বিকাল ৪:২৪ মঙ্গলবার ২৬শে মার্চ, ২০১৯ ইং

বরিশালে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৯ , ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : বরিশাল
পোস্টটি শেয়ার করুন

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আশিষ বাড়ৈ (৪৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এছাড়াও আহত হয়েছেন ১১ জন। শনিবার সকালে এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়নের মরিচবুনিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত আশিষ বাড়ৈ মরিচবুনিয়া গ্রামের অমল বাড়ৈর ছেলে।

সংঘর্ষে গুরুতর আহত নিহতের স্ত্রী স্নিগ্ধা বাড়ৈ, সিমন সরকার, মিলন চৌধুরী, অমল বাড়ৈ, আশালতা বাড়ৈ, হান্নান চৌধুরীকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত ফয়সাল, মিঠুন চৌধুরী, সুজন চৌধুরী, জয় সরকার ও গোপালী বাড়ৈকে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জনান, মরিচবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা সভা রঞ্জন চৌধুরীর ভোগ দখলে থাকা দুই বিঘা জমি নিয়ে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে একই গ্রামের আশিষ বাড়ৈর সঙ্গে মামলা চলছিল। প্রায় এক মাস আগে আদালত আশিষের পক্ষে রায় দেয়। এরপরও আশিষ কোনোভাবেই ওই জমি দখলে নিতে পারছিলেন না। সভা রঞ্জনের বাধার মুখে বার বার জমি দখলে ব্যর্থ হন আশিষ বাড়ৈ।

এর প্রেক্ষিতে আশিষ বাড়ৈ শুক্রবার রাতের আঁধারে লোকজন নিয়ে জমি দখলের জন্য যান। তবে খবর পেয়ে সভা রঞ্জন তার দলবল নিয়ে ফের বাধা দেন। এ সময় উভয়পক্ষের লোকজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় সভা রঞ্জন পক্ষের এক লোকের ধারাল অস্ত্রের আঘাতে আশিষ বাড়ৈ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১১ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে গুরুতর ছয়জন বরিশাল ও বাকি পাঁচজন বানারীপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মেহেদী হাসান জানান, নিহত আশিষ বাড়ৈর শরীরে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গুরুতর আহতদের মধ্য থেকে ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বানারীপাড়া থানা পুলিশের ওসি মো. খলিলুর রহমান জানান, এ ঘটনায় সভা রঞ্জনের ছেলেসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি চারজনকে পুলিশের নজরদারিতে রাখা হয়েছে।