বিকাল ৪:৫১ মঙ্গলবার ২৬শে মার্চ, ২০১৯ ইং

মনোযোগ ধরে রাখতে নতুন জিনিস শিখেছেন মাশরাফি!

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : জানুয়ারি ৮, ২০১৯ , ৭:০৪ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : বিপিএল 2019
পোস্টটি শেয়ার করুন

তিনি কী করে এখনো এত ভালো খেলেন? আসর সেরা ব্যাটিংয়ের বিপক্ষে বারুদ বোলিং করেন? পাঠকদের নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে করছে খুব। তাহলে শুনুন, ম্যাচ শেষে আজ প্রেস কনফারেন্সে প্রশ্ন উঠল, ‘আপনার এমন সাফল্যের পেছনের রহস্য কী?’

এই পারফরমেন্সই শেষ নয়। এমন একটি দুটি পারফরমেন্সকে ঠিক মানদণ্ড ধরে শেষ কথা বলা ঠিক হবে না- এসব বলে বিনয়ী মাশরাফি পাশ কাটিয়ে যেতে যাচ্ছিলেন। পরে বলেছেন, তার এমন সাফল্যের মূল হচ্ছে, ফোকাসড থাকা।

মাশরাফির অনুভব, ‘খেলার প্রতি শতভাগ দৃষ্টি আর মনোযোগটাই আসল। প্রথমত ফোকাসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকদিন আগেও আমি আপনাদের সামনে এসে বলেছিলাম যে, আমার ট্রানজেকশন পার্টটা খুব ডিফিকাল্ট ছিল; কিন্তু আমি বেশ ফোকাসড ছিলাম। আমি যখন যেটা করছিলাম সেটাতে ফোকাস রেখেছি। সম্প্রতি আমি একটা জিনিস ভালো শিখেছি যে, আমি বর্তমানে থাকতে পারি। কারণ এত বেশি শিফটিং হয়েছে যে আমার লাইফে। খেলা, নির্বাচন, খেলা- আমাকে শক্তি দিচ্ছে যে আমি বর্তমানে স্ট্রংলি থাকতে পারছি। নড়াইল থেকে এসে দুদিন অনুশীলনও করতে পারিনি। আমার মনে হয় মানসিকভাবে আমার প্রস্তুতি ভালো ছিল। আমার ক্ষেত্রে আমি বলতে পারি যে, আমি ফোকাসড ছিলাম, আমার খেলতে হবে প্রথম ম্যাচ থেকে।’

কিন্তু স্থানীয় ক্রিকেটাররা তো সেভাবে আলো ছড়াতে পারছেন না। তার কারণ কী? জবাব দিতে গিয়ে স্থানীয় ক্রিকেটারদের কোনো দোষ না খুঁজে উল্টো তারা কম ম্যাচ খেলেন, সেটাকেই বড় কারণ বলে উল্লেখ করেন।

‘আমার মনে হয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা ১৫-২০ জন খেলোয়াড়কে বাদ দিলে বাকিরা শেষ বিপিএলের পর ওভাবে টি-টোয়েন্টি খেলেনি। উইকেটও ব্যাটসম্যানদের জন্য তেমন ভালো না। সুতরাং, এটা তাদের জন্য ডিফিকাল্ট। আবার আপনি যাদের কথা বলছেন বিদেশি ক্রিকেটার, তারা সবাই ওভারঅল ওয়ার্ল্ডে টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট। ওরা সব সময় টি-টোয়েন্টি খেলে। তুলনা করা কঠিন হবে আমাদের লোকালদের জন্য। বাট আপনি যদি তামিম-সাকিব-মুশফিক-রিয়াদ, এদের কথা বলেন ওরা তো পারফর্ম করছে। ইন এন্ড অফ যাবে। যারা জাতীয় দলের বাইরে আছে তাদেরকে আরেকটু সময় দিতে হবে।’

অবশেষে গেইল মাঠে নামলেন। ব্যাট হাতে কিছু করতে না পারলেও দল পেল সহজ জয়। গেইলের মাঠে নামা কতটা স্বস্তির? কতটা আত্ববিশ্বাসের?

মাশরাফির জবাব, ‘গেইলের গত ম্যাচে এনওসি ছিল না বলে খেলেনি। আজ প্রথম মাঠে নামলেন। গেইল মাঠে নামলে একটা অ্যাডভান্টেজ আছে যে, যতক্ষণ মাঠে থাকে একটা হোপ থাকবেই। এক দুই ওভারে আমাদের যেটা প্রয়োজন সেটা আমরা টাচ করতে পারব। আর এই ফরম্যাটে গেইল অলমোস্ট কিং।’

এটা তার বিপিএলের সেরা বোলিং। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারেরও কি স্মরণীয় ম্যাচ? মাশরাফি তা মনে করেন না। তার ভাষায়, ‘এর আগে যে বিপিএলের ম্যাচগুলো খেলেছি সেগুলো স্মরণ করতে পারছি না। যেটা বললাম, আন্তর্জাতিক ম্যাচ হলে অনেক আগেরগুলোও আমি স্মরণ করতে পারব।’

তবে উইকেট পেলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। তা মানতে দ্বিধা করেননি, ‘বিপিএলের পরপরই আমাদেরকে ওয়ানডে ফরম্যাটে ফিরতে হবে। উইকেট পেতে থাকলে, ভালো বোলিং করার আত্মবিশ্বাস থাকবে।’

কুমিল্লার ব্যাটিং লাইনআপ কি আসর সেরা? ‘শুনলে অবাক হবেন, আজকের ম্যাচের আগে ততটা মাথায় ছিল না বিষয়টা। তবে কুমিল্লার ব্যাটসম্যানরা একজন করে সাজঘরে ফেরার পর যখন আরও একজন আসছিলেন, তখন মনে হয়েছে আরে, কুমিল্লার ব্যাটিং লাইন আপ তো অনেক লম্বা!’

এত লম্বা আর ব্যাটিং গভীরতা যে দলের, তাদের এমন করুণ দশা হলো কেন? এটা কি শুধু ভালো বোলিং? না অন্য কিছু? মাশরাফির ব্যাখ্যা, ‘ওদের ব্যাটিংয়ের অনেক ডেপথ; কিন্তু সমস্যা হয়েছে বেশি জলদি অনেক উইকেট পড়ে যাওয়ায়। উইকেট আর্লি পড়ে গেলে যত ব্যাটসম্যানই থাকুক না কেন, আল্টিমেট প্রেসার থাকে। আর্লি উইকেট পড়ে যাওয়াতে আবার রানটাও ছিল না। ওদের ওপর সবসময় প্রেসার ছিল। আমার মনে হয় আর্লি উইকেটটাই ওদেরকে সমস্যা করছে। ওদের উইকেট থাকলে শুরুতে রান কম থাকলেও ওরা পরে আরামসে ১৫০ রানের মতো করতে পারত।’

‘এমপি’ হয়ে খেলা আর সমালোচকদের কথাবার্তা কি কোনো বাড়তি চাপ? নাহ মোটেই তা মনে হয় না তার। তাই মুখে এ কথা, ‘আমি তো প্রত্যেক ম্যাচে অবশ্যই পারফর্ম করতে পারবো না। আগেও বলেছি এটা আমার নিয়ন্ত্রণে না। আমি শুধু আমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। আমি শুধু দেখব আর শুনব। আমার কাজ পারফর্ম করা। এগুলো সব সময় কন্ট্রোলে থাকে না।’