলা নদী দিয়ে এখন আর পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে না। তবে মোংলা বন্দরের কারণে পশুর নদ দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। সে কারণে এটি বন্ধ করার সুযোগ নেই। এখন প্রয়োজন জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন।

তিনি বলেন, জাহাজডুবির কারণে সুন্দরবনের ক্ষতি হয়। তবে জোয়ার-ভাটার কারণে ক্ষতির মাত্রা ভয়াবহ হয় না।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) খুলনার সমন্বয়কারী মাহফুজুর রহমান মুকুল বলেন, একের পর এক জাহাজডুবির ঘটনা উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ বিষয়ে তারা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন।

বেসরকারি সংস্থা সুন্দরবন একাডেমির পরিচালক রফিকুল ইসলাম খোকন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সুন্দরবনের মধ্যে নদীতে বার বার জাহাজডুবির কারণে কী ধরনের ক্ষতি হচ্ছে সে বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর এ কে এম ফারুক হাসান বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে উদ্ধারকারী জাহাজ কেনা জরুরি হয়ে পড়েছে। শিগগির উদ্ধারকারী জাহাজ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য তারা একটি প্রকল্প তৈরি করছেন।

গত ১৪ এপ্রিল রাতে সুন্দরবনের মধ্যে পশুর নদের হারবাড়িয়া এলাকায় ডুবোচরে ধাক্কা লেগে লাইটার জাহাজ এমভি বিলাস ডুবে যায়। জাহাজটিতে ৭৭৫ টন কয়লা ছিল।