দুপুর ১:৩২ বুধবার ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ ইং

ব্রেকিং নিউজ:

কুমিল্লা দেবিদ্বারে ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ। | কুমিল্লা সদরে ডিবি পুলিশের অভিযানে অস্ত্র ও ৫ শত পিছ ইয়াবাসহ এক এক যুবক। | সিলেট চেম্বারের পরিচালনা পরিষদের ২০১৯-২০২১ সাল মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত | কুমিল্লা সদর দক্ষিণে যাত্রীবাহি বাসচাপায় ৩ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত। | মাধবপুরে দুই কেজি গাঁজা সহ ২ মাদক পাচারকারী আটক | ছেলের জন্য সকলের কাছে দোয়া চাইলেন ক্রিকেটার রুবেল | পুত্র সন্তানের বাবা হলেন রুবেল, মা-ছেলে দুজনেই সুস্থ আছেন | মাদক চোরাকারবারীদের ফাঁদে পরে, বিলিনের পথে মাধবপুরের চা শিল্প! | কুমিল্লা সদরে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই ষ্কুল শিক্ষার্থী নিহত। আহত-৩ | কুমিল্লায় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ৫ হাজার পিছ ইয়াবাসহ সাংবাদিক শামীম আটক। |

ধুলা দূষণে হাঁপানিতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা

নিউজ ডেস্ক | জাগো প্রতিদিন .কম
আপডেট : May 4, 2018 , 6:29 am
ক্যাটাগরি : নির্বাচিত,মুক্তমত
পোস্টটি শেয়ার করুন

বংশে কারো না থাকা সত্ত্বেও ধুলা দূষণের কারণে হাঁপানিতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। পাশাপাশি তাদের মানসিক বিকাশও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিশু স্বাস্থ্য বিভাগে ভর্তি রোগীর ৪০ শতাংশেরও বেশি শ্বাসকষ্টজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধুলা ও বায়ু দূষণ শুধু শিশুর ফুসফুসের গঠনকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, এটা স্থায়ীভাবে তাদের মস্তিষ্কের বিকাশকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যা তাদের ভবিষ্যতকেই ক্ষতির মুখে ফেলে। বায়ু দূষণ থেকে শিশুদের সুরক্ষিত রাখা গেলে তাতে শুধু তাদেরই উপকার নয়, স্বাস্থ্যসেবা খরচ সাশ্রয় ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এর উপকারিতা পায় সমাজও।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) পরিচালিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা মহানগরীর প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ ভয়াবহ ধুলা দূষণের শিকার। বাকি ১০ শতাংশ এসি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করেন। এ ছাড়া নগরীতে বসবাসকারী প্রতিটি মধ্যবিত্ত পরিবারকে ধুলা দূষণের কারণে প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৪ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে।

পরিবেশ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সময়ে ঢাকা মহানগরীর একিউআই (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেস্ক) ৩০০ পেরিয়ে গেছে। যেখানে অনুমোদিত একিউআই ০-৫০ ভালো, ৫১-১০০ মধ্যম, ১০১-১৫০ সতর্কতা, ১৫১-২০০ অস্বাস্থ্যকর, ২০১-৩০০ খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-৫০০ অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর।

শিশুদের ওপর ধুলা দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অধ্যাপক এবং শিশু ও শিশু কিডনি বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম মাঈনউদ্দিন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আমাদের দেশে হাঁপানি মূলত একটি বংশগত রোগ। অথচ অতিমাত্রায় ধুলা দূষণের কারণে বংশে কারো না থাকা সত্ত্বেও হাঁপানিতে আক্রান্ত হচ্ছে আমাদের দেশের শিশুরা। শুধু তাই নয়, শ্বাসতন্ত্রে অ্যালার্জি তৈরির পাশাপাশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুর কিডনি। এমনকি মানসিক বিকাশকেও বাধাগ্রস্ত করছে মারাত্মক এই ধুলা দূষণ।

এদিকে, বিশ্বের ৬৭টি দেশের ৭৯২টি শহরের বাতাসের মান নিয়ে বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। যেখানে মেগাসিটিগুলোর মধ্যে দূষণের দিক দিয়ে রাজধানী ঢাকার অবস্থান তৃতীয়।

মঙ্গলবার (১ মে) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৬ সালে ঢাকায় প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ১০ মাইক্রোমিটার ব্যাসের ভাসমান বস্তুকণার (পিএম১০) বার্ষিক গড় পরিমাণ ছিল ১০৪ মাইক্রোগ্রাম।

আর প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ২.৫ মাইক্রোমিটার ব্যাসের ভাসমান বস্তুকণার (পিএম২.৫) বার্ষিক গড় পরিমাণ ছিল ৫৭ মাইক্রোগ্রাম।

ডব্লিউএইচওর আদর্শ মান অনুযায়ী, প্রতি ঘনমিটার বাতাসে পিএম১০-এর পরিমাণ ২০ মাইক্রোগ্রামের কম এবং পিএম২.৫-এর পরিমাণ ১০ মাইক্রোগ্রামের কম হলে তাকে স্বাস্থ্যসম্মত বাতাস বলা যায়।

গত ডিসেম্বরে ইউনিসেফ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দূষিত বায়ুতে শ্বাস নিলে তা সুনির্দিষ্টভাবে শিশু মস্তিষ্কের টিস্যু এবং জ্ঞানের বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে; যার বিরূপ প্রভাব বয়ে বেড়াতে হয় জীবনভর।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, জীবনের প্রথম সংকটময় ১ হাজার দিনে অপর্যাপ্ত পুষ্টি, উদ্দীপনা ও সহিংসতার মতো বায়ু দূষণও শিশুদের মস্তিষ্কের প্রারম্ভিক বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে শৈশবের বিকাশে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

বাতাসে অতিসূক্ষ্ম দূষণ কণাগুলো এতোই ছোট যে, সেগুলো রক্তপ্রবাহে ঢুকে পড়তে পারে, মস্তিষ্কে চলে যেতে পারে এবং ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ারকে নষ্ট করে দিতে পারে; যা স্নায়ু প্রদাহের সৃষ্টি করতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

শিশুস্বাস্থ্য বিভাগে ভর্তি রোগীর প্রায় ৪০ শতাংশেরও বেশি শ্বাসকষ্টজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত এমন তথ্য দিয়ে হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান এবং শিশু ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, একটি ছোট্ট শিশুর মস্তিষ্ক অত্যন্ত নাজুক, কেননা প্রাপ্তবয়স্ক একজনের মস্তিষ্কের তুলনায় খুব অল্প পরিমাণে বিষাক্ত রাসায়নিকেই এটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বায়ু দূষণের ক্ষেত্রেও শিশুরা অত্যন্ত ঝুঁকিতে থাকে। কারণ তারা অনেক দ্রুতশ্বাস নেয় এবং তাদের শারীরিক প্রতিরক্ষা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পূর্ণ বিকশিত থাকে না।

বায়ু দূষণের কারণে, অতিসূক্ষ্ম ম্যাগনেটাইটের মতো কিছু দূষণ কণা ঘ্রাণজনিত স্নায়ু এবং তন্ত্রের মাধ্যমে শিশু শরীরে প্রবেশ করতে পারে যা নিউরোডিজেনারেটিভ রোগের কারণ।

এ ছাড়া পলিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বনের মতো অন্য ধরনের দূষণ কণাগুলো মস্তিষ্কের এমন অংশের ক্ষতি করতে পারে, যেসব অংশ মস্তিষ্কের কোষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং শিশুদের শিক্ষা ও বিকাশের ভিত্তি রচনা করে।