রাত ১২:০২ বুধবার ২৩শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং

ছাত্রলীগকে নবনির্বাচিত ভিপি নুরের চ্যালেঞ্জ

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : মার্চ ১২, ২০১৯ , ১১:২০ পূর্বাহ্ণ
ক্যাটাগরি : রাজনীতি
পোস্টটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলনের নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর ছাত্রলীগকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।

তিনি বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ করে বললাম যে, আমাদের ভিসি স্যার যদি সুষ্ঠু নির্বাচন দেন, ছাত্রলীগ একটি সদস্য পদও পাবে না। যদি পদ পায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব এবং ছাত্ররা আমাকে যে ভিপি বানিয়েছেন, সেই পদ ত্যাগ করে চলে যাব।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে রাজ ভাস্কর্যের সামনে নুরুল হক নুর এ চ্যালেঞ্জ করেন।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৮ বছর পর যে নির্বাচনটা হচ্ছে, সে নির্বাচনের দিকে সারা দেশের মানুষ তাকিয়ে ছিল। যখন ভোট ডাকাতি কিংবা ভোট না দিতে দেয়ার কারণে জাতীয় নির্বাচনের প্রতি মানুষের অনাস্থা ঢুকে গেছে, নির্বাচন নিয়ে বিরূপ ধারণা তৈরি হয়েছে, সেই জায়গা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে মানুষের প্রত্যাশা ছিল, এর মধ্য দিয়ে তাদের অনাস্থা কিংবা বিরূপ ধারণার পরিবর্তন হবে।

নুর বলেন, আমরা দেখেছি- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দলকানা প্রশাসন তাদের নীল নকশা অনুযায়ী নির্বাচন করেছে। সেই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনকে জয়ী করতে যত রকম কারচুপি করা যায়, সেগুলোর প্রত্যেকটি তারা করেছে।

তিনি বলেন, ‘কারচুপ ও অনিয়ম করে তারা আমাকে এবং আখতারকে আটকাতে পারেনি; কিন্তু বাকিদের আটকাতে পেরেছে। আপনারা লক্ষ্য করলে দেখবেন- শামসুন্নাহার হলে স্বতন্ত্র প্যানেল বিজয়ী হয়েছে। বেগম সুফিয়া কামাল হলেও স্বতন্ত্র প্যানেল নির্বাচিত হয়েছে। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হতো, প্রত্যেকটি হলে ক্ষমতাসীন দলের বাইরে যারা ছিল, তারাই বিজয়ী হতো।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনের এই নেতা বলেন, আমার চাওয়া একটিই- অসংখ্য অনিয়মের ঘটনা আমরা তুলে ধরেছি, কুয়েত মৈত্রী হলে বস্তাভরা ব্যালট পেপার আমরা দেখিয়েছি, সুফিয়া কামাল হলে রাত ২টার সময় ব্যালটবাক্স ঢোকানো হয়েছে, সেগুলো আমরা দেখিয়েছি এবং রোকেয়া হলে যে ব্যালটবাক্স ভরা ছিল, সেগুলো উদ্ধার করতে গিয়ে আমি ছাত্রলীগের লেডি সন্ত্রাসী ও ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি রেজওয়ানুল হক শোভনের নেতৃত্বে হামলার শিকার হয়েছি।

‘আজকে যখন ছাত্রদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়ে এখানে এসেছি, তখনও সেই হাতুড়ি, হেলমেট বাহিনীর সন্ত্রাসীরা টিএসসিতে আমাদের ওপর হামলা করেছে।’

তিনি বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে বলতে চাই- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। এ অগ্নিস্ফুলিঙ্গ নিয়ে খেলবেন না, পুড়ে ছারখার হয়ে যাবেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রীদের যৌন হয়রানিসহ সব অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

নুরুল হক নুর বলেন, আমরা প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছি। এত কারচুপির পরও ছাত্রদের ম্যান্ডেট পেয়ে আমি বিজয়ী হয়েছি। কিন্তু ভিপি হিসেবে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ছাত্রসমাজকে নিয়ে আমি তীব্র আন্দোলন করব।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগ একটি গুজব সংগঠন; তারা নিজেরা গুজব ছড়ায়। নির্বাচন হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অথচ এনএসআই, ডিজিএফআইসহ সব ধরনের গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন এই নির্বাচনে জড়িত ছিল।

‘আপনারা দেখেছেন, ফল ঘোষণা নিয়ে কী নাটক করা হয়েছে। রাত ৩টার সময় ফল ঘোষণা করা হয়েছে। আর একটি পদে যখন আমরা বিজয়ী হয়েছি, তখন সেটিকে বিতর্কিত করতে তারা স্লোগান দিয়ে বেড়াচ্ছে।’

ঢাবি প্রশাসনকে ছাত্রলীগের অপকর্মের সহযোগী আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, যখন আমাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, তখন তাদের কাছ থেকে বিচার পাইনি। ঢাবি প্রশাসনকে বলছি- ছাত্রদের অধিকার নিয়ে খেলবেন না।

‘বেগম রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ, যিনি ভোট কারচুপির সঙ্গে জড়িত, তিনি নাকি আমার ও লিটন দাসহ ছাত্র প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছেন। আমরা ভিপি ও সমাজসেবা পদ ছাড়া বাকি পদগুলোতে ফের নির্বাচন দাবি করছি। ছাত্রদের দাবি ছিল- সুষ্ঠু নির্বাচন। যেহেতু সেটি হয়নি, সেহেতু তাদের প্রতিনিধি হিসেবে আমি আন্দোলন করব।’

তিনি বলেন, ছাত্রলীগ গণরুম, গেস্টরুমের যাদের রাখে, তাদের জোর করে লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখেছিল। কে ভোট দিয়েছে, কে দেয়নি, তার কোনো চিহ্ন দেয়া হয়নি।

‘যারা ভোট দিয়েছে, তারাই আবার লাইনে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে পারেনি। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে প্রতিটি স্বতন্ত্র প্যানেল- এমনকি কেন্দ্রীয় ডাকসুতেও আমাদের পুরো প্যানেল জয়ী হতো। প্রশাসন কারচুপি করে ছাত্রলীগকে জিতিয়ে দিয়েছে’ বলেন নুর।