দুপুর ১:৫০ বৃহস্পতিবার ২০শে জুন, ২০১৯ ইং

দৌলতদিয়ায় ৪ কিমি জুড়ে যানবাহনের সারি

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : মার্চ ১৪, ২০১৯ , ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : বিপিএল 2019
পোস্টটি শেয়ার করুন

ফাল্গুনের ঘন কুয়াশার প্রকোপে দেশের ব্যস্ততম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বৃহস্পতিবার সকালে টানা ৪ ঘণ্টা ফেরি, লঞ্চসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল।

এ সময় যানবাহন ও যাত্রীবোঝাই করে উভয় ঘাট থেকে ছেড়ে গিয়ে মাঝ নদীতে গিয়ে আটকা পড়ে ২টি ফেরি।

দীর্ঘ সময় নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকা ও চলাচলকারী ৪টি ফেরি বিকল থাকায় দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় বিকাল ৫টা নাগাদ মহাসড়কে নদী পারাপারের অপেক্ষায় প্রায় ৪ কিমি জুড়ে আটকা পড়ে ৪ শতাধিক বিভিন্ন যানবাহন। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মধ্যরাত থেকে নদী অববাহিকায় হালকা কুয়াশা পড়তে থাকে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার ঘনত্ব বেড়ে গেলে একপর্যায়ে নৌযান চলাচল ঝুকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ পরিস্থিতিতে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ ভোর সাড়ে ৪টা থেকে নৌরুটের ফেরি, লঞ্চসহ সব প্রকার নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে।

এ সময় মাঝনদীতে দিক হারিয়ে নোঙর করে থাকতে বাধ্য হয় ২টি ফেরি। রুটে চলাচলকারী অপর ১৪টি ফেরি যাত্রী ও যানবাহনবোঝাই করে ঘাটে ভিড়ে থাকে। পরে কুয়াশার ঘনত্ব কমে এলে সকাল ৮টা থেকে পুনরায় ফেরি ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এদিকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের ফেরি বহরের ইউটিলিটি ফেরি চন্দ্রমল্লিকা ও রোরো ফেরি আমানত শাহ যান্ত্রিক ত্রুটিতে বিকল হয়ে পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানায় মেরামতে আছে। এ ছাড়া রোরো ফেরি শাহজালাল এক সপ্তাহ আগে বড় মেরামতের জন্য নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। অপর রোরো ফেরি শাহ মখদুম প্রায় ২ মাস ধরে বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে।

ঘাটসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, দুই ঘণ্টা ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকার পাশাপাশি ফেরি সংকট সৃষ্টি হওয়ায় ঘাট এলাকায় নদী পারাপারের অপেক্ষায় ৪ শতাধিক বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়েছে।

সরেজমিন বিকাল ৫টায় দৌলতদিয়া ঘাট ঘুরে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের ওয়াজেদ চৌধুরী টেকনিক্যাল কলেজ পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার জুড়ে নদী পারের অপেক্ষায় অন্তত ৪ শতাধিক বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি। এর মধ্যে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক রয়েছে। তবে যাত্রীবাহী বাস অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করায় আটকেপড়া পণ্যবাহী ট্রাকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ অবস্থার মধ্যেও দেখা যায় দালালরা অপচনশীল মালবাহী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানকে যাত্রীবাহী বাসের সারিতে নিয়ে দ্রুত ফেরি পারাপারের জন্য তৎপরতা চালাতে। এতে ক্ষোভ জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

দৌলতদিয়া মডেল হাইস্কুল এলাকায় ঢাকাগামী সাতক্ষীরা এক্সপ্রেসের যাত্রী অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গাজী আলী আশরাফ ও আ. সহিদ অভিযোগ করেন, মহাসড়কে শতশত যাত্রীবাহী বাস ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে আছে। এ অবস্থায় শুধুমাত্র যাত্রীবাহী যানবাহন পারাপার করার কথা থাকলেও নগদ টাকার লোভে সংশ্লিষ্টরা বহু অপচনশীল মালবাহী এমনকি খালী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানও পার করছেন। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের একমাত্র উপায় বলে তারা মনে করেন।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মো. সফিকুল ইসলাম জানান, ঘন কুয়াশায় বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকা এবং কয়েকটি ফেরি বিকল থাকায় যানবাহনগুলো সিরিয়ালে আটকা পড়েছে। রুটে মোট ১৬টি ফেরি যানবাহন পারাপার করছে। আশা করছি কম সময়ের মধ্যেই আটকে থাকা যানবাহনগুলো নদী পারাপার করা সম্ভব হবে।