সকাল ৮:৩৫ সোমবার ২৬শে আগস্ট, ২০১৯ ইং

ব্রেকিং নিউজ:

কুমিল্লা সদরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই ষ্কুল শিক্ষার্থী নিহত। আহত-৩ | কুমিল্লায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৫ হাজার পিছ ইয়াবাসহ সাংবাদিক শামীম আটক। | কুমিল্লা লালমাইয়ে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় সিএনজি অটোরিকশার ৫ যাত্রী নিহত।আহত-৩ | সিলেটের প্রতীক কিনব্রিজ রক্ষায় উদ্যোগ গ্রহন | কুমিল্লা সদরে র‍্যাব-১১ অভিযানে ৫ হাজার ৬ শত পিছ ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক | কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামের চিওড়ায় গরু বোঝাই ট্রাক উল্টে তিন গরু ব্যবসায়ী নিহত। | জিজ্ঞাসাবাদের পর মিন্নি গ্রেফতার | বিশ্বকাপের মঞ্চে ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড, ইংলিশদের হাতে উঠবে কি কাপ..? | বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে সুরমার পানি | মিরপুর বেরিবাধে চোর আটক, স্থানীয় সাংসদের আত্মীয় পরিচয়ে বাচার চেষ্টা |

মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বন্ধ করল দুই ব্যাংক

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : মার্চ ৬, ২০১৯ , ১২:৫১ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : অর্থনীতি
পোস্টটি শেয়ার করুন

মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বন্ধ করেছে বেসরকারি এক্সিম ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংক। গ্রাহকের প্রত্যাশিত সেবা দিতে না পারা ও ক্রমান্বয়ে লোকসানে থাকার কারণে এ দুটি প্রতিষ্ঠান তাদের ‘এক্সিম ক্যাশ’ ও ‘আইএফআইসি মোবাইল ব্যাংকিং’ সেবা বন্ধ করে দিয়েছে।

ফলে এখন দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান দুটি কমে ১৬টিতে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে কমেছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক সংখ্যা।

এ বিষয়ে এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, আপাতত আমাদের মোবাইল ব্যাংকিং সেবার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। গত কয়েক মাস ধরেই এ সেবা দেয়া হচ্ছে না। এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মনীতির কারণেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, যেসব প্রতিষ্ঠান এমএফএস এ লাইসেন্স নিয়েছে তাদেরকে সেবার মান বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে এমএফএস এর জন্য সহযোগী প্রতিষ্ঠান করার কথাও বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে দুটি ব্যাংক গত জানুয়ারি থেকে তাদের এমএফএস এর কার্যক্রম বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে। তবে তাদের গ্রহক সংখ্যা খুব সামান্য ছিল ফলে কোনো প্রভাব পড়েনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, এক্সিম ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংক তাদের এমএফএস সেবা বন্ধ করায় জানুয়ারির শেষে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৬টিতে দাঁড়িয়েছে। ফলে দেশে মোট নিবন্ধিত এমএফএস হিসাবের সংখ্যা কমেছে। জানুয়ারি শেষে এমএফএস হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৭২ লাখ ৮৮ হাজার। যা আগের মাসের তুলনায় দশমিক ৩ শতাংশ কম। ডিসেম্বরে হিসাবে এই সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ৭৫ লাখ ২০ হাজার।

এদিকে হিসাবধারীর সঙ্গে সঙ্গে কমেছে সক্রিয় হিসাবের সংখ্যাও। জানুয়ারি শেষে এমএফএস এ সক্রিয় হিসাব সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৯৪ হাজার। যা আগের মাসের তুলনায় ১০ দশমিক ৩ শতাংশ কম। ডিসেম্বরে হিসাবের সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৭৩ লাখ ১৩ হাজার।

আলোচিত সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৯৮ হাজার ৯৯৬ জন। ডিসেম্বরে যা ছিল এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৮৬ হাজার ৪৭৩ জন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ জানুয়ারির মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে মোট লেনদেন হয়েছে ৩৪ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। আলোচিত সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ১১৬ কোটি টাকা। মাসজুড়ে মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবগুলোতে টাকা জমা পড়েছে ১২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা। উত্তোলন করা হয়েছে ১৩ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা। ব্যক্তি হিসাব থেকে ব্যক্তি হিসাবে অর্থ স্থানান্তর হয়েছে পাঁচ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা বিতরণ হয়েছে ৭৪৭ কোটি টাকা। বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ২৭৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা। কেনাকাটার বিল পরিশোধ করা হয়েছে ৪০৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। সরকারি পরিশোধ ২৮৮ কোটি টাকা। এছাড়া অন্যান্য হিসাবে লেনদেন হয়েছে ৫২৭ কোটি টাকা।

২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১১ সালের ৩১ মার্চ বেসরকারি খাতের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালুর মধ্য দিয়ে দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের যাত্রা শুরু হয়। এর পর পরই ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে বিকাশ। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার বাজারের সিংহভাগই বিকাশের দখলে।