রাত ১১:১৫ শনিবার ২৫শে মে, ২০১৯ ইং

দুর্নীতি রোধই মন্ত্রীদের বড় চ্যালেঞ্জ

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : জানুয়ারি ৭, ২০১৯ , ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : রাজনীতি
পোস্টটি শেয়ার করুন

স্বাধীনতার প্রায় অর্ধশত বছরে বহু দূর এগিয়েছে দেশ। গরিবের খোলস বদলে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের চাদরে ঢাকা। ধারাবাহিক উন্নয়নে বিস্ময় প্রকাশ করছেন বিশ্বনেতারাও। উদ্যোক্ততা, প্রবাসী আর গার্মেন্টস শ্রমিকের আয়ে ভর করে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

তবে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের সারথি যেন অভিশপ্ত দুর্নীতি। এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের অন্তরায় এই মরণব্যাধি। দুর্নীতির করালগ্রাসে আমজনতা। রাষ্ট্রের সর্বত্রই দুর্নীতির থাবা।

বেকার সমস্যার সমাধান এবং দুর্নীতি রোধই হচ্ছে এই সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ

আরও পড়ুন >> শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ফের যাত্রা শুরু

দুর্নীতি রোধে যাদের ভূমিকা রাখার কথা তারাই গেছেন দুর্নীতির বনে। ঘুষ না দিলে কাজ হয়, এমন দফতর খুঁজে পাওয়াই দায়! দুর্নীতির অভিযোগ জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের বিরুদ্ধেও। দুর্নীতি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।

এবারের মন্ত্রিসভায় বাদ পড়া মন্ত্রীর সংখ্যাই দীর্ঘ। সরিয়ে দেয়া হয়েছে প্রভাবশালী মন্ত্রীদেরও। কী কারণে মন্ত্রিসভায় এমন রদবদল, তা এখন পর্যন্ত স্পষ্ট না হলেও গুঞ্জন আছে দুর্নীতি আর দুঃশাসন রোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমনই চমক।

নির্বাচন নিয়ে যে বিতর্ক ছিল তার খানিক ঢাকা পড়েছে নবগঠিত মন্ত্রিসভার আলোচনায়। মন্ত্রিসভার চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হলেও শেখ হাসিনার দূরদর্শিতাকে অনেকেই প্রশংসার চোখে দেখছেন। বিশ্লেষকরা কেউ কেউ মনে করছেন, ভারত ও চীনকে একসঙ্গে পাশে রেখে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের পররাষ্টনীতিতে যে পরিবর্তন এনেছেন, তার ফল মিলেছে এবারের নির্বাচনে। আর নতুন মন্ত্রিসভার চমক দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বার্তা দিলেন দেশবাসীকে।

ভোটের বিজয় বাস্তবে রূপ দিতে মন্ত্রীগণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে একাট্টা হবেন

অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন আছে। আর রাজনীতি নিয়েও চ্যালেঞ্জ আছে। এই চ্যালেঞ্জ দূর করার একমাত্র পথ হচ্ছে দুর্নীতি দূরীকরণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা। সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিতা না থাকলে ভোটের বিতর্ক জিইয়ে থাকবে।

আরও পড়ুন >> ব্যর্থ হলে মাঝপথে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হবে : কাদের

তিনি বলেন, বেকার সমস্যার সমাধান এবং দুর্নীতি রোধ করাই হচ্ছে এই সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। শেখ হাসিনা হয়ত কঠোর অবস্থানে যাবেন কিছু নীতিতে। যার ইঙ্গিত পেলাম নতুন মন্ত্রিসভার গঠনের মধ্য দিয়ে। এবারের মন্ত্রিসভায় বেশির ভাগই নতুন এবং তরুণ। ঝুঁকি থাকলেও মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাওয়া সদস্যদের নিয়ে আমি আশাবাদী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, এবারের মন্ত্রিসভায় নবীন ও প্রবীণদের সমন্বয় ঘটেছে। তরুণ ও উদ্যোমী নেতাদের ওপর আমার বরাবরই বিশ্বাস রয়েছে। চারবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই টিম সঠিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারবেন বলে মনে করি।

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সমঝোতার রাজনীতির কোনো বিকল্প নেই

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু তরুণদের নিয়েই রাজনীতি করতেন। শেখ হাসিনাও তারুণ্যের জয়গান গান। তরুণ মন্ত্রীরা দেশবাসীর আবেগ ও অনুভূতি বুঝতে পারবে বলে মনে করি। বিশেষ করে ভোটের বিজয় বাস্তবে রূপ দিতে মন্ত্রীগণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে একাট্টা হবেন বলে আশা রাখি।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমার ধারণা বিতর্কিত বলেই পুরাতনদের বাদ দেয়া হয়েছে। এবার তরুণ, মেধাবীরা মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, তারা জনগণের দাবিকে গুরুত্ব দেবেন কিনা?

আরও পড়ুন >> দুর্নীতি করলে ছাড় নয়, বললেন নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ তার ইশতেহারে সুশাসন প্রতিষ্ঠার স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে। এটি করতে হলে সমঝোতার রাজনীতির কোনো বিকল্প নেই। বিভাজিত রাজনীতিতে যুদ্ধাংদেহী অবস্থায় দলগুলো। যদি সমঝোতার রাজনীতির মাধ্যমে এই পরিস্থিতির অবসান না ঘটে, তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। আর জনগণের ক্ষমতায়নে সরকার যত দ্রুত উপলব্ধি করতে পারবে, তত দ্রুত সুশাসন প্রতিষ্ঠা পাবে।