রাত ১১:১৬ শনিবার ২৫শে মে, ২০১৯ ইং

নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির ৫ কারণ !

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : জানুয়ারি ৮, ২০১৯ , ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ
ক্যাটাগরি : রাজনীতি
পোস্টটি শেয়ার করুন

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে নিয়ে বিএনপি প্রকাশ্যে বলছে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। জনরায় উপেক্ষা করা হয়েছে।তার জন্য নির্বাচনে বিজয়ী তাদের ৫ জন এমপি এখনো শপথ নেননি। কিন্তু ভেতরে ভেতরে দলে চলছে আত্মসমলোচনা।

নির্বাচনে ফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান চলছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের সিনিয়র নেতারা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের ভারাডুবির কারণ অনুসন্ধান করছেন।

সেই অনুযায়ী সিনিয়র নেতারা একটি খসড়া প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে খসড়া প্রতিবেদনটি দলের স্থায়ী কমিটিতে আলোচিত হবে।স্থায়ী কমিটিতে অনুমোদনের পর এই চুড়ান্ত প্রতিবেদনটি পাঠানো হবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার কাছে। তিনি এখন লন্ডনে আছে, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা, একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাসহ আরো নানা ধরণের মামলায় তিনি সাজা প্রাপ্ত আসামি।

বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, নির্বাচনে কারচুপি, প্রশাসন এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষপাতের অভিযোগের পাশাপাশি বিএনপি নির্বাচন বিপর্যয়ের বেশকিছু আত্মসমালোচনা মূলক কারণও খসড়া প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়েছে। খসড়া প্রতিবেদনে ফল বিপর্যয়ের যে আত্মসমলোচনা বিএনপি করেছে; সেগুলো হলো:

১. সঠিক মনোনয়ন না দেওয়া: বিএনপির সিনিয়র নেতারা মনে করছেন ক্ষমতাসীন একটি দলের বিরুদ্ধে নির্বাচন করার জন্য যে রকম মনোনয়ন দেয়া উচিৎ ছিল, পরিচিত এবং জনপ্রিয় মুখ সামনে আনা উচিৎ ছিল, তেমন প্রার্থী বিএনপি দিতে পারেনি। ঢাকা এবং চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে পরিচিতিহীন প্রার্থী দেয়া ছিল ভুল সিদ্ধান্ত।

২. বিতর্কিতদের মনোনয়ন দেওয়া: বিএনপি নেতারা তাদের আত্মসমালোচনায় বলছেন, মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক বিতর্কিতদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এদের মনোনয়ন দেয়ায় এলাকায় এবং জাতীয়ভাবে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

৩. দলের মধ্যে কোন শৃঙ্খলা না থাকা: দলের মহাসচিব নোয়াখালীতে গিয়ে দলের কর্মী সভাতেই এই আত্মসমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আমাদের মধ্যে কোন শৃঙ্খলা ছিল না। জানা গেছে প্রকারান্তে তিনি দলের সিনিয়র নেতাদেরই ইঙ্গিত করে একথা বলেছেন। সিনিয়র নেতারা মাঠ পর্যায়ে একেক জন একেক বার্তা দিয়েছেন। দলের নেতৃত্ব ছিল বিভক্ত। ফলে তারা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি।

৪. আগে থেকেই কয়েকজনের নির্বাচন থেকে সরে যাওয়া: বিএনপি তাঁর আত্মসমালোচনায় নির্বাচনের শুরুতেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ নেতারা নির্বাচন থেকে সরে যাওয়াকে বিপর্যয়ের একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নির্বাচনের শুরুতেই নির্বাচন না করার ঘোষণা দেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু, রুহুল কবির রিজভী, হাবিবুন্নবী খান সোহেল, মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের মত নেতারা। এতে কর্মীরা শুরু থেকেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখে।

৫. মাঝপথে বর্জনের আহ্বান: ভোটের আগেই বিএনপির শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতা নির্বাচন বর্জনের পক্ষে রায় দেন। তাঁরা স্ব-প্রণোদিত উদ্যোগে নির্বাচন বর্জনের কথা প্রকাশ্যে বলতে শুরু করেন। দলের কর্মীরা এরকম ঘোষণায় হতাশ হয়ে পড়েন বলে বিএনপি নেতাদের আত্মসমালোচনায় উঠে এসেছে।

এছাড়াও বিএনপির প্রার্থীদের অর্থব্যয়ে গড়িমসি, কর্মীদের উৎসাহিত করার ঘাটতির কথাও উঠে এসেছে বিএনপির আত্মসমালোচনার খসড়া দলিলে।