সকাল ১০:৩২ বুধবার ২০শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

ব্রেকিং নিউজ:

কুমিল্লা দেবিদ্বারে ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ। | কুমিল্লা সদরে ডিবি পুলিশের অভিযানে অস্ত্র ও ৫ শত পিছ ইয়াবাসহ এক এক যুবক। | সিলেট চেম্বারের পরিচালনা পরিষদের ২০১৯-২০২১ সাল মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত | কুমিল্লা সদর দক্ষিণে যাত্রীবাহি বাসচাপায় ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত। | মাধবপুরে দুই কেজি গাঁজা সহ ২ মাদক পাচারকারী আটক | ছেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাইলেন ক্রিকেটার রুবেল | পুত্র সন্তানের বাবা হলেন রুবেল, মা-ছেলে দুজনেই সুস্থ আছেন | মাদক চোরাকারবারীদের ফাঁদে পরে, বিলিনের পথে মাধবপুরের চা শিল্প! | কুমিল্লা সদরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই ষ্কুল শিক্ষার্থী নিহত। আহত-৩ | কুমিল্লায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৫ হাজার পিছ ইয়াবাসহ সাংবাদিক শামীম আটক। |

মালয়েশিয়া ১ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশের শ্রমিক নেওয়া বন্ধ রাখার ঘোষণা

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : August 27, 2018 , 5:12 pm
ক্যাটাগরি : আর্ন্তজাতিক
পোস্টটি শেয়ার করুন

মালয়েশিয়া ১ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশের শ্রমিক নেওয়া বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) শ্রমবাজার খাতকে সিন্ডিকেটের প্রভাবমুক্ত করতে সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে সরকারের প্রতি। বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাছ থেকে ব্যাপক অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মালয়েশিয়ার সরকার বাংলাদেশ থেকে চলতি পদ্ধতিতে শ্রমিক না নেওয়ার ঘোষণা দেয় সম্প্রতি। এর ফলে দুই দেশের সরকারের মধ্যে চুক্তির ভিত্তিতে মাত্র ১০টি এজেন্টের মাধ্যমে এসপিপিএ পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া বন্ধ হয়ে গেল।

টিআইবি মালয়েশিয়ার ওই সিদ্ধান্তকে ভবিষ্যতে দেশটিতে সংঘবদ্ধ চক্রের প্রভাবমুক্তভাবে শ্রমিক পাঠানোর একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল রবিবার এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানায় সংস্থাটি।

জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার অন্য সব সদস্যকে বাদ দিয়ে মাত্র ১০টি এজেন্সি ২০১৬ সাল থেকে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের পুরো শ্রমবাজারটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। অভিযোগ উঠেছে, তারা উভয় দেশের চুক্তি অনুযায়ী ৩৭ হাজার টাকায় কর্মী না পাঠিয়ে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকায় কর্মী পাঠাচ্ছিল। কর্মীপ্রতি হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। মালয়েশিয়ার একটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে আঁতাত করে বাংলাদেশি সিন্ডিকেট দুই বছরে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই অভিযোগ আমলে নিয়ে নবনির্বাচিত মালয়েশিয়া সরকারের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ ১০ সিন্ডিকেটের কর্মী পাঠানো বন্ধ করার সিদ্ধান্ত জানান। তবে জানা গেছে, উভয় দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এ ব্যাপারে নতুন সিদ্ধান্ত আসবে।

তবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া পুরো বন্ধ হচ্ছে না দাবি করে বায়রার সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন স্বপন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এসপিপিএ পদ্ধতিতে কর্মী পাঠানো স্থগিত হলেও বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানো বন্ধ হয়নি। ওরা একটি সিস্টেম ডেভেলপ করবে। এসপিপিএ স্থগিত করার মানে এই নয় যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ। রিক্রুটমেন্ট বন্ধ হয়ে গেছে, শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে গেছে—এ রকম কিছুই নয়। জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে কর্মী যাওয়া অব্যাহত থাকবে, তবে এসপিপিএ সিষ্টেম স্থগিত থাকবে।’

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, দু্ই সরকারের চুক্তি অনুযায়ী ৩৭ হাজার টাকায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর কথা থাকলেও তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকায় কর্মী পাঠায় ১০টি এজেন্ট। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ছিলেন মালয়েশিয়ার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী দাতু আমিন নূর। মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ একটি বড় সিন্ডিকেটকে হাত করে বাংলাদেশের পুরো বাজারটি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল। ১০টি এজেন্সি মালয়েশিয়ায় একচেটিয়াভাবে কর্মী পাঠানোয় বায়রার অন্য সদস্যরা ক্ষুব্ধ থাকলেও দেশটির আগের সরকারপ্রধান নাজিব রাজাকসহ সিন্ডিকেটের কারণে খুব বেশি কিছু করতে পারেনি। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া শ্রমিকরা দেশটির যেসব প্রতিষ্ঠানে কাজ নেন, সেসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ মালিকের কাছে স্বীকার করেন যে বাংলাদেশি এজেন্টের হাতে জিম্মি হয়ে চার লাখ টাকার বিনিময়ে তাঁরা এসেছেন। ধীরে ধীরে বিষয়টি মালয়েশিয়ায় প্রচার হতে থাকে এবং সর্বশেষ মালয়েশিয়ার মন্ত্রীপর্যায়ে চলে যায়। স্বরাষ্ট্রসচিবকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেশটি। তদন্ত শেষে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এম কুলাসেগারার কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আর পুরো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত মালয়েশিয়ার সাবেক একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাংলাদেশি-মালয়েশিয়ান নাগরিক দাতু আমিন নূর।

সম্প্রতি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুরো বিষয় তদন্ত করে আমরা আবার আগের সিস্টেমে ফিরে যাব, বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া আপাতত বন্ধ থাকবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা চলছে এবং আমি বিশ্বাস করি যে আমরা শিগগিরই সমাধান খুঁজে পেতে সক্ষম হব। পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে হবে এবং স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হবে।’

সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত গত দুই বছরে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক গেছে এক লাখ ৯০ হাজার ৫৬২ জন। বাতিল হওয়া এসপিপিএ সিস্টেমে গত দেড় বছরে গেছে এক লাখ ৭৯ হাজার ৩৩০ জন। তাদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে পাঁচ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। খরচ হওয়ার কথা ছিল ৬৭৬ কোটি টাকা।

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, মালয়েশিয়া বর্তমান পদ্ধতিতে এখন আর কর্মী নেবে না। উভয় দেশের আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কোন পদ্ধতিতে তারা কর্মী নেবে। তবে আশা করছি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো শুরু হবে।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জনশক্তি রপ্তানিতে সিন্ডিকেটভিত্তিক অনৈতিক ব্যবসা বন্ধে মালয়েশিয়া সরকারের এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখার জন্য সরকারের কাছে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। সূত্র : কালের কন্ঠ