দুপুর ২:৪১ শুক্রবার ১৯শে জুলাই, ২০১৯ ইং

হাল ছাড়ছে না ঐক্যফ্রন্ট, নতুন পদক্ষেপে আগাচ্ছে

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : জানুয়ারি ৫, ২০১৯ , ৫:৩৪ পূর্বাহ্ণ
ক্যাটাগরি : রাজনীতি
পোস্টটি শেয়ার করুন

একদাশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ভরাডুবির পরও হাল ছাড়ছে না ঐক্যফ্রন্ট, নিচ্ছে নানান নতুন পদক্ষেপে। আপাতত আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে জোটটি। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক মহলকে বুঝিয়ে তাদের মাধ্যমেও সরকারকে চাপে রাখতে চায় তারা। এ ছাড়া জোটটির বাইরেও যেসব দল ভোট ডাকাতির কথা বলছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন শুরু করতে চান বলে জানা গেছে।

ঐক্যফ্রন্ট সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনপরবর্তী বৃহত্তর আন্দোলনের জন্য গত ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীর মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ঐক্যফ্রন্টর অন্যতম নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে বাম গণতান্ত্রিক জোটের শরিক দলগুলোর সঙ্গে ও চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে কথা বলার জন্য জেএসডির সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের আরেক শীর্ষ নেতা আ স ম আবদুর রবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনে প্রতিকার চাইবেন ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের প্রার্থীরা। প্রত্যেক আসন থেকে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করবেন। এর আগে প্রত্যেক আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হবে।

সূত্রমতে, আসন ধরে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করার পাশাপাশি নির্বাচনে যেসব দল ভোট ডাকাতির অভিযোগ তুলেছে, সেগুলোকেও মামলা করার উদ্যোগ নিতে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু করেছেন বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। নির্বাচনের ফল বাতিল করে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের কর্মসূচির ধরন কী হবে তা নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা আলোচনা শুরু করেছেন। তবে তাড়াহুড়া করে আন্দোলনে না নেমে সরকারবিরোধী সব দলকে সম্পৃক্ত করে রাজপথে নামতে চাইছেন তারা।

গত বৃহস্পতিবার ঐক্যফ্রন্টের ৩০০ আসনের প্রার্থীদের বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার বিষয় নিয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের জেরে বৈঠকের মাঝামাঝি বের হয়ে আসেন বেশ কয়েকজন নেতা। তাদের বক্তব্য হলো নির্বাচনের আগে দাবি-দাওয়া নিয়ে একাধিকবার নির্বাচন কমিশনে গেছে ঐক্যফ্রন্ট। নির্বাচনের ফল বর্জন করে প্রার্থীসহ সেই কমিশনে তারা আবার কেন যাবে স্মারকলিপি দিতে। স্মারকলিপি কর্মসূচিতে দ্বিমত পোষণ করেন বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সিনিয়র একজন সদস্য। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে কোনো লাভ হবে না। যে নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সক্ষমতার পরিচয় দেয়নি, সেই কমিশন এখন কী করবে।

এ বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমি মামলা করব। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছেও অভিযোগ জানাব। আমরা চাইব যেসব প্রার্থী তারাও যেন আসনভিত্তিক অভিযোগ করবেন।

গণফোরাম সূত্র জানায়, আগামী ৫ তারিখ দলের বর্ধিতসভায় তাদের দুজন নবনির্বাচিত এমপির শপথ নেওয়া না নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। তবে গণফোরামের কার্যনির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, একাদশ নির্বাচন কেমন হয়েছে তা দেশবাসী জানে। পুলিশ-প্রশাসনকে ব্যবহার করে ভোট চুরি করা হয়েছে। এ নির্বাচনে যদি গণফোরাম তথা ঐক্যফ্রন্টের কেউ শপথগ্রহণ করে বা সংসদে যায়, তা হলে তারা হবে সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি। কারণ এই নির্বাচনের ফল শুধু ঐক্যফ্রন্টই নয়, দেশবাসী প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিএনপির একটি সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে নতুন নির্বাচনের দাবি জানালেও খুব শিগগির আন্দোলনে নামছে না বিএনপি। দলটির একাধিক নেতা মনে করেন, ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে নির্বাচনে ভোট ডাকাতির অভিযোগে কর্মসূচি দিলেও সক্রিয়ভাবে রাজপথে নামা ঠিক হবে না। অন্তত আগামী তিন থেকে চার মাস নেতাকর্মীদের বিশ্রাম দেওয়া উচিত এবং সরকারের রাজনৈতিক আচরণ ও কৌশল গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এর পরই নতুন নির্বাচনের দাবি নিয়ে রাজপথে শক্ত আন্দোলনে যেতে চাইছেন বিএনপি নেতারা। গত ৩১ ডিসেম্বর দুই ঘণ্টার বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এসব বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, ঐক্যফ্রন্ট ও ২০-দলীয় জোটের পরবর্তী করণীয় কী হবে এ নিয়েও আলোচনা হয়। নির্বাচনের বিস্তারিত তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করে দেশি-বিদেশি সংস্থা ও গণমাধ্যমকে অবহিত করবে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য জানান, আমি তো মনে করি দলের নেতৃত্বের পুনর্গঠন হওয়া দরকার। আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে। তারা সরকার গঠন করবে। এই সরকারের নীতি কী হয়, আচরণ কী এসব দেখেই পরবর্তী কর্মপন্থার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আগামীতে যে কোনো ধরনের কর্মসূচি দেওয়ার আগে নেতাকর্মীদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নেওয়া হবে। এর পর সংগঠন পুনর্গঠনে মনোযোগ দিতে হবে। স্থায়ী কমিটির প্রবীণ এক সদস্য বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এখন কাজ হবে দেশে যারা কাজ করছেন, তাদের ওপর বিশ্বাস রাখা এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে স্থায়ী কমিটির বর্তমান সদস্যদের ওপর ভরসা করা।-দৈনিক আমাদের সময় অনলাইন