সকাল ৭:৫১ শনিবার ২৩শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

ব্রেকিং নিউজ:

কুমিল্লা দেবিদ্বারে ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ। | কুমিল্লা সদরে ডিবি পুলিশের অভিযানে অস্ত্র ও ৫ শত পিছ ইয়াবাসহ এক এক যুবক। | সিলেট চেম্বারের পরিচালনা পরিষদের ২০১৯-২০২১ সাল মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত | কুমিল্লা সদর দক্ষিণে যাত্রীবাহি বাসচাপায় ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত। | মাধবপুরে দুই কেজি গাঁজা সহ ২ মাদক পাচারকারী আটক | ছেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাইলেন ক্রিকেটার রুবেল | পুত্র সন্তানের বাবা হলেন রুবেল, মা-ছেলে দুজনেই সুস্থ আছেন | মাদক চোরাকারবারীদের ফাঁদে পরে, বিলিনের পথে মাধবপুরের চা শিল্প! | কুমিল্লা সদরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই ষ্কুল শিক্ষার্থী নিহত। আহত-৩ | কুমিল্লায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৫ হাজার পিছ ইয়াবাসহ সাংবাদিক শামীম আটক। |

রোহিঙ্গাদের বিশাল চাপ হিসেবে দেখছেন রোহিঙ্গা ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : August 25, 2018 , 2:10 am
ক্যাটাগরি : জাতীয়
পোস্টটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বিশাল চাপ হিসেবে দেখছেন রোহিঙ্গা ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা আবুল কালাম। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। আশ্রয় নেওয়ার পর বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের একটি বছর পার হতে চলছে। তাদের খাবার, থাকা ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নতুন-পুরনো মিলে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা রয়েছে। তারা এখন বাংলাদেশের জন্য বিশাল চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা রোহিঙ্গারা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তবে, প্রত্যাবাসন শুরু করতে বাংলাদেশ সরকার দ্রুত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি জানান, ৩০টি ছোট-বড় রোহিঙ্গা শিবির গড়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা জানান, রোহিঙ্গারা ইয়াবা, হত্যা, মানব পাচার, ধর্ষণ ও অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়াচ্ছে। তাছাড়া রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে নেই পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি। এতে টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার বাঙালি ও রোহিঙ্গা দুই পক্ষই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

রোহিঙ্গা নারী দিলদার বেগম ২০১৭ সালের ২৭ আগস্ট পালিয়ে এসে টেকনাফের দমদমিয়া রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নেন। তিনি বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ আগে তার ঝুপড়ি ঘরে রোহিঙ্গাদের একটি দল হামলা চালায়। এসময় তার হাত-পা রশি দিয়ে বেধেঁ ফেলে টানা হেছড়া করে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। পরে তার চিৎকারে পাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।’ দিলদার বেগম বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা রোহিঙ্গা শিবিরের জন্য নতুন নয়। অনেক রোহিঙ্গা নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ভয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। তাছাড়া একটি বছর পার হতে চলছে। জানিনা কখন নিজ দেশে যেতে পারবো। এখানে শিশু সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। কোনও মতে কষ্টের জীবন কাটছে।’

১০ লাখ রোহিঙ্গার চাপ
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখ ৩৬ হাজার ৬৫৪জন। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ছয় লাখ ৩৩ হাজার ২২৩ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছেন। এর আগে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা চার লাখ তিন হাজার ৪৩১জন। উখিয়ার কুতুপালং এবং বালুখালী ক্যাম্পে নির্ধারিত তিন হাজার একর জায়গায় সাড়ে চার লাখের অধিক রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। কক্সবাজার জেলা সদরসহ অন্যান্য উপজেলা এবং বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় আরও দুই লাখ রোহিঙ্গা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। এর মধ্যে ৫৫ শতাংশ রোহিঙ্গা শিশুও রয়েছে।

দেশে ফেরা নিয়ে শঙ্কা
মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা স্মারকে সই হলেও দেশে ফেরা নিয়ে শঙ্কিত রোহিঙ্গারা। তাদের মতে, নাগরিক অধিকারসহ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে ফেরত পাঠানো হলে সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। আবারও তারা যেকোনও উপায়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসবে। কারণ অতীতের অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না।

পুলিশের খাতায় রোহিঙ্গা
গত এক বছরে কক্সজারের রোহিঙ্গাদের শিবিরগুলোতে ইয়াবা ও হত্যাসহ দুইশ ত্রিশটিরও বেশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৩৩৬ জনকে আসামি করে দেড় শতাধিকের বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম অস্ত্র আইনের ১৫টি মামলায় ৩৫ জন, মাদক আইনের ৮০টি মামলায় ১০০ জন, পাসপোর্ট আইনের ৪১টি মামলায় ৭১ জন, ধর্ষণ আইনের দুইটি মামলায় ২ জন, অপহরণ আইনের পাঁচটি মামলায় ১০ জন, চোরাচালান আইনের সাতটি মামলায় ১৫ জন, চুরি আইনের ১০টি মামলায় ১০ জন এবং ডাকাতি আইনের আটটি মামলায় ২৫জনকে আসামি করা হয়েছে।

কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতার বক্তব্য
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোহিঙ্গা নেতা বলেন- রোহিঙ্গারা টাকার লোভে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, এটা সত্য। ফলে এখানে আমরা যারা আশ্রয় নিয়েছি, তারা বিব্রত। রোহিঙ্গারা যাতে অপরাধে না জড়ায়, সেদিকে দৃষ্টি রাখছি। তবে কর্মহীন থাকায় তারা এসব কাজে জড়াচ্ছে। গত ১৪ জুলাই ইয়াবার চালানের জের ধরে লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের পাহাড়ের পাদদেশ থেকে এক রোহিঙ্গাসহ দুই জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এরমধ্যে হ্নীলা ইউপির ৮নম্বর ওয়ার্ড সদস্য নুরুল হুদার ভাই শামসুল হুদা অপরজন লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের বি-ব্লকের বাসিন্দা রহিম উল্লাহ। তারা দুজনই রোহিঙ্গা শিবিরে ইয়াবা বেচা-কেনায় অন্যতম ছিলেন। যেকোনও মূহুর্তে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে অঘটন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্বজন হারানোর কান্না
হোয়াইক্যং উনচিপ্রাং ক্যাম্পে কথা হয় মিয়ানমারের মংডু থানার নাইচাডং এলাকার বাসিন্দা দিলু হোসেনের সঙ্গে। স্ত্রীসহ ১১ সদস্যের পরিবার তার। ৫ ছেলে ও ৪ মেয়ে। তিনি বলেন, ‘আমরা রাখাইনে ফিরে যেতে চাই। শুধু জানে বাঁচার নিশ্চয়তা পেলেই সেখানে ফিরে যাবো। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী পাশে না থাকলে আমাদের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠতো। গত সাত মাস আগে আমাদের গ্রামে মিয়ানমার সেনাবাহিনীরা গলাকেটে, গুলি ও আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে আমার দুই ভাইকে। তাদের কথা মনে করে প্রতিদিন রাতে কাঁদি।’

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, ‘রোহিঙ্গারা অশিক্ষিত তাই খুব সহজে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তারা সংসারের অভাবের টানে টাকার লোভে অপরাধে জড়াচ্ছে। তাছাড়া মিয়ানমারে তারা দেখেছেন, স্বজনদের কিভাবে হত্যা করা হয়েছে। ফলে অপরাধ প্রবণতা তাদের মাঝে কাজ করে। অপরাধ রোধে পুলিশ রাত দিন কাজ করে যাচ্ছে।’