সকাল ৭:২৩ শনিবার ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

ব্রেকিং নিউজ:

কুমিল্লা দেবিদ্বারে ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ। | কুমিল্লা সদরে ডিবি পুলিশের অভিযানে অস্ত্র ও ৫ শত পিছ ইয়াবাসহ এক এক যুবক। | সিলেট চেম্বারের পরিচালনা পরিষদের ২০১৯-২০২১ সাল মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত | কুমিল্লা সদর দক্ষিণে যাত্রীবাহি বাসচাপায় ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত। | মাধবপুরে দুই কেজি গাঁজা সহ ২ মাদক পাচারকারী আটক | ছেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাইলেন ক্রিকেটার রুবেল | পুত্র সন্তানের বাবা হলেন রুবেল, মা-ছেলে দুজনেই সুস্থ আছেন | মাদক চোরাকারবারীদের ফাঁদে পরে, বিলিনের পথে মাধবপুরের চা শিল্প! | কুমিল্লা সদরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই ষ্কুল শিক্ষার্থী নিহত। আহত-৩ | কুমিল্লায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৫ হাজার পিছ ইয়াবাসহ সাংবাদিক শামীম আটক। |

নিউইয়র্কে প্রবাসী আবৃত্তিকারদের মিলনমেলা

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : May 19, 2018 , 6:02 am
ক্যাটাগরি : প্রবাস
পোস্টটি শেয়ার করুন

অনুষ্ঠান প্রায় শুরু, হঠাৎ লাইট বন্ধ, অন্ধকারে হলভর্তি দর্শক বুঝতে পারল না ব্যাপারটা কি হলো, চারদিক থেকে ধ্বনি উচ্চারিত হতে থাকে, আস্তে আস্তে আলো জ্বলতে থাকে, দেখতে পাই আবৃত্তিকাররা মঞ্চের দিকে সম্মিলিত হতে থাকে, তারা উচ্চারিত করতে থাকে আবৃত্তি উৎসবের স্লোগান ‘বিবেকের বন্ধ দরজায়/শব্দের হাতুড়িকে আজ হানো/বোধের বিশ্বাসে, ভাবনাকে মজবুত করে/ভাবো, আরো বেশি করে ভাবো।’

এভাবেই শুরু হয় ‘নিউইয়র্ক আবৃত্তি উৎসব ২০১৮’ এর আয়োজনটি। এই প্রারম্ভিকা স্লোগান সম্মেলকটি পরিকল্পনা ও পরিচালনায় ছিলেন মিথুন আহমেদ। হলভর্তি দর্শদের সামনে গত ১৩ মে রোববার নিউইয়র্ক সিটির উডসাইডস্থ কুইন্স প্যালেসে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়ে গেল প্রবাসের আবৃত্তিকারদের এই মিলনমেলার উৎসব।

নিউইয়র্ক আবৃত্তি উৎসবের সদস্য সচিব গোপন সাহা মঞ্চে আসতে আহ্বান জানান উৎসব পর্ষদের আহ্বায়ক আবীর আলমগীর, উপদেষ্টা মিথুন আহমেদ, উপদেষ্টা মাহতাব সোহেল এবং বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব,আবৃত্তিকার ড. সালেক খানকে।

উৎসব আহ্বায়ক আবীর আলমগীর শুরুতেই তার স্বাগত বক্তব্যে নিউইর্য়কে আবৃত্তি উৎসবের জন্য একটি স্থায়ী পর্ষদ ‍“নিউ ইয়র্ক রিসাইটেশন ফেস্টিভাল কমিটির” চেয়ারম্যান হিসেবে সম্ভাষণ করে এই উৎসবের সৃজন ও উদ্দীপনার মুখ্য প্রাণ শিল্পজন আবৃত্তিকার মিথুন আহমেদের নাম ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, এই প্রবাসে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে আবৃত্তিচর্চার ক্ষেত্রে অভিভাবক হিসেবে মিথুন আহমেদকে সবসময় পেয়েছি। আমরা যারা এই আবৃত্তি চর্চার সাথে যুক্ত আছি, আবৃত্তির জন্য কোনো অনুষ্ঠান, কোনো প্লাটফর্ম আমরাই মনে হয় নিজেদের জন্য তৈরি করতে পারিনি এতো বছরে। সেকারণেই আমরা শুধুমাত্র আবৃত্তিশিল্পীরা আবৃত্তি করব, আবৃত্তি শুনব, আবৃত্তি শোনাব, এই বাসনাটি মনের মধ্যে রেখে আমরা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছিলাম একটি উৎসবের মধ্যদিয়ে সবাই একত্রিত হয়ে মনের ইচ্ছেটাকে যেন স্থাপন করতে পারি।

উৎসব পর্ষদের উপদেষ্টা মিথুন আহমেদ বলেন, যারা আবৃত্তি করবেন শুধু কন্ঠের কারণে নয়, বোধ চিন্তা এবং আদর্শিক জায়গায় থেকে আবৃত্তি করবেন, অন্যান্য শিল্পমাধ্যমের মত আবৃত্তি নয়, আবৃত্তি আসলে চেতনার জায়গা থেকে উৎপত্তি হয়েছে। এই বিষয়টি বিবেচনায় রাখার জন্য আবৃত্তিকারদের অনুরোধ জানান।

এরপর আরেক উপদেষ্টা মাহতাব সোহেল বলেন, ‘এই শহরে আমার অবস্থান বেশি দিনের না, এইখানে যেসব আবৃত্তিকাররা আছেন আগ্রহ প্রবল যার কারণে অনেকগুলো কাজ হয়ে এসেছে, হচ্ছে, হবে। আজকের এই অয়োজনের মধ্যদিয়ে আবৃত্তির এক নতুন দিগন্তে উম্মোচন হলো।’

আয়োজনের উদ্বোধক ড. সালেক খান বলেন, আপনারা যারা আবৃত্তির সঙ্গে জড়িত তাদের প্রতি রইলো শুভেচ্ছা, আবৃত্তি যেন আবৃতি হয়ে না যায়, উচ্চারণের ক্ষেত্রে শুদ্ধ উচ্চারণটাই যেন করি, ভয়টা যেন থাকে। যেদিন ভয়টা শেষ হয়ে যাবে সেদিন আপনার পাঠও শেষ হয়ে পাবে।

আজকে যারা খেলবেন, তারা আবৃত্তিকার, আবৃত্তিশিল্পী, কন্ঠশিল্পী,তাদের প্রতিপাদ্য বিষয় কবিতা, যার আরেক নাম সাহিত্য, যার আরেক নাম রসশাস্ত্র। এই দুই দলই যা আস্বাদন করবেন তা রস, এই প্রেক্ষাগৃহে যা গুঞ্জরিত হবে তাও রস। এই রসের সন্ধানে যারা অবিরাম বিচরণ করেন মননে এবং পার্থিবে তারা বিদগ্ধ।

এই উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে কবি ও ভাষা সংগ্রামী বেলাল চৌধুরী এবং আবৃত্তিকার ও মুক্তিযোদ্ধা কাজী আরিফ-কে।

কবি ও ভাষা সংগ্রামী বেলাল চৌধুরী জীবনচরিত পাঠ করেন মিজানুর রহমান বিপ্লব,এবং আবৃত্তিকার ও মুক্তিযোদ্ধা কাজী আরিফের জীবনচিত্র পাঠ করেন ড. বিলকিস রহমান দোলা।

আবৃত্তি পর্ষদ ও উৎসব লোগো উম্মোচন করেন উদ্বোধক ড. সালেক খান। উৎসবের স্লোগান আমন্ত্রণলিপি ও ঘোষণাপত্র রচনা এবং আবৃত্তি পর্ষদ ও উৎসবের লোগো ডিজাইন করেছেন মিথুন আহমেদ।

উদ্বোধনী বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশনার মাধ্যমেই শুরু হয় আবৃত্তি পর্বের, উদ্বোধনী বৃন্দ আবৃত্তি পরিচালনা করেন শান্তা শ্রাবনী, এরপর শুরু হয় একক আবৃত্তি পর্বের, পর‌্যায়ক্রমে আবৃত্তি করেন শরফুজ্জামান মুকুল, সংঘমিত্রা ভট্টাচার্য্য, জয়া চ্যাটার্জী, লুবণা কাইজার, ফারুক আজম প্রমুখ।

নিটোল সমন্বিত এই সুন্দর আয়োজনে নিউইয়র্ সহ অন্যান্য স্টেটে বসবাসরত প্রতিথযশা আবৃত্তিকাররা তাদের পছন্দের কবিতা নির্বাচন করেছেন।

তাদের কবিতার মাধ্যমে উঠে এসেছে চিঠিপত্র, ছড়া, সমাজ-বোধ, প্রেম ও প্রকৃতি, পূজা, নারী, মা, স্বদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, বিদ্রোহ, দেশাত্মবোধ ও রাজনীতির মতো বিষয়।

গতানুগতিকের প্রথা ভেঙে সকল আবৃত্তিকারদের পরিবেশনার মান ছিল উচ্চতর, সবাই সবার সেরা পরিবেশনা দেবার ব্যাপারে খুবই সজাগ ছিলেন।

অনুষ্ঠান আয়োজন করতে গিয়ে যে কয়েকজনকে খুব বেশি পরিশ্রম করতে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে আশরাফুল হাবিব চৌধুরী মিহির, সেমন্তী ওয়াহেদ, মিজানুর রহমান বিপ্লব, আবীর আলমগীর ও মিথুন আহমেদ।

ভেবেছিলাম তারা তাদের পরিবেশনা ঠিকমতো করতে পারবে তো, যেহেতেু প্রায় প্রথম থেকেই দেখছিলাম তাদের কর্মকাণ্ড। কিন্তু অবাক করার বিষয়, তারা তাদের পরিবেশনার সঙ্গে কার্পণ্য করেনি, তাদের অসাধারণ আবৃত্তির পরিবেশনায় পুরো আয়োজনকে আরো বেশি সমৃদ্ধ করে।

কানায় কানায় পরিপূর্ণ, পিনপতন নীরবতায় প্রায় সকল আবৃত্তিশিল্পীর আবৃত্তি উপভোগ করেছেন আগত দর্শকশ্রোতারা।

সকল আবৃত্তিকারই কম বেশি শব্দ আর আলোর ব্যবহার করেছেন, কিন্তু সেমন্তী ওয়াহেদের নারীকে নিয়েবাইলিঙ্গুয়াল পরিবেশনাতে একটি ছায়ানৃত্য ছিল, তাতে লাল আলো ব্যবহার করা হয়েছে তাতে দেখানো হয়েছে এ্কজন নারীর যে বেঁচে উঠেছে সেটা আবার এই বছরের উৎসবের যে স্লোগানটা ছিলো, তার একটা পূর্ণতা পেয়েছে।

সমাপনী বৃন্দ আবৃত্তি পরিশেনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় আবৃত্তি পর্বের, সমাপনী বৃন্দ আবৃত্তিও পরিচালনা করেন শান্তা শ্রাবনী।

এরপর আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব উপস্থিত দর্শদেরকে ‘নিউইয়র্ক আবৃত্তি উৎসব ২০১৮’ এর কমিটির সদস্যদেরকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং ধন্যবাদ জানান। আয়োজন সমাপনের পূর্বে নিউইয়র্ক আবৃত্তি উৎসব- ২০১৮ এর ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয় এবং জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে নিউইয়র্ক আবৃত্তি উৎসব- ২০১৮ সমাপ্ত হয়।

নিউইয়র্ক আবৃত্তি উৎসব- ২০১৮ এর প্রচারে দায়িত্বে ছিলেন আশরাফুল হাবিব চৌধুরী মিহির। স্মরণিকা সম্পাদনা ও অলংকরণ এর দায়িত্বে ছিলেন নজরুল কবীর আর সহযোগিতায় ছিলেন ড. বিলকিস রহমান দোলা ও মেহের কবীর। স্মরণিকার প্রচ্ছদ পেইন্টিং করেছেন তাজুল ইমাম, গ্রাফিক্সে ছিলেন জাহেদ শরিফ, উৎসব নকশা করেন টিপু আলম।

অনুষ্ঠান চলে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত এগারটা পর্যন্ত। আবৃত্তি উৎসবের আয়োজন নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে শুরু হলেও শেষ সময় পর্যন্ত অনুষ্ঠান হল ছিলো কানায় কানায় পূর্ণ।

নিউইয়র্কে এই প্রথম একটি সফল আবৃত্তি উৎসব হলো, যা আবৃত্তিশ্রোতা তৈরি করার জন্য এটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।