বিকাল ৩:০২ শুক্রবার ১৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং

সেই গৃহবধূর সঙ্গে দেখা করল ঐক্যফ্রন্ট

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : জানুয়ারি ৫, ২০১৯ , ৮:২৫ পূর্বাহ্ণ
ক্যাটাগরি : রাজনীতি
পোস্টটি শেয়ার করুন

ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ায় নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য বাগ্যা গ্রামে গণধর্ষণের শিকার সেই গৃহবধূর সঙ্গে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে দেখা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

আজ শনিবার (৫ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে ওই গৃহবধূর সঙ্গে দেখা করেন তারা।

এর আগে গণধর্ষণের শিকার ওই নারী ও তার পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে রওনা হন মির্জা ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল।

সফরে ফখরুলের সঙ্গে রয়েছেন নোয়াখালীর ওই আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব।

এ ছাড়া কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের সিদ্দিকী, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, হারুনুর রশীদ, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌথুরী এ্যানি, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সমাজকল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, কেন্দ্রীয় নেতা রেহানা আখতার রানু, সৈয়দ আসিফা আশরাফী পাপিয়া এই সফরে রয়েছেন।

পথে কুমিল্লায় যাত্রাবিরতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগ এবং তাদের অধীনস্ত প্রশাসন গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে।

এসময় তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মধ্যদিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হলো। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে, ভোটের দিন ও পরে সহিংসতার মাধ্যমে গোটা দেশে একটা সহিংস ত্রাস এবং নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা দেখেছি, নোয়াখালীতে আমাদের এক বোন ধর্ষিত হয়েছেন। আমরা এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার নিন্দা জানিয়েছি। সারা দেশে সহিংসতারও নিন্দা জানিয়েছি।

আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা জনগণের কাছে জানাচ্ছি, এই সহিংসতা প্রতিরোধ করার।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আপনারা যারা দায়িত্বে আছেন, বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের কাছে আমরা বলেছি— এই সহিংসতা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে। তাদের উচিত হবে, এই সহিংসতা বন্ধ করা।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচনের দিন রাতে ওই নারীর স্বামী-সন্তানকে বেঁধে তাকে পিটিয়ে আহত করা হয় এবং ধর্ষণ করা হয়। নির্যাতনের শিকার নারীর পরিবার জানায়, ভোটকেন্দ্রে কথাকাটাকাটির জেরে এই ঘটনা ঘটানো হয়। ডাক্তারি পরীক্ষায় ওই নারীকে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতারও করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

উল্লেখ্য, নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিরাজ উদ্দিনের স্ত্রী গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নোয়াখালী-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মো: শাহাজাহানকে ধানের শীষে ভোট দিতে কেন্দ্রে যান। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের ১৫-১৬ জন তাকে ঘিরে ধরে নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য চাপ দেন। কিন্তু তিনি ধানের শীষ ভোট দেন। এ নিয়ে তাদের সাথে ওই গৃহবধূর কথা কাটাকাটি হয়।

সেদিন রাত ১২টায় সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা রুহুল আমিনের নির্দেশে ১০-১৫ জন সিরাজের বাড়িতে গিয়ে পুলিশ পরিচয় দিয়ে দরজা খুলতে বলেন। সিরাজ দরজা খুলে দিলে মোশারেফ, সালাউদ্দিন, সোহেল, নেঞ্জু, বেচু, জসিম, সোয়েল, কালাম, আবু, স্বপন, আনোয়ার, বাদশা আলম, হানিফ, আমির হোসেনসহ ১৫-১৬ জন ঘরে প্রবেশ করে সিরাজ ও তার ছেলেমেয়েদের হাত-পা বেঁধে ঘরে রেখে তার স্ত্রীকে টেনে-হিঁচড়ে ঘরের বাইরে নিয়ে মারধর ও গণধর্ষণ করে ভোরে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন নির্যাতিত গৃহবধূকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ন্যক্কারজনক এ ঘটনার পর গত বুধবার দুপুরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ৩ সদস্যের একটি টিম ও বিকেলে পুলিশের চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

এ দিকে এ ঘটনার বিচারের দাবিতে নোয়াখালী সচেতন ছাত্রসমাজের ব্যানারে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা শহর মাইজদী টাউনহল মোড়ে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতশত শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করে।