দুপুর ২:২৯ মঙ্গলবার ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং

ব্রেকিং নিউজ:

কুমিল্লা সদর দক্ষিণে যাত্রীবাহি বাসচাপায় ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত। | মাধবপুরে দুই কেজি গাঁজা সহ ২ মাদক পাচারকারী আটক | ছেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাইলেন ক্রিকেটার রুবেল | পুত্র সন্তানের বাবা হলেন রুবেল, মা-ছেলে দুজনেই সুস্থ আছেন | মাদক চোরাকারবারীদের ফাঁদে পরে, বিলিনের পথে মাধবপুরের চা শিল্প! | কুমিল্লা সদরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই ষ্কুল শিক্ষার্থী নিহত। আহত-৩ | কুমিল্লায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৫ হাজার পিছ ইয়াবাসহ সাংবাদিক শামীম আটক। | কুমিল্লা লালমাইয়ে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় সিএনজি অটোরিকশার ৫ যাত্রী নিহত।আহত-৩ | সিলেটের প্রতীক কিনব্রিজ রক্ষায় উদ্যোগ গ্রহন | কুমিল্লা সদরে র‍্যাব-১১ অভিযানে ৫ হাজার ৬ শত পিছ ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক |

একটি ‘মেসেজের’ অপেক্ষায় আছেন, প্রতিমন্ত্রী বললেন ‘দিয়েছি’

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : মার্চ ১০, ২০১৯ , ২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
ক্যাটাগরি : দেশজুড়ে,রাজশাহী
পোস্টটি শেয়ার করুন

নাটোরের সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের একটি ‘মেসেজের’ অপেক্ষায় আছেন ওই উপজেলায় আওয়ামী লীগ মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শফিকুল ইসলাম। তাঁর ধারণা, প্রতিমন্ত্রীর মোবাইল থেকে একটি মেসেজ এলেই দলের নেতা-কর্মীরা তাঁর পক্ষে কাজ করবেন। নৌকার কর্মীদের ওপর হামলা এবং এলাকায় নাশকতা বন্ধ হয়ে যাবে।

তবে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক প্রথম আলোকে বলেন, তিনি অনেক আগেই এ বিষয়ে ‘মেসেজ’ দিয়েছেন। সবাইকে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে বলেছেন।

কাল রোববার এ উপজেলায় নির্বাচন। এখানে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকা নিয়ে মাঠে আছেন সেখানকার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম। তিনি ওই উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যানও। বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভোটযুদ্ধে আছেন আদেশ আলী সরদার। ছাত্রদল-যুবদলের সাবেক নেতা এবং উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ছিলেন তিনি। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় সাংসদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন তিনি।

উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ সিংড়ায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে সুকাশ ইউনিয়নের বেলোয়া গ্রামে নৌকার প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তার আগের রাতে শেরকোল ইউনিয়নের তেলিগ্রামে নৌকার প্রায় এক হাজার পোস্টার খুলে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।

বেলোয়া গ্রামের অন্তত ১০ জন ভোটার জানান, আওয়ামী লীগের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বেলোয়া উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠের পাশে একটি টিনের ঘরে তাঁর নির্বাচনী কার্যালয় স্থাপন করেছিলেন। শুক্রবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা কার্যালয়টিতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে ঘরে থাকা সহস্রাধিক পোস্টার, টেবিল, চেয়ার, কাঠের নৌকা, দরজাসহ পুরো ঘরটি পুড়ে যায়।

আজ শনিবার সেখানে গেলে নৌকার এক কর্মী শাজাহান আলী প্রামাণিক বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মীরা নির্বাচনী কার্যালয়টি বন্ধ করার হুমকি দিয়ে আসছিল। আমরা বন্ধ না করে শুক্রবার রাতেও সেখানে নির্বাচনী কাজ করেছি। ঘরে তালা লাগিয়ে রাত ১১টার দিকে আমরা বাড়িতে চলে যাই। গভীর রাতে কার্যালয়টি পুড়তে দেখা যায়। চেষ্টা করেও আগুন নেভানো যায়নি।’

শুক্রবার সকালে শেরকোল ইউনিয়নের তেলিগ্রামে স্থানীয় একটি নদীতে নৌকার অন্তত এক হাজার পোস্টার ভাসতে দেখা যায়। নৌকার কর্মীদের ভাষ্য, বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজন নৌকার ঝোলানো পোস্টার ছিঁড়ে নদীতে ফেলে দিয়েছেন।

এসব ঘটনার বিষয়ে প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শেখ হাসিনার হাত থেকে নৌকা প্রতীক পেয়েছি। তাঁর দেওয়া নৌকার প্রতীকের কার্যালয়ে যাঁরা আগুন লাগাচ্ছে, পোস্টার পোড়াচ্ছে, নদীতে পোস্টার ভাসিয়ে দিচ্ছে, তারা তো আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী হতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী বিএনপি থেকে সদ্য যোগ দেওয়া আওয়ামী লীগের একজন সাধারণ কর্মীকে বিদ্রোহী প্রার্থী করেছেন। তাঁকে নিয়ে আমার বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছেন।’ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বহুবার প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের কাছে আমার পোস্টার ছেঁড়া, পোড়ানো ও কার্যালয় ভাঙচুর ও পোড়ানোর অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু তাঁরা কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। তাই বারবার এসব ঘটনা ঘটছে। আদৌ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে আমি শঙ্কিত।’

তবে বিদ্রোহী প্রার্থী আদেশ আলী সরদার (দোয়াত-কলম) এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘আমাকে চাপে ফেলতে নৌকার লোকজনই এসব করছে।’