সকাল ৮:০৯ শনিবার ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

ব্রেকিং নিউজ:

কুমিল্লা দেবিদ্বারে ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ। | কুমিল্লা সদরে ডিবি পুলিশের অভিযানে অস্ত্র ও ৫ শত পিছ ইয়াবাসহ এক এক যুবক। | সিলেট চেম্বারের পরিচালনা পরিষদের ২০১৯-২০২১ সাল মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত | কুমিল্লা সদর দক্ষিণে যাত্রীবাহি বাসচাপায় ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত। | মাধবপুরে দুই কেজি গাঁজা সহ ২ মাদক পাচারকারী আটক | ছেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাইলেন ক্রিকেটার রুবেল | পুত্র সন্তানের বাবা হলেন রুবেল, মা-ছেলে দুজনেই সুস্থ আছেন | মাদক চোরাকারবারীদের ফাঁদে পরে, বিলিনের পথে মাধবপুরের চা শিল্প! | কুমিল্লা সদরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই ষ্কুল শিক্ষার্থী নিহত। আহত-৩ | কুমিল্লায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৫ হাজার পিছ ইয়াবাসহ সাংবাদিক শামীম আটক। |

এজলাসে হট্টগোল, শুনানি ছেড়ে চলে যেতে চাইলেন প্রধান বিচারপতি

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : May 9, 2018 , 3:31 pm
ক্যাটাগরি : আদালত,নির্বাচিত
পোস্টটি শেয়ার করুন

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও দুদকের করা আপিল শুনানিতে এজলাসে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। পরে আদালতের হস্তক্ষেপে দুই পক্ষ শান্ত হন।

বুধবার (৯ মে) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চে মামলার শুনানির সময় এমন ঘটনা ঘটে।

জামিনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানির শেষ পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম যখন তার বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন উভয়পক্ষের মধ্যে হৈ চৈ শুরু হয়।

মশিউর রহমানের মামলা এবং খালেদার মামলার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে উল্লেখ করে দুপুরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এ মামলায় এতিমের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। রাষ্ট্রের টাকা চুরি করা হয়েছে। এ সময় পেছনে বসা বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা উচ্চ শব্দ করে প্রতিবাদ জানায়। তখন অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে বলেন, রাষ্ট্রের টাকা নিয়ে গিয়েছে আর এটা বলতে পারবো না। এটা আমাকে বলতেই হবে।

এ সময় হট্টগোলের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমাকে কথা বলতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনি উত্তেজিত হবেন না। আপনি জবাব দিন। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, মেরিটে যাবো না? এমনভাবে হৈ চৈ করলে আমার পক্ষে শুনানি করা সম্ভব নয়। আগামীকাল শুনানি করা হোক। অ্যাটর্নি জেনারেলের এ বক্তব্যের পরেই বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা উচ্চস্বরে শব্দ করতে থাকেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তারাও পাল্টা চিৎকার শুরু করেন।

দুই পক্ষের কথা-কাটাকাটি আর উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় বেড়ে গেলে প্রধান বিচারপতি এজলাস থেকে চেলে যেতে চান। ।এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, উভয়পক্ষের আইনজীবীরা এমন করলে কোর্ট চালানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়। পরে সিনিয়র আইনজীবীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এর আগে, সকাল সোয়া নয়টা থেকে শুরু হওয়া শুনানির দ্বিতীয় দিনের শুনানি শুরু করেন বিএনপির আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। তিনি মশিউর রহমান ও স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদনাসিমসহ বেশ কয়েকটি মামলার উদাহরণ টেনে বলেন, প্রায় শতভাগ মামলাতেই আমাদের বিচার ব্যবস্থায় হাইকোর্ট জামিন দিলে আপিল বিভাগ হস্তক্ষেপ করেনি। ব্যতিক্রম শুধু এ মামলায়। ব্যতিক্রম সিদ্ধান্ত আইন হতে পারে না।

এরপর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ভারতীয় সাবেক দুই মূখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা ও লালু প্রসাদ যাদবের জামিনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, জয়ললিতার চার বছর সাজা হয়।

লালু প্রসাদ যাদবের ৫ বছররের সাজায় দুই মাসের মাথায় ভারতীয় সুপ্রিমকোর্ট জামিন দিয়েছে। আর জয় ললিতাকে সাতদিনের মাথায় জামিন দেওয়া হয়। সুতারা খালেদা জিয়ার জামিন বহাল রাখা হোক।

এরপর বিএনপির আরেক আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল কোন কর্তৃত্ব বলে বক্তব্য দিয়েছেন। আইন তা অনুমোদন করে না। প্রধান বিচারপতি বলেন, তাহলে আপনারা কেন রাষ্ট্রকে পক্ষ করলেন। জবাবে জয়নুল আবেদীন বলেন, এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, করতে হয় তাই করেছি। এ সময় আদালত বলেন, খালেদা জিয়া তো রাষ্ট্রের তত্ত্ববধানে রয়েছে। বিশেষ আইনের মামলা বিশেষ ভাবেই দেখতে হবে।

মওদুদ আহমদ বলেন,নিম্ন আদালতের দেওয়া রায়ে কে মূল অভিযুক্ত আর কে সহযোগি অপরাধী তা উল্লেখ করা হয়নি। আপনারা সংবাদপত্র পড়েন। দেশে কী হচ্ছেনা হচ্ছে, সেটা আপনারা দেখতে পান। রাজনীতির কারণে এটা কোর্টে এসেছে। খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন না হলে, মামলাটা এ পর্যায়ে আসতো না।

মওদুদ আরও বলেন, দেশে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে আমরা ভিকটিম। আমাদের দেশে আমরা তৃতীয় শ্রেনীর নাগরিক। আমরা অপরাধ না করলেও মামলা হয়, আর তারা অপরাধ করলেও মামলা হয় না। দু:খের সঙ্গে বলছি, আমাদের প্রথম শ্রেনীয়র নাগরিক হওয়ার সুযোগ নেই।

তাদের বক্তব্য শেষ হলে দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান ফের জবাব দেন। এরপর অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য দিয়ে শুনানি শেষ হয়।