রাত ১০:৩১ রবিবার ২৯শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

ব্রেকিং নিউজ:

কুমিল্লা দেবিদ্বারে ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ। | কুমিল্লা সদরে ডিবি পুলিশের অভিযানে অস্ত্র ও ৫ শত পিছ ইয়াবাসহ এক এক যুবক। | সিলেট চেম্বারের পরিচালনা পরিষদের ২০১৯-২০২১ সাল মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত | কুমিল্লা সদর দক্ষিণে যাত্রীবাহি বাসচাপায় ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত। | মাধবপুরে দুই কেজি গাঁজা সহ ২ মাদক পাচারকারী আটক | ছেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাইলেন ক্রিকেটার রুবেল | পুত্র সন্তানের বাবা হলেন রুবেল, মা-ছেলে দুজনেই সুস্থ আছেন | মাদক চোরাকারবারীদের ফাঁদে পরে, বিলিনের পথে মাধবপুরের চা শিল্প! | কুমিল্লা সদরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই ষ্কুল শিক্ষার্থী নিহত। আহত-৩ | কুমিল্লায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৫ হাজার পিছ ইয়াবাসহ সাংবাদিক শামীম আটক। |

মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করার কথা বলে কেঁদে ফেলেন একাত্তরে শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর মেয়ে

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : May 6, 2018 , 3:28 am
ক্যাটাগরি : জাতীয়,নির্বাচিত
পোস্টটি শেয়ার করুন

কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করার কথা বলে কেঁদে ফেলেন একাত্তরে শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী। তিনি বলেন, কোটাবিরোধী আন্দোলনের নামে যারা মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করেছে, নিজেদের বুকে রাজাকার লিখেছে তারা চাকরি পাবে, কিন্তু কোনোদিন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না।

শনিবার (৫ মে) বিকেলে চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মুক্তিযোদ্ধা-জনতা সংহতি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নুজহাত চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধ

ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননার প্রতিবাদে আয়োজিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ডার মোজাফফর আহমেদ।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে সভাপতির উদ্দেশ্যে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নুজহাত বলেন, ‘চাচা, আপনাদের কাছে আমি ক্ষমা চাই। আপনারা জীবনের শেষ বেলায় এসে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের কাছে অপমানিত হয়েছেন। তারা চাকরি চায়। শুধু এই স্বার্থের জন্য কোটাবিরোধী আন্দোলনের নামে তারা আপনাদের যে পরিমাণ অপমান করলো, মুক্তিযোদ্ধাদের পরবর্তী প্রজন্ম হিসেবে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা চাই। ’

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ৪৫ বছর পর এসে আন্দোলনের নামে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে যে ধরনের স্লোগান তারা (কোটা সংস্কারের আন্দোলনকারীরা) দিয়েছে, জীবনে প্রথম আমার মনে হয়েছে আমার বাবা মরে গিয়ে বেঁচে গেছেন।

কোটাবিরোধীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘যারা কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে নিজেদের বুকে রাজাকার লিখেছ আর মুক্তিযোদ্ধাদের গালি দিয়েছ, আমি তোমাদের বলতে চাই, একটি সামান্য কোটা নিয়ে নিজেকে রাজাকার বলতে পারলে? আবার যদি কোনোদিন যুদ্ধ হয়, তোমরা তো সবার আগে রাজাকার হবে। তোমরা কুলাঙ্গার। ’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা নিজেদের বুকে রাজাকার লিখেছ, আমি দোয়া করি তোমরা চাকরি পাও। ওই চেয়ারে বস। মনে রেখ, ওই চেয়ারে আমার বাবার রক্ত আছে। ওই চেয়ারে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের রক্ত আছে। ওই রক্তের উপর বসে তুমি কী-ভাবে মাথা উঁচু করে থাক সেটা আমি দেখে নেবো। ’

নুজহাত কোটাবিরোধীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা চাকরি পাবে, কিন্তু কোনোদিন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না। এই স্বাধীন দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আন্দোলনকারীদের বলতে চাই, তোমরা কোটা সংস্কার চেয়েছ, প্রধানমন্ত্রী এই কোটা পদ্ধতিই বাতিল করে দিয়েছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীকে শুভাশীষ জানাই।

কোটা ছাড়াই নিজের কর্মজীবনের সাফল্যের কথা তুলে ধরে নুজহাত বলেন, ‘আমি নিজে বিসিএস-এ দ্বিতীয় হয়েছিলাম। আপনাদের সন্দেহ থাকলে প্রজ্ঞাপণ দেখে নিতে পারেন। আমার কোনো সার্টিফিকেট নেই। আমার বাবার কোনো সার্টিফিকেট নেই। আমার কোনো কোটা লাগেনি। আমি নিজ যোগ্যতায় দ্বিতীয় হয়েছিলাম। ’

তিনি বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানদের বলছি- তোমরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সন্তান। তোমাদের কোনো কোটা লাগবে না। কয়টা কোটা দিয়ে তোমাদের বাবার অভাব পূরণ করা যাবে? এই দেশ তোমাদের বাবারা যুদ্ধ করে নিয়ে এসেছে। বাবাদের মতো সাহস নিয়ে এই দেশের মাটি আবারও দখল কর। এই দেশ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের দেশ। ’

স্বাধীন দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর ২১ বছরের নিপীড়নের কথা তুলে ধরে নুজহাত বলেন, ‘পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ২১ বছর যতবার মুক্তিযোদ্ধারা মাথা তুলতে চেয়েছে ততবার তাদেরকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে পালিয়ে থাকতে হয়েছে। ২১টি বছর মুক্তিযোদ্ধারা দাঁড়াতে পারেনি। নিজামী-খালেদা জিয়াদের অনেক অত্যাচার সহ্য করেছেন। ’

প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘অনেক মুক্তিযোদ্ধা এখনও ভিক্ষা করে। শহীদ পরিবারের সন্তানরা স্কুটার চালায়। আপনাদের কি মনে হয় না, তাদের প্রতি আপনাদের ঋণ আছে। আপনারা বড় বড় পদে আসীন আছেন। বেতন পাচ্ছেন, বিজনেস করছেন, আন্তর্জাতিকভাবে কতো সম্মানিত হচ্ছেন। এর কিছুই হতো না, যদি এই মুক্তিযোদ্ধারা নিজের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ না করতেন। ’

নুজহাত বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের কোটা লাগবে না। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াব। শুধু দাঁড়াব না, কাঁধে করে বাবাদের মতো বহন করে এই বাংলাকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবো। ’

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজ এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সংসদ সদস্য ওয়াসিকা আয়শা খান ও লুবনা হারুন।