সকাল ৭:৪৫ সোমবার ২৭শে মে, ২০১৯ ইং

ভিখারিণীর ঘরে দেড় বস্তা টাকা!

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : মার্চ ১৪, ২০১৯ , ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ
ক্যাটাগরি : গনমাধ্যম
পোস্টটি শেয়ার করুন

রাজধানীর দক্ষিণ মাণ্ডা এলাকায় সাজেদা বেগম নামে ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার ঘর থেকে দেড় বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। ওই দেড় বস্তায় এক লাখ ৮ হাজার ৬৬০ টাকা এবং কয়েন রয়েছে।

এদিকে এসব টাকা ভিক্ষা করে সঞ্চয় করেছিলেন বলে দাবি করেন সাজেদা বেগম ও তার মেয়ে আমেনা।

মঙ্গলবার এসব টাকা ও কয়েন মা-মেয়ের কাছে হস্তান্তর করেছেন মুগদা থানা পুলিশ।

বাড়িটির মালিক ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অথরাইজড রিপ্রেজেন্টেটিভ (ট্রেজার) জাকির হোসেন জানান, বৃদ্ধা সাজেদা তার মেয়ে আমেনাকে নিয়ে তিন মাস আগে মাসিক চার হাজার টাকায় দুটি ঘর ভাড়ায় নেন। তারা পেশায় টোকাই ও ভিক্ষুক। মুগদা এলাকায় নাজমা নামে তার আরেক মেয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন।

জাকির হোসেন বলেন, প্রতিদিনই রাস্তা থেকে কুড়িয়ে আনা প্লাস্টিকের বোতলসহ বিভিন্ন জিনিস বস্তায় ভরে ঘরে রাখেন মা ও মেয়ে। একপর্যায়ে ভাঙাড়ির জিনিসপত্র দিয়ে তারা দুই ঘর ভরে ফেলে। এ জন্য তাদের ঘরের বাইরে ঘুমাতে হতো।

এভাবে এক মাস কেটে গেলে তাদের কাছে ভাড়া চাওয়া হয়। কিন্তু তারা গড়িমসি করতে থাকেন। এভাবে কাটে আরও প্রায় দুই মাস। গত কয়েক দিন আগে ভাড়া চাওয়া হলে মেয়ের বাড়ি টাকা আনতে যাচ্ছেন বলে জানান। এর পর তারা সেখানে গিয়ে আর ফেরেননি।

জাকির হোসেন আরও বলেন, ভেবেছিলাম ভাড়া জোগাড় করতে না পারায় তারা আর ফিরবেন না। তাই গত সোমবার সকালে স্থানীয় গণ্যমান্যদের নিয়ে সাজেদা বেগমের ঘর থেকে বস্তার স্তূপ সরিয়ে বাইরে ফাঁকা স্থানে রাখি।

একটি বস্তা অনেক ভারী ছিল। পরে টোকাইরা বস্তা খুলে কাপড়ের ভাঁজে টাকা ও কয়েন দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে প্রায় দেড় বস্তা এক-দুই টাকার নোট ও বিপুল পরিমাণ কয়েন উদ্ধার করে। গণনা করে দেখা যায় সেখানে এক লাখ ৮ হাজার ৬৬০ টাকা এবং কয়েন আছে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মেয়ে নাজমার বাসা থেকে সাজেদা বেগম ও আমেনাকে আনা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে ভিখারিণী সাজেদা বেগম জানান, ১২ তারিখে বাড়ি ভাড়ার টাকার জোগাড় করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় এতদিন তারা আসতে পারেননি। তাদের অবর্তমানে ঘরের তালা ভেঙে টাকার বস্তা, মালপত্র বের করা বাড়িওয়ালার উচিত হয়নি। এগুলো আমার দীর্ঘদিনের ভিক্ষার জমানো টাকা।

মেয়ে আমেনা জানান, বাবা মো. সোবহান মারা গেছেন। পেটের দায়ে গ্রামের বাড়ি বগুড়ার সোনাতলা দড়িহাসরাস থেকে তারা ঢাকায় এসে কোনো কাজ না পেয়ে ভিক্ষা করতেন। ভিক্ষার টাকা বস্তায়, কাপড়ের ভাঁজে রাখতেন মা। টাকা জমানোটা মায়ের নেশা। তার আরও দুই ভাইবোন ছিল। কিন্তু তারাও মারা গেছেন।

এ বিষয়ে মুগদা থানার ওসি প্রলয় কুমার শাহা বলেন, ভিক্ষুক বৃদ্ধা ও তার মেয়ে এ টাকার মালিক। তাদের পাওয়া গেছে।