সকাল ৮:২৯ মঙ্গলবার ১৯শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

ব্রেকিং নিউজ:

কুমিল্লা দেবিদ্বারে ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ। | কুমিল্লা সদরে ডিবি পুলিশের অভিযানে অস্ত্র ও ৫ শত পিছ ইয়াবাসহ এক এক যুবক। | সিলেট চেম্বারের পরিচালনা পরিষদের ২০১৯-২০২১ সাল মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত | কুমিল্লা সদর দক্ষিণে যাত্রীবাহি বাসচাপায় ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত। | মাধবপুরে দুই কেজি গাঁজা সহ ২ মাদক পাচারকারী আটক | ছেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাইলেন ক্রিকেটার রুবেল | পুত্র সন্তানের বাবা হলেন রুবেল, মা-ছেলে দুজনেই সুস্থ আছেন | মাদক চোরাকারবারীদের ফাঁদে পরে, বিলিনের পথে মাধবপুরের চা শিল্প! | কুমিল্লা সদরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই ষ্কুল শিক্ষার্থী নিহত। আহত-৩ | কুমিল্লায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৫ হাজার পিছ ইয়াবাসহ সাংবাদিক শামীম আটক। |

নিরাপদ সড়ক নিয়ে সচেতন করবেন শিক্ষার্থীরা

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : August 26, 2018 , 1:20 am
ক্যাটাগরি : শিক্ষা
পোস্টটি শেয়ার করুন

রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর নিয়ম-কানুন মেনে রাস্তা চলাচল করতে সচেতনতা বৃদ্ধিতে শিক্ষার্থীদের কর্মকাণ্ড সর্বস্তরে প্রশংসিত হয়। এরপর ট্রাফিক সপ্তাহ চলাকালীন সময় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে নিয়ম মেনে পথ চলতে রাস্তায় কাজ করে রোভার স্কাউটের সদস্যরা। তাদের এমন কার্যক্রমও বেশ প্রশংসিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নিরাপদ সড়কের জন্য সর্বসাধারণকে সচেতন করতে আগামী একমাসের জন্য কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে তাদের অভিভাবক, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং পথচারীদের মাঝে নিরাপদে পথ চলার নিয়ম-কানুন জানাতে নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। মসজিদের ইমামদের মাধ্যমেও মুসল্লিদের মাঝে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়ম-কানুন জানানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাওয়া এক নির্দেশনার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ স্কাউট মিলে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগামী সেপ্টেম্বর মাসকে ‘ট্রাফিক মাস’ হিসেবে ঘোষণাও করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, ট্রাফিক সপ্তাহ চলাকালীন সময়ে রাজধানীর রাস্তায় সর্বসাধারণকে ট্রাফিক আইন মেনে রাস্তা চলতে কাজ করে প্রায় ১ হাজার ৮০০ রোভার স্কাউটের সদস্য। সে অনুযায়ী রোভার স্কাউট সদস্যদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ চাওয়া হলে স্কাউট ৪৮টি সুপারিশ করে। যাচাই বাছাই শেষে আসে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নির্দেশে বাস্তবায়নযোগ্য অধিকাংশ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ স্কাউটস বিভাগ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ট্রাফিক বিভাগের সরবরাহ করা ‘গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক সাইন’ এবং স্কাউট সদস্যদের প্রণয়ন করা ‘নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণে আমাদের দায়িত্ব’ একটি লিফলেট সংশ্লিষ্ঠদের মাধ্যমে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া নিরাপদ সড়কের জন্য সর্বসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে কাজ করতে দেশের সকল শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ণ করা হবে।

ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অননুমোদিত ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, লাইসেন্সবিহীন ও অনভিজ্ঞ চালক সড়ক দুর্ঘটনার জন্য যেমন অনেকাংশে দায়ী তেমনি পথচারী ও যাত্রীদের ট্রাফিক নিয়মকানুন সম্পর্কে অজ্ঞতা ও অসচেতনতাও দায়ী। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে দায়িত্বপালন করে রোভার স্কাউটের সদস্যরা যে ভুমিকা রেখেছে তা প্রশংসিত হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে তাদের অভিভাবক, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং পথচারীদের মাঝে সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য উদ্যোগ নিলে এ প্রচেষ্টা আরও বেশি টেকসই ও ফলপ্রসূ হবে আশা করা যায়। এ কারণেই দেশের সকল শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে আগামী একমাস সকলের মাঝে লিফলেট বিতরণ ও প্রচারণা করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো ১৪টি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘উক্ত লিফলেটটি প্রয়োজনীয় সংখ্যক কপি করে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিতরণ করতে হবে। লিফলেট পরবর্তী বিষয়াদির উপর শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদেরকে প্রয়োজনীয় ধারণা বা নির্দেশনা দেবেন । বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সে সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বিষয়ে সেশন অন্তর্ভুক্ত করা, বিদ্যালয়ে প্রত্যাহিক সমাবেশে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করার কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে শিক্ষকরা প্রয়োজনে এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশসহ অভিজ্ঞ অন্যান্য ব্যক্তি বা সংস্থার কাছ থেকে সহযোগীতা নিতে পারবেন।

শিক্ষার্থীদের নিজেদের মধ্যে লিফলেটে বর্ণিত বিষয়ে আলোচনা ও তা অনুসরণে অনুপ্রাণিত করতে হবে, ইউনিফর্মধারী স্কাউট, রোভার স্কাউট ও গার্ল গাইডসদের মাধ্যমে পথচারীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করতে হবে, ছাত্র-ছাত্রীদের মাধ্যমে তাদের অভিভাবকদের কাছে এই লিফলেট পৌঁছানো এবং বর্ণিত বিষয়াদি পরিস্কারভাবে উপস্থাপন করে ট্রাফিক নিয়ম-কানুন ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে অবহিতকরণ নিশ্চিত করতে হবে। এরপর অভিভাবকরা বিষয়টি অবহিত হয়েছেন মর্মে স্বাক্ষর নিয়ে তা বিদ্যালয়ে ফেরত দেবে শিক্ষার্থীরা । ঈদ-উল আযহার ছুটি শেষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরুর সঙ্গে সঙ্গে এ কার্যক্রম শুরু করে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে।

ট্রাফিক নিয়ম-কানুন ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক অবহিতকরণ কার্যক্রমে কতজন অভিভাবককে সম্পৃক্ত করা হয়েছে সে বিষয়ে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সংশ্লিষ্ঠ জেলা প্রশাসকের কাছে ৭ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিবেদন প্রেরণ এবং জেলা প্রশাসক কর্তৃক সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সমন্বিত প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।

এছাড়া প্রত্যেক মসজিদে ইমামদের মাধ্যমে এই লিফলেটে বর্ণিত বিষয়ে মুসল্লিদেরকে জুমার নামাজের পূর্বে অবহিত করতে হবে, প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিভাবক সমাবেশ অথবা মা সমাবেশের মাধ্যমে বিষয়টি অবহিত করতে হবে। এ কার্যক্রমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটিকে সম্পৃক্ত করতে হবে, বাংলাদেশ স্কাউটস এর সঙ্গে সমন্বয় করে ৩০ সেপ্টেম্বরে দেশব্যাপী একযোগে সংশ্লিষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পার্শ্ববর্তী সড়ক এবং মহাসড়কে সকল ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক স্লোগান সম্বলিত ফেস্টুন স্বল্প সময়ের জন্য প্রদর্শন করতে হবে।

উক্ত কার্যক্রমসমুহ বাস্তবায়নের জন্য বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তাদেরকে দায়িত্বপালন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ স্কাউটের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমেই কাজ করলে কর্মকাণ্ডটি ফলপ্রসূ হবে। আগামী একমাস দেশব্যাপী এই কার্যক্রম চলবে। ফলে এই মাসকে ‘ট্রাফিক মাস’ হিসেবেও ঘোষণা করবে বলে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।

জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরাই আমাদের সবার চোখ খুলে দিয়েছে। তারা দেখিয়েছে কোথায় সমস্যা কোথায় ভুল। সড়কের নিরাপত্তার জন্য ঘরে ঘরে সচেতনতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আর একমাত্র শিক্ষার্থীরাই পারে ঘরে ঘরে সচেতনতা পৌঁছাতে। এর কারণেই এ উদ্যোগ। আশা করছি এ উদ্যোগ অনেকটাই ফলপ্রসূ হবে।‘

বাংলাদেশ স্কাউটসের নির্বাহী পরিচালক আরশাদুল মোকাদ্দিস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ট্রাফিক সপ্তাহ চলাকালীন সময়ে রোভার স্কাউট সদস্যদের দায়িত্বপালন প্রশংসিত হয়েছে। এ কারণে সরকার চায় দেশের সকল শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে। ট্রাফিক সপ্তাহে দায়িত্বপালনকালে অর্জিত অভিজ্ঞতার আলোকে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য ৪৮টি সুপারিশ দেয় স্কাউট সদস্যরা। তারই আলোকে আগামী একমাস সড়কের নিরাপত্তার জন্য জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করবে শিক্ষার্থীরা। আর সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই কর্মযজ্ঞের সার্বিক সহযোগিতায় কাজ করবে দেশের প্রায় ১৭ লাখ স্কাউট সদস্য।‘