রাত ১১:৩৬ শনিবার ২৫শে মে, ২০১৯ ইং

শাজাহান খান বাদ পড়ায় খুশি চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিকরা

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : জানুয়ারি ৮, ২০১৯ , ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ
ক্যাটাগরি : রাজনীতি
পোস্টটি শেয়ার করুন

নতুন মন্ত্রিসভায় নেই শাজাহান খান। আর এতে খুশি চট্টগ্রাম বন্দরের অধিকাংশ শ্রমিক-কর্মচারী। আবার বিমর্ষ হয়ে পড়েছেন এমন শ্রমিক-কর্মচারীও রয়েছেন। তবে তারা এ নিয়ে তেমন মুখ খুলছেন না। কিন্তু খুশি হওয়া শ্রমিক-কর্মচারীরা বন্দরে খাওয়াচ্ছেন মিষ্টি। করছেন কোলাকুলিও।

সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এমন দৃশ্য দেখা যায় চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ড থেকে শুরু করে কন্টেইনার টার্মিনালে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে। এমনকি বন্দর কার্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শ্রমিক-কর্মচারীরাও খুশি হয়ে মিষ্টি বিতরণ করছেন একে অপরের মাঝে।

এতে গা-জ্বালা ভাবও দেখা যায় বিমর্ষ শ্রমিক-কর্মচারীদের মাঝে। বন্দরের তিন নম্বর ইয়ার্ডের কর্মচারী আনোয়ার হোসেন জানান, নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান চট্টগ্রাম বন্দরের অনেক উন্নয়ন করেছেন। তার আমলে বন্দরে নতুন নতুন ইয়ার্ড হয়েছে, যন্ত্রপাতি সংগৃহীত হয়েছে অনেক। মোংলা বন্দর লোকসান কাটিয়ে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। নতুন বন্দর হয়েছে পটুয়াখালীর রাবনাবাদে। তবে চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়োগ নিয়ে তিনি সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছেন। চট্টগ্রামের চাকরিপ্রার্থী সবাইকে বাদ দিয়ে তিনি নিজ এলাকার লোকজনকে চাকরি দিয়েছেন। এ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মরত চট্টগ্রামের শ্রমিক-কর্মচারীদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

এ ছাড়া গত অক্টোবর মাসে তার নেতৃত্বাধীন শ্রমিক সংগঠনের ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম বন্দর। বিভিন্ন সময়ে তার বক্তব্য ও অবস্থানের কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। যদিও বিতর্কের মুখে তা প্রত্যাহার করেছেন।

২০১৬ সালে পরিবহন খাতে অনিয়মের কারণে তাকে অভিযুক্ত করে তার অপসারণ দাবি করা হয়েছিল। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর তার করা মন্তব্য সমালোচিত হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা শাজাহান খানের বিরুদ্ধে এবং সড়কে নৈরাজ্য দূরীকরণের জন্য বিক্ষোভ করে।

এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন সময়ে দোষী চালক এবং পরিবহন শ্রমিকদের পক্ষে নমনীয় থাকার অভিযোগেও তাকে অনেকে অভিযুক্ত করে থাকেন। শাজাহান খানের এ ধরনের আচরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো সংযত হয়ে কথা বলতে নির্দেশ দেন তাকে। তিনি জাতীয় শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নির্বাহী সভাপতি হিসেবেও আছেন। নৌ-পরিবহন মন্ত্রী হিসেবে তিনি চট্টগ্রামের স্বার্থরক্ষার চেয়ে নিজের আখের গুছিয়েছেন বেশি।

এ কারণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন থেকেও তার বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বন্দর কার্যালয়ের কর্মকর্তা মসিউদ্দৌলা বলেন, মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও শাজাহান খান নতুন মন্ত্রিপরিষদ থেকে বাদ পড়ছেন-এমন গুঞ্জন ছিল চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত তাই হলো। মন্ত্রিত্বের ডাক তিনি আর পেলেন না।

এতে চট্টগ্রামে বসবাসকারী বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা বেজায় খুশি। বন্দরের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও খুশি। মিষ্টি মুখ করার জন্য তাদের অনেকেই টাকা দিয়েছেন। তাই খুশিতে আমরা মিষ্টি মুখ করছি। সুত্র: মানবজমিন