রাত ১১:৫৪ মঙ্গলবার ২৩শে এপ্রিল, ২০১৯ ইং

কেমন হবে হাশরের ময়দান

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : আগস্ট ৩১, ২০১৮ , ১:৫৪ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : ধর্ম
পোস্টটি শেয়ার করুন

হাশর আরবি শব্দ, অর্থ সমাবেশ, ভিড়, একত্র হওয়া, জড়ো হওয়া ইত্যাদি। সমাবেশ বা একত্র হওয়ার দিবসের বিভিন্ন নাম আছে। যেমন—ইয়াউমুল হিসাব—হিসাবের দিবস, ইয়াউমুল জাযা—প্রতিদান দিবস, ইয়াওমুল মিয়াদ—প্রতিশ্রুত দিবস, ইয়াওমুল জাময়ে—একত্র হওয়ার দিবস, ইয়াওমুল মাহশার—সমাবেশ দিবস ইত্যাদি। যে মাঠে সমাবেশ ঘটবে, তাকে বলা হয় ময়দানে মাহশার বা সমাবেশের স্থল। পরকালে বিচারের জন্য কবর থেকে উত্থিত হয়ে সব প্রাণী এ মাঠে দণ্ডায়মান থাকবে। পৃথিবীই হবে হাশরের মাঠ। হাদিসের ভাষ্য মতে, পৃথিবীর উপরিভাগে একটি চাদর রয়েছে, একে পার্শ্ব ধরে টান দেওয়া হবে। ফলে গাছপালা, পাহাড়-পর্বত সাগরে পতিত হবে। অতঃপর সমতল হয়ে যাবে। আল্লাহর বাণী—আর আমি জমিনের উপরিভাগকে (বিচার দিবসে) উদ্ভিদশূন্য মাটিতে পরিণত করে দেব। (সুরা : কাহাফ, আয়াত : ৮)

উত্থিত হওয়ার অবস্থা

হজরত ইসরাফিল (আ.)-এর সর্বশেষ ফুৎকারের সঙ্গে সঙ্গে পিপীলিকার মতো ও বিক্ষিপ্ত পঙ্গপালের মতো সবাই উঠে দাঁড়াবে। আল্লাহর বাণী—‘অতঃপর দ্বিতীয়বার শিঙায় ফুৎকার দেওয়া হবে, তখন সবাই দাঁড়িয়ে যাবে এবং পরস্পরের দিকে তাকাবে।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ৬৮)

হজরত ইসরাফিল (আ.)-এর দ্বিতীয় ফুৎকারের সময় সব মৃত জীবিত হয়ে যাবে। তারা ‘হে আল্লাহ! আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং প্রশংসা করছি’ বলে হাশরের ময়দানে একত্র হবে। হাশরের ময়দানে উত্থিত হওয়ার সময় কাফিররাও আল্লাহর প্রশংসা করবে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘যেদিন তিনি তোমাদের (হাশরের মাঠে একত্র হওয়ার জন্য) আহ্বান করবেন, অতঃপর তোমরা তাঁর প্রশংসা করতে করতে চলে আসবে এবং তোমরা অনুমান করবে যে সামান্য সময়ই (দুনিয়ায়) অবস্থান করেছিলে।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৫২)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘বিচার দিবসে তোমাদের ও তোমাদের পিতার নাম ধরে ডাকা হবে। সুতরাং সুন্দর নাম রাখো।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৪৮)

হাশরের ময়দানে মানুষ তিনটি অবস্থায় উত্থিত হবে। একদল ১. বাহনে করে, ২. একদল পদব্রজে, ৩. একদল মাথায় হেঁটে। যেমন মহানবী (সা.) বলেন, ‘অবশ্যই মানুষ তিনটি দলে বিভক্ত হবে। একদল আরোহী স্বাদগ্রহণকারী ও সম্মানী। আরেকদল রয়েছে, যাদের ফেরেশতারা চেহারায় হাঁটিয়ে দোজখে নিয়ে যাবেন, আরেকদল পদব্রজে হাশরে উত্থিত হবে।’ (নাসায়ি, মিশকাত, পৃষ্ঠা ৪৮৪)

প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! মানুষ চেহারায় কিভাবে হাঁটবে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে আল্লাহ পায়ে হাঁটাতে পারেন, তিনি কি চেহারায় হাঁটাতে পারবেন না?’ (বুখারি ও মুসলিম, হাদিস : ২৮০৬)

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কিয়ামতের দিন মানুষদের নগ্নপদে, নগ্নদেহে ও খতনাবিহীন অবস্থায় সমবেত করা হবে।’ তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! নারী-পুরুষ সবাই কি একজন অন্যজনের লজ্জাস্থান দেখতে থাকবে? তখন তিনি বলেন, ‘হে আয়েশা! সেই সময়টি এতই ভয়ংকর হবে যে কেউ কারো প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার অবকাশ পাবে না।’ (বুখারি, মুসলিম)

কিয়ামতের দিন বহু মানুষ অন্ধ অবস্থায় উত্থিত হবে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা সংকীর্ণ হবে এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিন অন্ধ অবস্থায় উত্থিত করব। সে বলবে, হে আমার পালনকর্তা, আমাকে কেন অন্ধ করে উত্থিত করলেন? আমি তো চক্ষুষ্মান ছিলাম। আল্লাহ বলবেন, এভাবেই তোমার কাছে আমার আয়াতগুলো এসেছিল, অতঃপর তুমি সেগুলো ভুলে গিয়েছিলে। তেমনিভাবে আজ তোমাকে ভুলে যাব।’ (সুরা : তা-হা, আয়াত : ১২৪-১২৬)

কিয়ামতের দিন প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার নেতার নাম নিয়ে ডাকা হবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘ওই দিন আমি প্রত্যেককে তাদের নেতাসহ আহ্বান করব, অতঃপর যাদের ডান হাতে আমলনামা দেওয়া হবে, তারা নিজেদের আমলনামা পাঠ করবে এবং তাদের প্রতি সামান্য পরিমাণও জুলুম করা হবে না।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৭১)

কিয়ামতের দিন মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তির দৈর্ঘ্য হবে আট গজ, চেহারা হবে উজ্জ্বল এবং মাথায় মুক্তার টুপি পরানো হবে। অতঃপর সে বন্ধুদের কাছে যাবে। তারা তাকে দূর থেকেই দেখবে। পক্ষান্তরে কাফিরদের অবস্থা হবে করুণ। তাদের বাঁ হাতে আমলনামা দেওয়া হবে এবং মাথায় আগুনের টুপি পরানো হবে। (তিরমিজি, হাদিস : ৩১৩৬)