রাত ১০:৪২ রবিবার ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

ব্রেকিং নিউজ:

কুমিল্লা দেবিদ্বারে ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ। | কুমিল্লা সদরে ডিবি পুলিশের অভিযানে অস্ত্র ও ৫ শত পিছ ইয়াবাসহ এক এক যুবক। | সিলেট চেম্বারের পরিচালনা পরিষদের ২০১৯-২০২১ সাল মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত | কুমিল্লা সদর দক্ষিণে যাত্রীবাহি বাসচাপায় ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত। | মাধবপুরে দুই কেজি গাঁজা সহ ২ মাদক পাচারকারী আটক | ছেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাইলেন ক্রিকেটার রুবেল | পুত্র সন্তানের বাবা হলেন রুবেল, মা-ছেলে দুজনেই সুস্থ আছেন | মাদক চোরাকারবারীদের ফাঁদে পরে, বিলিনের পথে মাধবপুরের চা শিল্প! | কুমিল্লা সদরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই ষ্কুল শিক্ষার্থী নিহত। আহত-৩ | কুমিল্লায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৫ হাজার পিছ ইয়াবাসহ সাংবাদিক শামীম আটক। |

গ্যাস থাকছে না ঢাকার বাসা-বাড়িতে, এলএনজিতেই ভরসা

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : May 19, 2018 , 3:33 am
ক্যাটাগরি : জাতীয়
পোস্টটি শেয়ার করুন

গ্যাস সংকট নিয়ে শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান। রোজা শুরুর আগে থেকেই রাজধানীসহ সারাদেশে যে গ্যাস সংকট ছিল তা এখন আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। আগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়িতে গভীর রাতে গ্যাসের চাপ থাকলেও এখন একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না।

স্বাভাবিক অবস্থায় যেখানে গ্যাসের গড় চাপ থাকার কথা ছয় পাউন্ড সেখানে এখন গড়ে দুই পাউন্ডের বেশি পাওয়া যাচ্ছে না। এসব কারণে এখন অনেক গ্রাহকই গ্যাসের চুলার বিকল্প হিসেবে অনেকে সিলিন্ডার গ্যাস ও কেরোসিন চুলা ব্যবহার করছেন।

রাজধানী ও এর আশপাশ এলাকাতে গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে থাকা তিতাস গ্যাস এন্ড ট্রান্সমিশন কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীতে গ্যাসের সংকট আগেও ছিল। রমজানে চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণেই এ সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। এ ছাড়া রাজধানী ও এর আশেপাশের এলাকাতে এখনো অবৈধ গ্যাস সংযোগ সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। অবৈধ সংযোগও গ্যাস সংকটের একটি কারণ।

তারা বলছেন, আমাদানিকৃত এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) জাতীয় গ্রিডে যোগ হলে এ সংকট অনেকটাই কমে আসবে। চলতি মাসের ২৫ তারিখের পর যে কোনোদিন এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হবে বলে ওই কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া গ্যাস সরবরাহের চাপ ঠিক রাখতে রমজানে সিএনজি স্টেশন ছয় ঘণ্টা বন্ধ রাখা হচ্ছে।

তিতাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মসিউর রহমান সারাবাংলাকে জানান, চাহিদা অনুযায়ী গ্যাসের সরবরাহ না থাকার কারণে রমজানে এই সংকট তৈরি হয়েছে। সরবরাহ কম হলে স্বাভাবিকভাবে গ্যাসের চাপও কমে যায়। তবে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি যোগ হলে এই সমস্যা অনেকখানি কমে আসবে।

তিনি জানান, চট্টগ্রামে যখন এলএনজি যোগ হবে তখন পুরো গ্যাস রাজধানী ও এর আশপাশে দেওয়া হবে। এলেঙ্গা থেকে সরাসরি রাজধানীতে গ্যাস ঢুকবে। আশা করছি তখন আর এই সমস্যা থাকবে না।

এ কর্মকর্তা আরও জানান, শুধু রাজধানীতেই তিন’শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে ১৫০ থেকে ১৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।

রমজান শুরুর আগের দিন বৃহস্পতিবার (১৭ মে) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দফায় দফায় পাইপলাইনের গ্যাসের দাম বাড়ানো হলেও সরবরাহ নির্বিঘ্ন হচ্ছে না। এই অবস্থায় ভোক্তা হিসেবে টাকার বিপরীতে গ্রাহকরা সেবা পাচ্ছেন না। এ নিয়ে কোথাও অভিযোগও করা যাচ্ছে না। এর ফলে শহরের বেশির ভাগ এলাকার আবাসিক গ্রাহকরা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

গ্রাহকরা জানান, রোজা শুরু আগে থেকে গ্যাস সংকট থাকলেও দিন বা রাতের একটি নির্দিষ্ট সময়ে গ্যাস পাওয়া যেত এবং চাপও ঠিক থাকত। কিন্তু রোজা শুরুর কয়েকদিন আগে থেকেই গ্যাস সংকট প্রকট আকার ধারণ করতে থাকে।

রাজধানীর গ্রীন রোডের আল আমিন রোডের বাসিন্দা জওহর হোসেন এ প্রতিবেদককে জানান, রমজানের আগের দিন রাত আনুমানিক তিনটার দিকে গ্যাসের চুলা মিটমিট করে জ্বলতে শুরু করে। এর আগে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত অবধি কোনো গ্যাস সরবরাহ ছিল না। আর গভীর রাতে যে গ্যাসের চাপ পাওয়া গেল তাতে রান্নার কাজ করা সম্ভব নয়।

তিনি জানান, উপায়ন্তর না দেখে শেষ পর্যন্ত পরিবারের সবাই মিলে হোটেলে গিয়ে সেহরি খেতে হয়েছে।

গ্রাহকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, রাজধানীর কোনো কোনো এলাকায় দিনের বেলায় অল্প চাপে গ্যাস সরবরাহ থাকলেও রাতে থাকে না। আবার কোন এলাকায় দিনের বেলায় গ্যাস থাকে না। গভীর রাতে অল্প চাপে গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যায়।

রাজধানীর সবচেয়ে বেশি গ্যাসের সংকট হচ্ছে রামপুরা, বাড্ডা, মগবাজার, খিলগাঁও, জুরাইন, ধানমন্ডি, গ্রীণরোড, কাঠাঁল বাগান, তেজকুনীপাড়া, আমতলা, রাজাবাজার, মনিপুরিপাড়া, তেজতুরী বাজার, নাখালপাড়া, পশ্চিম রাজাবাজার, পূর্ব রাজাবাজার, মিরপুর, কাজীপাড়া, মোহাম্মদপুর এবং পুরান ঢাকার কয়েকটি এলাকা।

তিতাসের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, রাজধানীতে বৈধ গ্যাসের সংযোগ রয়েছে ২৩ লাখ পাঁচ হাজার ২৩১টি। আর দুই লাখেরও বেশি অবৈধ সংযোগ। এ ছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। হিসেব অনুযায়ী বৈধ আবাসিক সংযোগে দৈনিক গ্যাস ব্যবহৃত হয় ২৪ কোটি ৪৮ লাখ ঘনফুট, যা মোট সরবরাহকৃত গ্যাসের ১২ শতাংশ। আর বর্তমানে আবাসিক খাতে গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ২৭ কোটি ঘনফুট।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে রমজানে রাজধানীতে গ্যাসের সংকট নিয়ে বলেছেন, এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার পর আর গ্যাস সংকট থাকবে না। এ জন্য আর অল্প কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে