বিকাল ৩:৫৭ মঙ্গলবার ২৬শে মার্চ, ২০১৯ ইং

পুনর্নির্বাচন দাবির সঙ্গে দ্বিমত করেননি কূটনীতিকরা : ড. কামাল

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : জানুয়ারি ৬, ২০১৯ , ৭:০৩ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : রাজনীতি
পোস্টটি শেয়ার করুন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভালো হয়নি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের এমন অভিযোগের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেননি ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকরা।

রোববার সন্ধ্যায় কূটনীতিকদের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক শেষে ফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের কাছে এ দাবি করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৫০ বছর উদযাপন করব সবাই মিলে কিন্তু দুঃখের বিষয় নির্বাচনে তা কীভাবে ধ্বংস হয়ে গেল। আমাদের আকাঙ্ক্ষিত নির্বাচন হয়নি তাই আমরা পুনর্নির্বাচন দাবি করছি।

আপনাদের অভিযোগের বিষয়ে তারা কী বলল এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, আমার তো মনে হয় তারাও একই বিষয় দেখেছেন। আমরা যেটা দেখেছি তারাও সেটা মনে করছেন।

বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে তাদের কোনো আশ্বাস পেয়েছেন কি-না এমন প্রশ্নে কামাল হোসেন বলেন, আমাদের কথা হলো যা হবার তা হয়ে গেছে এখন ভালো একটা নির্বাচন হোক, ভালো সমাজ নির্মাণের জন্য। পুনরায় নির্বাচনের জন্য তারা সরকারকে চাপ দেবে কি-না এমন আশ্বাস দিয়েছেন কি-না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা তো আবেদন রাখছি একটা ভালো নির্বাচনের জন্য। এক্ষেত্রে তারা জনগণের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে কারও বিপক্ষে না। এছাড়া তারা তো সরকারের শুভাকাঙ্ক্ষী আর সরকারও তো চায় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা হোক।

বৈঠক থেকে বের হয়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি কূটনীতিকদের বুঝাতে আমরা সক্ষম হয়েছি। তারা ও আমাদের কথা বুঝেছেন এবং আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা তাদের কাছে নির্বাচনের কিছু ডকুমেন্ট দিয়েছে যে নির্বাচনের আগের দিন ও পরের দিন কী হয়েছে। সেই সঙ্গে ডকুমেন্ট অনুসারে আমরা তাদের একটা পেনড্রাইভ দিয়েছি, যাতে তারা দেখতে পারেন নির্বাচনের আগের এবং পরের দিন কী হয়েছিল।

ঐক্যফ্রন্টের এই নেতা আরও বলেন, কূটনৈতিকরা সবাই ধৈর্য সহকারে আমাদের কথা শুনেছেন এবং শোনার পরে তারা আমাদের একটা প্রশ্ন করেছেন এখন কী করবেন নির্বাচন তো হয়ে গিয়েছে।

জাফরউল্লাহ বলেন, আমরা তাদের এই প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছি আমরা পুনরায় একটা ফেয়ার নির্বাচন চাই যে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র মুক্তি পাবে। তারা এতটুকু বুঝিয়েছে যে নির্বাচনটা ফেয়ার হয়নি।

নির্বাচনের কী কী বিষয়ে আপনারা তুলে ধরেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে যা ঘটেছে আমরা সেটা তাদের সামনে তুলে ধরেছি। তারা আমাদের জানিয়েছেন যে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন।

ঐক্যফ্রন্টের যে ৭ জন বিজয়ী হয়েছেন সে বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি-না জানতে চাইলে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এটা প্রাইভেটভাবে একজন অ্যাম্বাসেডর জিজ্ঞাসা করেছেন।

এর আগে বিকেল সোয়া ৪টায় রাজধানীর হোটেল আমারিতে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক চলে প্রায় ছয়টা পর্যন্ত।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন, ফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ধানের শীষের প্রার্থী গোলাম মাওলা রনি, আফরোজা আব্বাস, কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনক চাঁপা।

এছাড়া কূটনীতিকদের মধ্যে সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউএনডিপি, জাপান, ইউএসএ, ইউকে, ফ্রান্স, মরক্কো, পাকিস্তান, নেপাল, নেদারল্যান্ড, মালয়েশিয়া, স্পেনসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।