বিকাল ৪:৫১ মঙ্গলবার ২৬শে মার্চ, ২০১৯ ইং

ছাত্রীদের জন্য ক্যাম্পাস সুরক্ষিত করব : শিতি

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : মার্চ ৭, ২০১৯ , ৪:২৬ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : বিশেষ প্রতিবেদন
পোস্টটি শেয়ার করুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসকে মেয়েদের জন্য সুরক্ষিত করতে চান আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্র মৈত্রী প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সনম সিদ্দিকী শিতি।

তিনি বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন সামনে রেখে বিশেষ কোনো ইশতেহার দিতে পারছি না। কারণ, আমাদের সমস্যা অনেক বেশি। হল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে। এগুলোর সবই সমাধান করতে চাই।’

তবে একটা কথা জোর দিয়ে বলতে চাই। সেটা হলো- এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে কোনো নারীকে যেন ভয়ভতি নিয়ে চলাফেরা করতে না হয়। তারা যেন সুরক্ষিতভাবে চলাফেরা করতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে চাই।

ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের সংগীত বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্রী শিতি যশোরের কেশবপুরের সন্তান। তার বেড়ে ওঠা রাজনীতিক পরিবারে। বাবা অ্যাডভোকেট আবুবকর সিদ্দিকী ওয়ার্কার্স পার্টির একজন কর্মী।

শিতি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে সবার জন্য বাবাকে কাজ করতে দেখেছি। সেখান থেকেই অনুপ্রেরণা পাওয়া। রাজনীতির মাধ্যমেই সবার জন্য কাজ করতে চাই।’

শিতি বলেন, ‘হলে থাকা, খাওয়া, পরিচ্ছন্নতা, এসব সমস্যারও সমাধান করতে চাই। আমাদের ক্যাম্পাসে কোনো পুষ্টিকর খাবার পাওয়া যায় না। আইবিএ ক্যান্টিনসহ দু’একটি স্থানে যা পাওয়া তারও দাম অরেক বেশি। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জোটে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি নিম্নমানের খাবার। আমি চাই ক্যাম্পাসের কেউ যাতে অভুক্ত বা অর্ধ-পেট খেয়ে না থাকুক। দিনশেষে রুমে গিয়ে যেন তারা শান্তির ঘুম ঘুমাতে পারে। যেন পড়ার একটা পরিবেশ পায়।’

হলগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের রাজনৈতিক প্রোগ্রামে জোরপূর্বক সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন শিতি।

তিনি বলেন, ‘ক্লাস থাকলেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে হয়। কেবল পরীক্ষা থাকলে মওকুফ পাওয়া যায়। ফলে ক্লাসে অনুপস্থিত থাকায় পরীক্ষার ফরও খারাপ হয়ে থাকে।’

এ সমস্যা ছেলেদের বেশি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মেয়েরা এক সময় হলে ঢুকে যায়। কিন্তু রাজনৈতিক বড় ভাইয়েরা হাকিমে বা মধুতে বসলে অনেক ছেলেদের ইচ্ছা না থাকলেও সেখানে যোগ দিতে হয়।’

রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কারণে লাইব্রেরিতেও প্রথম বা দ্বিতীয় বর্ষের ছেলেরা কম দেখা যায় বলে মনে করেন শিতি।

তবে তিনি চান রাজনীতিতে সাধারণ শিক্ষার্থী বিশেষ করে ছাত্রীরা স্বেচ্ছায় যোগ দিন।

এ বিষয়ে শিতি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে এমন একটা পরিবেশ তৈরি করতে চাই যেন মেয়েদের জোর করে মিছিলে নিতে না হয়। নিজেদের গরজেই যেন তারা আসে। ক্যাম্পাসের জন্য, দেশের জন্য কিছু করার চেষ্টা থেকেই তারা যেন আসে।’

আগের তুলনায় মেয়েদের রাজনীতিতে আগ্রহ বেড়েছে বলেও জানান শিতি।

আসন্ন ডাকসু নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সব ঠিকঠাক চলছে। কোনো বাধা আসেনি। আমরা আশা করব এ পরিস্থিতি পরিবর্তন হবে না। ২৮ বছর অপেক্ষার পরে অস্বচ্ছ কিছু হওয়ার কথা ভাবি না। তারপরও একটা কিন্তু থাকে। দেখা যাক।’

আগামী ১১ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ১০টি প্যানেল ঘোষণা করেছে। ঘোষিত প্যানেলগুলোতে ডাকসুর কেন্দ্রীয় পদগুলোতে মাত্র ২৫ নারী প্রার্থী রয়েছেন। এরমধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এ তিনটি শীর্ষ পদে তিনজন নারী প্রার্থী রয়েছেন।