রাত ৪:০০ বুধবার ২৬শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং

ব্রেকিং নিউজ:

কুমিল্লা দেবিদ্বারে ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ। | কুমিল্লা সদরে ডিবি পুলিশের অভিযানে অস্ত্র ও ৫ শত পিছ ইয়াবাসহ এক এক যুবক। | সিলেট চেম্বারের পরিচালনা পরিষদের ২০১৯-২০২১ সাল মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত | কুমিল্লা সদর দক্ষিণে যাত্রীবাহি বাসচাপায় ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত। | মাধবপুরে দুই কেজি গাঁজা সহ ২ মাদক পাচারকারী আটক | ছেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাইলেন ক্রিকেটার রুবেল | পুত্র সন্তানের বাবা হলেন রুবেল, মা-ছেলে দুজনেই সুস্থ আছেন | মাদক চোরাকারবারীদের ফাঁদে পরে, বিলিনের পথে মাধবপুরের চা শিল্প! | কুমিল্লা সদরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই ষ্কুল শিক্ষার্থী নিহত। আহত-৩ | কুমিল্লায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৫ হাজার পিছ ইয়াবাসহ সাংবাদিক শামীম আটক। |

কোথাকার মেয়েরা সবচেয়ে কাম-তাড়িত?

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : August 21, 2018 , 2:46 am
ক্যাটাগরি : লাইফস্টাইল
পোস্টটি শেয়ার করুন

পরিবার পিছু একটি সন্তান। ১৯৮০ সালে এই নীতি চালু করেছিল চিন। কারণ, জনসংখ্যার বিস্ফোরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য এছাড়া অন্য কোনও উপায় ছিল না বলে দাবি করেছিল তৎকালীন চিনা কমিউনিস্ট সরকার। এই নীতি কার্যকর হওয়ার ফলে চিনের জনসংখ্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে ঠিকই, কিন্তু, কার্পেটের তলায় কত বড় নির্মম সত্যকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল তারই সন্ধান দিয়েছেন সাংবাদিক মেই ফং।

৪৪ বছর বয়সি সাংবাদিক মেই ফং-এর দাবি, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা চিন ও ভারতের সবচেয়ে বড় সমস্যা। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভারত খুবই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার সঙ্গে কাজ করে চলেছে। কিন্তু, চিনে যেটা হচ্ছে সেটা একনায়কতন্ত্রের মতো। ভারতেও ছেলে পিছু মেয়েদের জনসংখ্যা কম। চিনেও একই ছবি। এমনকী, গোটা বিশ্বেই ‘জেন্ডার প্যারিটি’ একটা বড় সমস্যা। কিন্তু, চিনের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটা মারাত্মক। বিশেষ করে চিনের নীতি সরকারিভাবে মহিলাদেরই দমন-পীড়ন করছে। কোনও বাবা-মা সহজে কন্যাসন্তানের জন্ম হোক চাইছেন না। চিনে ১৩০ জন ছেলে পিছু ১০০ জন মেয়ে।
১৯৮০ সালে চিনের ঘোষিত নীতিতে বলাই ছিল পরিবার পিছু একটি সন্তানই শুধুমাত্র যাবতীয় সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবে। যেমন শিক্ষা থেকে চিকিৎসা, চাকরিক্ষেত্রে সরকার যে সুবিধা দেয় সেটা একটি মাত্র সন্তানের জন্যই প্রযোজ্য হবে। ফলে, ওই সময় যে সব চিনা পরিবারে একের বেশি সন্তান ছিল তাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছিল। এমনকী, এই পরিবারে যদি বড় সন্তান কন্যা হয় তাকে সরিয়ে সেখানে ছেলের নাম সরকারি খাতায় তোলা হয়। আজ সারা চিনেই এমন লক্ষ লক্ষ মেয়ে আছে যাদের সরকারি খাতায় নামই নেই। এরা পড়াশোনার সুযোগ পায়নি। এমনকী, চিকিৎসা থেকে শুরু করে সরকারের যে কোনও ধরনের পরিষেবা সুযোগ এদের জন্য নেই। বাড়ির চৌহদ্দিতে, ঘরের কোণে গোপনে এইসব মেয়েরা মানুষ হয়েছে। এদের অধিকাংশেরই কোনও দিন বিয়ে হওয়া সম্ভব নয়। কারণ, এমন বেআইনি মহিলা নাগরিকদের পাত্রস্থ করা কঠিন শুধু নয়, ধরা পড়লে রাষ্ট্র কর্তৃক শাস্তি অবধারিত। ১৯৯০ সালের পর থেকে চিনে বিপুল পরিমাণে কন্যাভ্রুণ হত্যা করা হয়েছে।

এই চরম সত্যের সঙ্গে এক করুণ কাহিনির বর্ণনাও দিয়েছেন মেরি ফং। তিনি জানিয়েছেন, এই সব মহিলারা বড় হয়েছেন, জীবনের নিয়মে এদের যৌবন এসেছে। কিন্তু, যৌন সুখ মেটানোর জন্য চিনের এই বেআইনি মহিলা নাগরিকদের অধিকাংশই পুরুষসঙ্গী পান না। তাই এইসব মহিলাদের জন্য আজ রমরম করে চিনে বৃদ্ধি পেয়েছে ‘সেক্স ডল’-এর ব্যবসা। এই মহিলাদের অধিকাংশই আজ ‘সেক্স ডল’-এর মাধ্যমে নিজেদের যৌন তৃষ্ণা নিবারণ করছেন। এমনকী, এই সেক্স-ডলের রমরমা আজ চিনের ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছে। এক সমীক্ষাতেও দেখা গিয়েছে চিনের বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ‘সেক্স ডল বিক্রি হয়। বলা হচ্ছে বিশ্বে বিক্রি হওয়া মোট ‘সেক্স ডল’-এর ৩০ শতাংশ নাকি বিক্রি হয় চিনে। মেই ফং-এর মতে, ভারতেও ‘সেক্স ডল’-এর চাহিদা থাকলেও সেখানকার মহিলাদের সমস্যাটা কোনওভাবেই সরকারের তৈরি করা নীতির সঙ্গে সম্পর্কৃত নয়। অথচ, চিনের মতো জনবিস্ফোরণ আটকাতে ভারতও নানা নীতি গ্রহণ করেছে। কিন্তু, কোনওভাবেই সেখানকার সরকারের তৈরি করা নীতির জন্য মহিলারা চিনের মহিলাদের মতো কাম তাড়িত হয়ে পড়েননি।

মেই ফং-এর এমন দুঃসাহসী প্রতিবেদন উঠে এসেছে তাঁর লেখা বই, ‘ওয়ান চাইল্ড: দ্য পাস্ট অ্যান্ড ফিউচার অফ চায়না’জ মোস্ট র‌্যাডিক্যাল এক্সপেরিমেন্ট’-এ। আপাতত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চিনের মহিলাদের এই করুণ কাহিনি তুলে ধরছেন মেই ফং।