বিকাল ৪:২০ মঙ্গলবার ২৬শে মার্চ, ২০১৯ ইং

অস্থিতিশীল কেমিক্যালের দাম

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : মার্চ ১০, ২০১৯ , ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
ক্যাটাগরি : গনমাধ্যম,নির্বাচিত
পোস্টটি শেয়ার করুন

পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টায় অগ্নিদুর্ঘটনার পর চলতি মাস থেকে ডিসিসির টাস্কফোর্সের উচ্ছেদের অজুহাতে অস্থিতিশীল হয়েছে কেমিক্যালের বাজারদর। প্রতিটি কেমিক্যালের দাম বাড়ার পাশাপাশি চাহিদামতো কেমিক্যাল পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা।

উচ্ছেদ অভিযানের ফলে গোডাউন বন্ধ রাখা, টঙ্গীতে কেমিক্যাল স্থানান্তরের অজুহাতে পণ্য সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। দেশে প্রতিদিন প্রায় ১৮-২০ হাজার টন কেমিক্যালের চাহিদা রয়েছে। এর বেশিরভাগই পুরান ঢাকার গোডাউন ও কারখানা থেকে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। কিন্তু উচ্ছেদ অভিযানের কারণে ব্যবসায়ীরা অনেকেই বলছেন তাদের গোডাউন বন্ধ। এ ছাড়া টঙ্গীতে স্থানান্তরের জন্যও অনেকে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে এখন কেমিক্যাল বেচাকেনা সরাসরি কম।

গতকাল ও বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার মিটফোর্ড, ইসলামবাগ, শহীদবাগ, শহীদনগর, পোস্তা ইত্যাদি এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, বেশিরভাগ ব্যবসায়ী দোকানের শাটার অর্ধেক খোলা রেখেছেন। অধিকাংশই টাস্কফোর্সের অভিযানের ভয়ে রয়েছেন। এ ছাড়া অনেকেই নতুন কোনো ক্রেতার কাছে কেমিক্যাল বিক্রি করছেন না।

পোস্তার কেমিক্যাল ব্যবসায়ী আহমেদ মিজান বলেন, এখানে বিভিন্ন কারখানার জন্য আমরা কেমিক্যাল মজুদ রাখি। কিন্তু শুধু কেমিক্যাল সরালে কারখানাগুলোর কাঁচামালের জোগান কোত্থেকে আসবে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। দামবৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, দোকানই খুলতে পারছি না ঠিকভাবে। নতুন করে গোডাউনে কেমিক্যালও আনছি না। গোডাউনে কেমিক্যাল সংকট হওয়ার কারণে সরবরাহও কমে যাচ্ছে। যার কারণে কেমিক্যালের দামও বেড়েছে।

মিটফোর্ডের ব্যবসায়ী জিদান হোসেন বলেন, এখন শুধু আগে অর্ডার করা কেমিক্যাল সরবরাহ করছি। আমাদের মজুদ কম বিধায় নতুন ক্রেতার কাছে বিক্রি করছি না। তিনি আরও বলেন, উচ্চ দাহ্য কেমিক্যাল উচ্ছেদ করার কথা থাকলেও সব কেমিক্যালের গোডাউনে উচ্ছেদ চলছে। ফলে মজুদ কম থাকায় দাম বাড়িয়েছেন অনেকে। বর্তমানে বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সব ধরনের কেমিক্যালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফেব্রিক্স, রঙ, ওষুধ, খাদ্যপণ্য, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন কারখানায় কেমিক্যালের প্রয়োজন হয়। বহুল ব্যবহৃত কেমিক্যালগুলোর মধ্যে কস্টিক পারঅক্সাইড অন্যতম।

গত মাসে প্রতিকেজি ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসিডিক অ্যাসিড ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা চুড়িহাট্টির আগুন লাগার আগে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া কাপড় ওয়াশের জন্য গ্লোবাল সল্ট ১৬ টাকা কেজির স্থলে ১৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোডা অ্যাশের দাম ৩৬ থেকে বেড়ে ৩৯ টাকা হয়েছে। হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ১২০-১২২ টাকা দরে বিক্রি হলেও তা বর্তমানে ১৩৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।