রাত ৪:৪২ সোমবার ২১শে জুলাই, ২০১৯ ইং

আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে ভয়ংকর সাইক্লোনের চেহারা নিবে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : এপ্রিল ২৯, ২০১৯ , ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ক্যাটাগরি : বিশেষ প্রতিবেদন
পোস্টটি শেয়ার করুন

২৪ ঘণ্টার মধ্যে অতি ভয়ংকর সাইক্লোনের চেহারা নিতে চলেছে ঘূর্ণিঝড় ফণি। ক্রমশ নিজের শক্তি বাড়াচ্ছে ঘূর্ণিঝড়টি।

ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরের সংযোগস্থলে চেন্নাই থেকে ১ হাজার ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে এবং শ্রীলঙ্কার ত্রিঙ্কোমালির ৭৫০ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড়টি।

অতি ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হওয়ার পর তা শ্রীলঙ্কার দিকে এগোনোর কথা। তারপর সেখান থেকে মুখ ঘুরিয়ে ভারতের তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে পৌঁছবে আগামী ৩০ এপ্রিল। ঘূর্ণিঝড়ের জেরে তাই ওই ২ দিন তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকা তো বটেই এমনকি অন্যান্য জায়গাতেও প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার সতর্কবার্তা জারি করেছে ভারতীয় হাওয়া অফিস।

ঘূর্ণিঝড় ফেণি-র কথা মাথায় রেখে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম, মছলিপত্তনম, কৃষ্ণাপত্তনম ও নিজামপত্তনম বন্দরে সতর্কতা জারি হয়েছে। প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে ঝড়ের গতি থাকবে ৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টার মত। এখানে তাণ্ডব চালিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি মুখ ঘুরিয়ে ওড়িশা ও বাংলাদেশের দিকে চলে যাবে বলেই মনে করছেন ভারতীয় আবহাওয়া বিদরা।

ফলে পশ্চিমবঙ্গও এই ঘূর্ণিঝড় থেকে রেহাই পাবেনা বলেই মনে করা হচ্ছে। দাক্ষিণাত্যে তাণ্ডব চালানোর পর যদি ঘূর্ণিঝড় ফণি এগিয়ে এসেও পড়ে তখন তা শক্তি অনেকটাই হারাবে বলেও মনে করছেন অনেকে।

এদিকে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বার্তায় বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ আরো উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আজ দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১৬৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১৬২০ কিলোমিটার দক্ষিণে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৬৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৬৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড়টি আরো ঘনীভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

আবহাওয়ার বিশেষ বার্তায় দেশের সব সমুদ্রবন্দরকে দুই নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।