সকাল ১১:৪১ বুধবার ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

ব্রেকিং নিউজ:

কুমিল্লা দেবিদ্বারে ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ। | কুমিল্লা সদরে ডিবি পুলিশের অভিযানে অস্ত্র ও ৫ শত পিছ ইয়াবাসহ এক এক যুবক। | সিলেট চেম্বারের পরিচালনা পরিষদের ২০১৯-২০২১ সাল মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত | কুমিল্লা সদর দক্ষিণে যাত্রীবাহি বাসচাপায় ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত। | মাধবপুরে দুই কেজি গাঁজা সহ ২ মাদক পাচারকারী আটক | ছেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাইলেন ক্রিকেটার রুবেল | পুত্র সন্তানের বাবা হলেন রুবেল, মা-ছেলে দুজনেই সুস্থ আছেন | মাদক চোরাকারবারীদের ফাঁদে পরে, বিলিনের পথে মাধবপুরের চা শিল্প! | কুমিল্লা সদরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই ষ্কুল শিক্ষার্থী নিহত। আহত-৩ | কুমিল্লায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৫ হাজার পিছ ইয়াবাসহ সাংবাদিক শামীম আটক। |

বান্দরবানে ৩ হাজার নলকূপ অকেজো, পানি সংকটে পাহাড়িরা

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : May 19, 2018 , 3:41 am
ক্যাটাগরি : মুক্তমত
পোস্টটি শেয়ার করুন

জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। অধিকাংশ গ্রামবাসী বাধ্য হয়ে পান করছেন ছোট ছোট খাল ও ঝিরি-ঝরনার দূষিত পানি। আবার সামান্য বৃষ্টিতেও ময়লা পানিতে ভরে যায় ঝিরি-বরনা আর খাল। এতে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হন গ্রামবাসীরা।

অধিকাংশ অঞ্চলের পানির প্রধান উৎস ছোট ছোট খাল, ঝিরি কিংবা ঝরনা। এসব পনির উৎস থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন, বনের বৃক্ষরাজি ধ্বংসের কারণে শুকিয়ে যাচ্ছে ঝিরি ঝরনা, খালের পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হচ্ছে।

এসব এলাকায় রিংওয়েল নলকূপগুলো বেশির ভাগ অকেজো। যার কারণে বাধ্য হয়ে খালের পাড়ে গর্ত করে ময়লা দূষিত পানি ব্যবহার ও পান করছেন গ্রামবাসীরা।

বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তথ্যমতে পুরো জেলায় ৮৬৬১ টি রিংওয়েল ও ডিপ টিউবওয়েল রয়েছে যার মধ্যে ৫৬৮৯টি সচল এবং ২৯৭২টি অচল। জিএফএস লাইন ৮৮ টির মধ্যে ১৭টি সচল, অকেজো ৭১টি।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঘণ্টার পর ঘন্টা পায়ে হেঁটে কয়েক মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ঝিরি-ঝরনা থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছেন পাহাড়ি নারীরা।

টংকাবতী ইউনিয়নের বাইট্টা পাড়ার বাসিন্দা রিংয়ং মুরুং জানান, পাড়ার ঝিরি দিয়ে পাথর ভর্তি ট্রাক চলাচল করায় ঝিরির পানিও ঘোলা হয়ে যাচ্ছে। পাড়ায় পানির খুব অভাব আর অভাবের কারণে পাড়ার লোকজন বাধ্য হয়ে ঝিরির ঘোলা পানি ব্যবহার করছে। খাবার পানি পেতে হলে অনেক দূর পাহাড়ি পথ পায়ে হেঁটে যেতে হয়, নিচু পাহাড়ে নামতে অনেক কষ্ট হয়, নামলে আবার উঠতে আরেক কষ্ট।

বাঘমারা এলাকার থোয়াইনু অং মার্মা জানান,আগে বিভিন্ন ঝিরি-ঝরনা থেকে প্রচুর পরিমাণ পানি পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে অবাধে গাছপালা নিধন ও পাথর আহরণের ফলে আগের মতো ঝিরি-ঝরনাগুলোতে পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

মানুষের পানির চাহিদা মেটাতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী বিভাগ ও বিভিন্ন এনজিও সংস্থা বিগত কয়েক বছরে কয়েক হাজার রিংওয়েল-নলকূপ খনন করে। অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো রিংওয়েল-নলকুপ খননে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানি ওঠে না, অধিকাংশ কল অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।

একটি রিংওয়েল বা নলকূপ দুই আড়াইশ ফুট গভীরে যাওয়ার কথা থাকলেও নামেমাত্র ৩০/৪০ ফুট যায়। তাও আবার বর্ষা মৌসুমে কাজ করে থাকে, যার কারণে শুষ্ক মৌসুম আসার আগেই সেই সব কূপে পানি থাকে না।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বন ও ভূমি সংরক্ষণ বান্দরবান চ্যাপ্টার এর সভাপতি জুয়ামলিয়াম আমলাই জানান, প্রাকৃতিক বন ও বনাঞ্চলে গাছপালা না থাকায় জেলায় পানির স্তর আরও নিচে নেমে গেছে। এছাড়া পাহাড়ে ঝিরি-ছড়া ও ঝরনার পাশে কোনো ধরনের গাছপালা উদ্ভিদের অস্তিত্ব নেই। তাই এলাকায় পানির অভাব দেখা দিয়েছে।

এই ব্যাপারে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সোহরাব হোসেন জানান, বান্দরবান পার্বত্য জেলায় নির্বিচারে বৃক্ষনিধন, অবাধে পাথর উত্তোলন ও অপরিকল্পিত জুম চাষের ফলে জেলায় পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে তাই পানির অভাব দেখা দিয়েছে।