রাত ১০:২১ রবিবার ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

ব্রেকিং নিউজ:

কুমিল্লা দেবিদ্বারে ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ। | কুমিল্লা সদরে ডিবি পুলিশের অভিযানে অস্ত্র ও ৫ শত পিছ ইয়াবাসহ এক এক যুবক। | সিলেট চেম্বারের পরিচালনা পরিষদের ২০১৯-২০২১ সাল মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত | কুমিল্লা সদর দক্ষিণে যাত্রীবাহি বাসচাপায় ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত। | মাধবপুরে দুই কেজি গাঁজা সহ ২ মাদক পাচারকারী আটক | ছেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাইলেন ক্রিকেটার রুবেল | পুত্র সন্তানের বাবা হলেন রুবেল, মা-ছেলে দুজনেই সুস্থ আছেন | মাদক চোরাকারবারীদের ফাঁদে পরে, বিলিনের পথে মাধবপুরের চা শিল্প! | কুমিল্লা সদরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই ষ্কুল শিক্ষার্থী নিহত। আহত-৩ | কুমিল্লায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৫ হাজার পিছ ইয়াবাসহ সাংবাদিক শামীম আটক। |

বুলবুলের জন্য কায়মনে প্রার্থনা

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : May 23, 2018 , 11:18 am
ক্যাটাগরি : মুক্তমত
পোস্টটি শেয়ার করুন

আপাদমস্তক সংগীতের মানুষ মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল অসুস্থ। তার অসুস্থতার খবর যেনো পুরো বাংলাদেশের অসুস্থতার প্রতীক। মাত্র ১৫ বছর বয়সে দেশমাতৃকার জন্য তিনি অস্ত্র হাতে তুলে নেন। যে হৃদয় দিয়ে বাংলাদেশকে ভালোবেসেছেন সেই হৃদয় (হার্ট) আজ চলতিপথে থমকে দাঁড়াচ্ছে। একটি নয়, দুটি নয় আট আটটি ব্লক ধরা পড়েছে। দেশকে ভালোবাসার হার্টে ব্লক ধরা পড়লেও বুলবুল তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রমাণ করেছেন সত্যিকারের দেশ প্রেমিক তিনি। ধর্মেও তার অগাধ বিশ্বাস। তাইতো তিনি লিখেছেন- বাইপার সার্জারীর সময় ছুরিকাচির নিচে যাবার আগে ‘১০ সেকেন্ডের জন্য বুকের মাঝে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের পতাকা এবং কোরান শরিফ রাখতে চাই’।

অন্তপ্রাণ দেশপ্রেমী এ মানুষটা সুস্থ হয়ে আমাদের কাছে ফিরে আসুক এমন কায়মনো প্রার্থণা বাংলাদেশ জুড়ে। আবারো সংগীতের মানুষ আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ছন্দ জোড়া দিয়ে, হৃদয়ের আবেগ মিশিয়ে নতুন গানের জন্ম দিন। সুস্থ বুলবুল গভীর ভাবে নি:শ্বাস নিয়ে চিরসবুজ প্রাণের স্বদেশে মাথা উঁচু করে হাটলে সার্থকতা পাবে মহান মুক্তিযুদ্ধে তার ত্যাগ।

মঙ্গলবার ফেসবুকে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল লিখেন- ‘সরকারের নির্দেশেই ২০১২ তে আমাকে যুদ্ধ অপরাধীর ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় সাক্ষি হিসাবে দাঁড়াতে হয়েছিল। সাহসিকতার সাথে সাক্ষ্যপ্রমাণ দিতে হয়েছিল ১৯৭১ এ ঘটে যাওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলখানার গণহত্যার সম্পূর্ণ ইতিহাস। আর, ওই গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া ৫ জনের মধ্যে আমিও একজন। হত্যা করা হয়েছিল একসাথে ৪৯ জন মুক্তিযোদ্ধাকে।

কিন্তু, এই সাক্ষির কারণে আমার নিরপরাধ ছোট ভাই মিরাজ হত্যা হয়ে যাবে এ আমি কখনোই বিশ্বাস করতে পারিনি। সরকারের কাছে বিচার চেয়েছি, বিচার পাইনি।

আমি এখন ২৪ ঘণ্টা পুলিশ পাহারায় গৃহবন্দি থাকি, একমাত্র সন্তানকে নিয়ে। এ এক অভূতপূর্ব করুণ অধ্যায়।

একটি ঘরে ৬ বছর গৃহবন্দি থাকতে থাকতে আমি আজ উল্লেখযোগ্যভাবে অসুস্থ। আমার হার্টে ৮টা ব্লক ধরা পড়েছে এবং বাইপাস সার্জারি ছাড়া চিকিৎসা সম্ভব না। এরই মাঝে কাউকে না জানিয়ে আমি ইব্রাহিম কার্ডিয়াকে সিসিইউ-তে চারদিন ভর্তি ছিলাম।’

আরো লেখেন, ‘আগামী ১০ দিনের মধ্যে আমি আমার হার্টের বাইপাস সার্জারি করাতে প্রস্তুত রয়েছি। কোনো সরকারি সাহায্য বা শিল্পী, বন্ধু-বান্ধবের সাহায্য আমার দরকার নাই, আমি একাই যথেষ্ট (শুধু অপারেশনের পূর্বে ১০ সেকেন্ডের জন্য বুকের মাঝে বাংলাদেশের পতাকা এবং কোরআন শরীফ রাখতে চাই)। আর, তোমরা আমার জন্যে শুধু দোয়া করবে। কোনো ভয় নাই। -তোমাদেরই,বুলবুল।’

বাইপাস সার্জারির অপারেশন করার আগেও বুলবুল দৃঢ়প্রত্যয়ী। তিনি আজন্ম সম্প্রীতির গান গেয়েছেন। তার গান শুনে শ্রোতারা কখনো আনন্দে হেসেছেন, কখনো বুকের গভীর থেকে কান্নার ঢেউ উপলব্ধি করেছেন। আমাদের দেশে যখন স্বনামধন্য শিল্পী সাহিত্যিক অসুস্থতাকালে সরকারি সহায়তার দিকে চেয়ে থাকেন, সেখানে মুক্তিযোদ্ধা বুলবুল বললেন, ‘সাহায্য আমার দরকার নাই। আমি একাই যথেষ্ট।’

আসলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা এমনই হন। তারা কারো মুখাপেক্ষি হতে পছন্দ করেন না। নিজের উপর প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকেন। তারা কখনো ভয় পান না। অকুতোভয় এ মুক্তিযোদ্ধা ১৯৫৭ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৃত ওয়াফিজ আহমেদ ও মাতা ইফাদ আরা নাজিমুন নেসা। ১৯৭১ সালে ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্র বুলবুল যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে।

প্রথমে বন্ধু সজীবের নেতৃত্বে বিহারিদের অস্ত্র ছিনতাই করে একটি ছোট মুক্তিযোদ্ধা দল গঠন করেন তারা। জিঞ্জিরায় প্রথম মুক্তিযুদ্ধের ঘাঁটি তৈরি করে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে বেশ কিছু প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নেন। পরে বুলবুল তার বড় ভাই ক্র্যাক প্লাটুনের মুক্তিযোদ্ধা মৃত ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ টুলটুলের সঙ্গে ঢাকায় গেরিলা অপারেশনে অংশ নেন। পরে ভারতে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং শেষে সশস্ত্র যুদ্ধে লড়াই করেন। তিনি যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াত নেতা গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে স্বাক্ষ্য দিয়েছেন।

আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল একাধারে গীতিকার, সুরকার এবং সঙ্গীত পরিচালক। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ পরবর্তী সময় থেকে বাংলাদেশ সংগীত ও চলচ্চিত্র শিল্পে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং রাষ্ট্রপতি পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ১৯৭৮ সালে মেঘ বিজলী বাদল ছবিতে সঙ্গীত পরিচালনার মাধ্যমে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন। তিনি নিয়মিত গান শুরু করেন ১৯৭৬ সাল থেকে।
গানের মানুষ, প্রেমের মানুষ আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল কয়েকদিনের মধ্যেই অস্ত্রোপচার কক্ষে ছুরিকাচির নিচে যাচ্ছেন। তার অস্ত্রোপচার সফল হোক, তিনি ফিরে আসুন নিজস্ব জগতে এমন প্রার্থণা। আবারো বুলবুলের লেখা ও সুরের গান বাংলার প্রতিটি ঘর আন্দোলিত করুক।